প্রতিনিধিত্ব আইন আর বয়স ভাঁড়ানো নিয়ে সরগরম সভা, শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সিএবি'তে
Anwesha Adhikary
সিএবি নির্বাচন যে হচ্ছে না, সেটা আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। সেদিক থেকে দেখতে বৃহস্পতিবার সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভা (CAB AGM) নিরুত্তাপ আবহেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা হয়নি। বরং একটা সময় বেশ উত্তাপ ছড়ায়। সিএবির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া নিজের বক্তব্য পেশ করার সময়ই উত্তাপ ছড়ায় বার্ষিক সভায়। মাস দু'য়েক আগে সিএবির স্পেশাল জেনারেল মিটিং যে দুটো বিষয় নিয়ে সরগরম হয়েছিল, এদিনের বৈঠকেও উত্তাপ ছড়ায় মূলত তা নিয়েই। সত্তোরোর্ধ্ব এবং রাজ্য সংস্থায় ন'বছরের মেয়াদ পূর্ণ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বার্ষিক সভায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন কি না, সেটা নিয়েই যত চর্চা চলেছে। এদিনের বৈঠকে একই ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিএবির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। তখন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানান যে, বৈঠকে মোটামুটি বেশিরভাগ সদস্যই উপস্থিত রয়েছেন। অভিষেক চাইলে সবার মতামত নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতেই পারেন। সিএবিতে এতদিন পর্যন্ত যে নিয়ম মানা হয়েছে, সেটাই হবে। বৈঠক শেষে সৌরভ বলছিলেন, "সত্তরোর্ধ্বদের যেমন ভোটাধিকার থাকবে, তেমনই একই নিয়ম প্রযোজ্য নয় বছরের ক্ষেত্রেও। কেউ চাইলে আদালতে যেতেই পারেন।"
এ তো গেল প্রথম পর্ব। উত্তাপের আরও অনেক তখনও বাকি ছিল। বয়স জালিয়াতির জন্য সিএবি প্রচুর ক্রিকেটারকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। সিএবির প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ বিশ্বরূপ দে সিএবির ওই পদক্ষেপের প্রশংসা করতে থাকেন। তখন অভিষেক পাল্টা বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন একইরকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তাঁর সময়েও বেশ কিছু ক্রিকেটারকে একই কারণে শাস্তি দেওয়া হয়। পাল্টা বিশ্বরূপ বলেন, সেই সংখ্যাটা অনেক কম। বরং সিএবি বর্তমানে যা করেছে, দুর্দান্ত। বিশ্বরূপের উদ্দেশে অভিষেক তখন বলেন যে, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা যে সঠিক ছিল আজ প্রমাণিত। অথচ তাঁর প্রয়াসকে সমালোচনা করে নানা মন্তব্য করেছেন বিশ্বরূপ। এরপর তির্যক ভাবে বিশ্বরূপের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, "অবশ্য আপনি নিজেই স্বীকার করেছেন, আপনি নব্বই শতাংশ সৎ। আর দশ শতাংশ অসৎ। তা হলে আর আপনার সঙ্গে কথা বলে কী লাভ?" বৈঠক থেকে বেরিয়ে পরে এ নিয়ে বিশ্বরূপ বলেন, "আমি ওটা রূপক অর্থ ব্যবহার করেছি। দোষ-গুণ মিশিয়েই মানুষ হয়। এখন যদি সবাই একশো শতাংশ ভালো হয়, তাহলে তিনি আর সাধারণ মানুষ থাকেন না। তিনি মণীষী হবেন।"
আরও পড়ুন:
এদিনের বৈঠকে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়। ভুয়ো নথি দিয়ে বয়স ভাঁড়ানোর প্রসঙ্গে বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি বলেন, এটা নিয়ে পুলিশি সাহায্য প্রয়োজন। তিনি বলছিলেন, "আপানারা যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছেন, তার জন্য অনেক ধন্যবাদ। কিন্তু সমস্যা চিহ্নিত করা শুধু এই সমস্যার সমাধান নয়। এটা কয়েকটা রাজ্যের ব্যাপার। কেউ উত্তরপ্রদেশ, কেউ বিহার, কেউ আবার ছত্তিশগড় থেকে এসে বাংলায় খেলেছে। কেউ দক্ষিণ থেকে এসে আবার খেলেছে। তাঁদের বয়স ভাঁড়ানোর ব্যাপারটা আপনারা ধরেছেন। কিন্তু এই কাজটা করছে কারা? এই বয়স ভাঁড়ানোর কাজের সঙ্গে কারা যুক্ত রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করা দরকার। আমার তো মনে হয়, এটা ইন্টারনাল সিকিউরিটির জন্য প্লেট। এর জন্য পুলিশের সাহায্য নেওয়া উচিত।" সঙ্গে যোগ করেন, "তখন সিএবি সভাপতি বলেন, তাঁরা কী কী করেছেন। আমি বলি, আপনারা কী করেছেন, সেটা আমার বক্তব্য নয়। কিন্তু যারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে সিএবি কোনও ব্যবস্থা নিতে পারবে না। কারণ আপনারা সেখানে পৌঁছতেই পারবেন না। কয়েকটা রাজ্যর ইন্টার স্টেট সমস্যা রয়েছে। এটার সমাধান তখনই হবে যখন আমরা এমন এক এজেন্সির হাতে তদন্তভার দেব, যারা গোটা দেশজুড়ে তদন্ত করতে পারে।" রীতেশের এই বক্তব্যর সঙ্গে সভায় প্রায় সবাই সহমত পোষণ করেন। যা নিয়ে সৌরভের বক্তব্য, "সিএবির যা সিস্টেম রয়েছে, তাতে কেউ ভুয়ো নথি দিলে কিংবা বয়স ভাঁড়ালে, সেটা ধরে ফেলাই যায়। আর মিলেমিশে কাজ করাই যায়।"
কিন্তু একটা ব্যাপার এখনও থেকেই যাচ্ছে। যেহেতু কোনও নির্বাচন হয়নি, তাই আপাতত সিএবিতে কোনও সচিব কিংবা যুগ্ম সচিব নেই। অর্থাৎ দুটো গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়াই সিএবি চালাতে হবে সৌরভদের। সিএবি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, তাতে খুব একটা অসুবিধে হবে না। কিন্তু প্রশ্ন হল, কতদিন এভাবে সচিব-যুগ্ম সচিব ছাড়া একটা অ্যাসোসিয়েশন চালানো সম্ভব? এছাড়া আরও একটা ব্যাপার নিয়ে আলোচনা হয়। দু'বছর পর সিএবির একশো বছর পূর্তি। প্রস্তাব দেওয়া হয়, এর জন্য এক বিশেষ কমিটি গঠন করা হোক। সামনের বছর থেকেই শতবর্ষের উদযাপন শুরু হোক। ২০২৮-এ তার গ্র্যান্ড সেলিব্রেশন হবে। তার জন্য বিশেষ এক ম্যাচেরও আয়োজন হতে পারে।