অভ্যাসমতো সেঞ্চুরি কোহলির! শতরান গিলেরও, ক্যারিবিয়ানদের উড়িয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শুরু টিম ইন্ডিয়ার
Arpan Das
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৯৫/৭ (গ্রেভস ১০২, কুলদীপ ৪০/৪)
ভারত: ৩০২/২ (কোহলি ১৩৯*, গিল ১১০, চেজ ৬৪/১)
প্রথম ওয়ানডেতে ভারত ৮ উইকেটে জয়ী
কোহলি থাকতে চিন্তা কীসের? ওয়ানডেতে রান তাড়া করার জন্য আর কাকে লাগে! এর সঙ্গে আছেন অধিনায়ক শুভমান গিল। দু'জনের সেঞ্চুরি, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ম্যাচ পকেটে। প্রথম ওয়ানডেতে ৫০ বল হাতে থাকতে টিম ইন্ডিয়া জিতল ৮ উইকেটে। প্রথমে কুলদীপের ঘূর্ণি। তারপর ২৯৬ রান তাড়া করতে নেমে কোহলি অপরাজিত থাকলেন ১৩৯ রানে। গিল করে গেলেন ১১০ রান। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের লক্ষ্যে অন্তত একটা বিষয় নিশ্চিত। কোহলিকে ভিন্টেজ ফর্মে পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন:
এদিন টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল। তিরুঅনন্তপুরমের স্টেডিয়ামে পিচ পাটা। রান তাড়া করা সহজ। বিশেষ করে দলে যদি একজন বিরাট কোহলি থাকেন। তবে বোলিংয়ের বিজ্ঞাপন খুব একটা আশাজনক হল না। জশপ্রীত বুমরাহ, অর্শদীপ সিং এশিয়াডের জন্য জাপানে। মহম্মদ সিরাজকে কেন বসিয়ে রাখা হল জানা নেই। সেখানে গুর্নুর ব্রার ১০ ওভারে দিলেন ৬০ রান। নীতীশ কুমার রেড্ডিও বেধড়ক মার খেলেন। মন্দের ভালো প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ গোটা দু’য়েক উইকেট পেলেন। আর বলতে হয় কুলদীপ যাদবের কথা। ৪০ রান দিয়ে কুলদীপ একাই নিলেন ৪ উইকেট। একসময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ১৯ ওভারে ছিল ১৩০। মনে হচ্ছিল ৩৫০ রান অনিবার্য। কুলদীপের ম্যাজিকে সেটা আটকে গেল ২৯৫ রানে। সেঞ্চুরি করেন জাস্টিন গ্রিভস।
জবাবে চেনা ছন্দেই শুরু করেন রোহিত-গিল জুটি। হিটম্যানকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কম বিতর্ক হয়নি। ওয়ানডে বিশ্বকাপ দলে জায়গা হবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছিল। শেষ ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেছিলেন ঠিকই, তবে সেটা এসেছিল ৩ মাস আগে। রোহিত অবশ্য চেনা ছন্দেই ছিলেন। সপাটে পুল মেরে বাউন্ডারির বাইরে পাঠাচ্ছিলেন। শুরুতে গিল একটু অস্বস্তির মধ্যে ছিলেন। তাঁকে থিতু হওয়ার সময় দেন রোহিত। কিন্তু যখন গিল চার-ছক্কা হাঁকানো শুরু করলেন, তখনই ভুল করলেন রোহিত। ৩২ রানের মাথায় আচমকা ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান।
কোহলির ওয়ানডে কেরিয়ারের ৫৫তম সেঞ্চুরি এল ছক্কা মেরে। ম্যাচের খুব বেশি উত্তেজনা ছিল না। শুধু ছিল কোহলি নামক কিংবদন্তির জন্য উন্মাদনা। সেঞ্চুরি করলেন, ম্যাচ জেতালেন। বুঝিয়ে দিলেন কোহলি আছেন কোহলিতেই।
রো-কো জুটি দেখার সৌভাগ্য ভক্তদের হল না। তবে 'কিং-প্রিন্স' জুটি মাতিয়ে দিলেন। শুরুতে গিলের সহজ ক্যাচ কিমো পল ফেলে দিয়েছিলেন। ভারত অধিনায়ক তারপর আর ভুল করেননি। শেষ পর্যন্ত থামলেন ১১০ রানে। ভারতের ম্যাচ জয় কার্যত নিশ্চিত করে। ব্যাট থেকে এসেছে ১৩টা চার ও একটা ছক্কা। আলজারি জোসেফরা আর বিন্দুমাত্র সমস্যায় ফেলতে পারেননি। চার মেরে ওয়ানডে কেরিয়ারের দশম সেঞ্চুরি পূরণ করে ফেললেন। পিচ পাটা ঠিকই, তবে গিল এরকম ছন্দে থাকলে কোনও রানই অধরা থাকে না।
অন্যদিকে ছিলেন ওয়ানডে ক্রিকেটের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ 'চেজমাস্টার'। যত বড় লক্ষ্যই থাকুক না কেন, সেটা ছুঁয়ে ফেলাই কোহলির কাজ। এদিন ৮৮ বলে করলেন ১৩৯ রান। মারেন ১০টা চার, ৯টা ছয়। সিরিজ শুরুর আগে বলেছিলেন, আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য সর্বস্ব দিতে তৈরি। সেটা কোহলির ব্যাটিংয়ে বোঝা যাচ্ছিল। নাহলে ওয়ানডেতে স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৬০। ছক্কা মেরে হাফসেঞ্চুরি, চার মেরে ওয়ানডেতে ১৫০০০ রানের নজির। শচীন তেণ্ডুলকরের পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই মাইলফলকে পৌঁছলেন। তারপর অভ্যাসমতো সেঞ্চুরি। ওয়ানডে কেরিয়ারের ৫৫তম সেঞ্চুরি এল ছক্কা মেরে। ম্যাচের খুব বেশি উত্তেজনা ছিল না। শুধু ছিল কোহলি নামক কিংবদন্তির জন্য উন্মাদনা। সেঞ্চুরি করলেন, ম্যাচ জেতালেন। বুঝিয়ে দিলেন কোহলি আছেন কোহলিতেই।