'গুজরাটের সন্তান, ভারতের গর্ব', ১৭৪ প্রাণ বাঁচানো রক্তাক্ত পাইলটকে স্যালুট 'টিম ইন্ডিয়া'র
Anwesha Adhikary
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিরাট প্রাণহানি রুখেছেন। রক্তাক্ত অবস্থাতেও কর্তব্যে অবিচল থেকেছেন। সেই পাইলট স্মিত মচ্ছরকে (Captain Smit Machchhar) হিরোর সম্মান দিচ্ছে গোটা বিশ্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সকলেই স্মিতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। সুরেশ রায়না থেকে যুবরাজ সিং-স্মিতের সাহসিকতা কুর্নিশ জানাচ্ছেন প্রাক্তন ক্রিকেটাররা।
স্মিতের সাহসিকতাতেই শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেয়েছেন ১৮০জন যাত্রী। সেই সাহসী পাইলটকে স্যালুট জানিয়ে বীরেন্দ্র শেহওয়াগ লেখেন, 'ককপিটে ছুরিবিদ্ধ হয়ে লড়াই করেছেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। প্রবল বিপদের মধ্যেও অসীম সাহস দেখিয়েছেন, অন্যদের প্রাণ বাঁচাতে কর্তব্য করেছে। তাঁর জন্য গর্বিত গোটা ভারত। তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন, এই কামনা করি।' বিশ্বকাপজয়ী আরেক ক্রিকেটার সুরেশ রায়নাও লিখেছেন, 'সত্যিকারের হিরো। গুজরাটের সন্তানের সাহস আর উপস্থিত বুদ্ধির জোরেই এতগুলি প্রাণ বেঁচেছে। তাঁর সাহস, দৃঢ়তা এবং নিঃস্বার্থ মনোভাব সকলকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।'
আরও পড়ুন:
ক্যানসারজয়ী যুবরাজ সিং মারণ রোগের সঙ্গে লড়াইয়ের পর ফিরেছিলেন ক্রিকেটে। তাঁর সাহসিকতাকে স্যালুট জানায় গোটা ভারত। সেই যুবিও মুগ্ধ স্মিতের বীরত্বে। লিখেছেন, 'কয়েকটা মুহূর্তের ভিত্তিতেই বোঝা যায়, একটা মানুষ আসলে কীভাবে তৈরি হয়েছে। ক্যাপ্টন স্মিত মচ্ছর বিপদের মুখে দাঁড়িয়েও অদম্য সাহস দেখিয়েছেন, নিজের চেয়েও অন্যদের জীবনকে বেশি দাম দিয়েছেন। এই অসীম সাহসকে সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা জানানো উচিত। আশা করি তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।' সূত্রের খবর, স্মিতকে সাহসিকতার জন্য মেডেল দেওয়ার কথা ভাবছে ইজরায়েল প্রশাসন। ইতিমধ্যেই স্মিতকে 'গুজরাট গরিমা' সম্মান দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
কো-পাইলটের এমন অসৎ উদ্দেশ্য খেয়াল করে প্রতিবাদ করেন স্মিত। বচসা বাঁধতেই স্মিতকে ধারালো ছুরি দিয়ে একাধিকবার কোপ দেন অভিযুক্ত কো পাইলট। তবে রক্তাক্ত অবস্থাতেই কোনওমতে তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন। অন্যান্য় রিলিফ পাইলট এবং বিমানকর্মীরা এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। যাত্রীরা বোঝেন, স্মিতের সাহসিকতাতেই রক্ষা পেয়েছে তাঁদের প্রাণ। তাই রক্তাক্ত স্মিতকে তাঁরা বলেছেন, “আপনিই আমাদের প্লেনকে বাঁচিয়েছেন।” তবে স্মিত আপাতত গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।