কাম্বলির ঠিকানা এখন বৃদ্ধাশ্রম, করজোড়ে কাতর আর্তি! সুপারস্টারের হাল দেখে চোখে জল আসবে
এখন কথা বলতেও হাঁপ ধরছে কাম্বলির।
Arpan Das
07:07 PM Sep 26, 2026 IST
-
-
গতবছর থেকেই শরীর অসুস্থ কাম্বলির। একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাঁটতে পর্যন্ত সমস্যা হয়েছে। শচীন-সহ অনেক ক্রিকেটার তাঁর সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন। তবে সম্প্রতি যে ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগের। মহারাষ্ট্রের থানের একটি বৃদ্ধাশ্রমে তিনি ভর্তি বলে জানা গিয়েছে। সেখান থেকে কাম্বলি বক্তব্য রাখেন।
-
আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, "আমি বিনোদ কাম্বলি। আমি সবার থেকে অনেক ভালোবাসা পাচ্ছি। এখানে যাঁরা আছেন, তাঁরা বুঝতে দিচ্ছেন না যে, আমি বাড়িতে নেই। এখানকার নিয়মকানুন ও পরিচ্ছন্নতা একেবারে প্রথম শ্রেণির। আমি নিদানে (বৃদ্ধাশ্রমের নাম) সত্যিই অনেক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি। আমি এখন কোথায়? নিদানেই রয়েছি।’’ কথা বলার সময় তাঁর খুব কষ্ট হচ্ছিল। অবশ্য হঠাৎ কেন তাঁকে বৃদ্ধাশ্রমে ভর্তি করা হয়েছে, তা জানা যায়নি।
-
কাম্বলিকে এই অবস্থায় দেখে অনেকের মনখারাপ। তা সত্ত্বেও কাম্বলির যে ভালো চিকিৎসা হচ্ছে, এটা ভেবেও অনেকে খুশি। ২০২৪-এ জানা যায়, ৫৪ বছর বয়সি প্রাক্তন ক্রিকেটারের মস্তিষ্কে রক্ত জমাট রয়েছে। ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি ছিল। প্রায়ই স্মৃতিশক্তি হারাচ্ছিল। তাছাড়া প্রস্রাবে সংক্রমণ ছিল। এর আগে ২০১৩ সালে দু’বার অস্ত্রোপচার হয় কাম্বলির। তখন চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করেছিলেন শচীন তেণ্ডুলকর। এবারও তাই। মাঝে কাম্বলি অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন।
-
আসলে কাম্বলি মানেই অনেকের কাছে টাইমমেশিনে চড়ে পিছিয়ে যাওয়া। এককালে টাকার পরোয়া করেননি। সব কিছু ঠিকঠাক চললে এভাবে অভাবে থাকতে হত না তাঁকে। সেই তিনিই এখন ‘গরিব থেকে ফকির’-এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। শুনলে অবাক লাগবে, অর্থ খরচের প্রতি বেলাগাম ছিলেন কাম্বলি। মাঠের বাইরে ডিস্কোর নৈশ জীবন এবং হইহুল্লোড়ের ভিতরে শরীরটার ক্ষতি হতে থেকেছে। নষ্ট হয়েছে ফিটনেস ও ফোকাস। অধিনায়কের সঙ্গে ঝামেলাতেও জড়ান।
-
প্রতিভা ছিল। কিন্তু চাপ সামলাতে পারেননি। তার উপর চোট-আঘাত ও ক্রিকেট টেকনিকের দুর্বলতাও প্রকাশ্যে আসে। সেই একাগ্রতা ও মানসিক দৃঢ়তা ছিল না যে কামব্যাক করবেন। সারা জীবনে জড়িয়েছেন অজস্র আইনি ঝামেলায়। নিজেরই আবাসনে গুন্ডামি, মদ খেয়ে গাড়ি চালানো এমনকী পরিচারিকাকে নিগ্রহের অভিযোগ পর্যন্ত উঠেছে। ২০২২ সালে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে গ্রেপ্তারও হতে হয়েছিল। বিয়ে টেকেনি। দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।
-
ততদিনে তাঁর আর্থিক দুরবস্থার কথা সর্বজনবিদিত হয়ে গিয়েছে। ক্রিকেট তাঁকে দুহাত ভরে দিয়েছিল। তিনি ধরে রাখতে পারেননি। কেরিয়ারের ১৭টি টেস্টে ৫৪.২ গড় কাম্বলির। হ্যাঁ, শচীনের থেকেও বেশি! কিন্তু প্রথম ইনিংসে যেখানে তাঁর গড় ৬৯.১৩, সেখানে দ্বিতীয় ইনিংসে তা মাত্র ৯.৪! ফারাক ৫৯.৭৩-এর। এই পরিসংখ্যানই বুঝিয়ে দেয় ধারাবাহিকতার অবস্থাটা।
-
দেশের হয়ে ১০৪টি ওয়ানডে খেলেছেন তিনি। কেরিয়ারের শুরুতে অনেক মাইলফলকই অর্জন করেছিলেন। পরপর দু’টি দ্বিশতরানের রেকর্ডও তাঁর নামে। কিন্তু অচিরেই হারিয়ে গিয়েছেন ক্রিকেট থেকে। আসলে খ্যাতি গিলে ফেলেছিল কাম্বলিকে। নিজের প্রতিভা ও সেই প্রতিভার প্রাপ্তি কাম্বলি হজম করতে পারেননি। দারিদ্র দেখেছিলেন শৈশবে। বড় হয়ে স্বাচ্ছন্দ্য পেয়ে হয়তো ফোকাস নড়ে গিয়েছিল। আর এখন তাঁর ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রম।
Advertisement
Advertisement