সায়াহ্নে সূর্যোদয়! 'কেরিয়ারের এই পর্যায়ে...', দেশের প্রতি ভালোবাসায় আজও নতুন অনুভূতি বিরাটের
Anwesha Adhikary
বিরাট কোহলি (Virat Kohli) এখন আর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেন না। টেস্ট ছেড়ে দিয়েছেন। শুধু একটাই ফরম্যাট খেলে যাচ্ছেন। ওয়ানডে। দিনকয়েক আগে আরও একটা ঘোষণা করে দিয়েছেন। সামনের বছর বিশ্বকাপই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। ওই বিশ্বকাপে দেশকে জেতানোর অদম্য খিদে নিয়ে তিনি নামতে চান। ফাইনালে রান করে দেশকে বিশ্বকাপ জেতাতে চান!
প্রায় দু'দশকের কাছাকাছি সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন। একাধিক রেকর্ডের অধীশ্বর। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছেন। ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতা হয়ে গিয়েছে। চাইলে সব কিছু ছেড়েছুড়ে চলে যেতে পারতেন। কিন্তু ওই যে দেশের প্রতি ভালোবাসা। দেশকে জেতানোর উগ্র খিদে। যা আজও এতটুকু কমেনি। তাই একদিনের ক্রিকেটে পনেরো হাজার রানের মাইলফলক ছুঁতে পারেন। শুভমান গিলদের মতো তরুণ তারকাকে অফুরান প্রাণশক্তি জুগিয়ে উদ্দীপ্ত করতে পারেন।
আরও পড়ুন:
রবিবার গ্রিনফিল্ড স্টেডিয়ামে বিরাট আর শুভমান দু'জনেই সেঞ্চুরি করেছেন। বিরাটকে দেখে একটা সময় শুভমানের বড় হয়ে ওঠা। সেই বিরাটের পনেরো হাজার রানের মাইলস্টোন ছোঁয়ার দিন তিনি যে ক্রিজের উল্টোদিকে থাকবেন, সেটা হয়তো ভাবতে পারেননি। বিরাট নিয়ে একরাশ মুগ্ধতার কথা শোনাচ্ছিলেন শুভমান। বলছিলেন, "দুর্ধর্ষ ব্যাটিং করছে। আমার মনে হয় বিরাট ভাই এখন খেলাটা আরও বেশি উপভোগ করছে। আরও বেশি স্বাধীনভাবে খেলছে। সেটা ওর ব্যাটিংয়ে আরও প্রভাব ফেলেছে। বিরাট ভাই জানে, কোন পরিস্থিতিতে কী করতে হয়। ছয় মারার ক্ষেত্রে খুব সাবলীল। সেটা আরও একবার দেখা গেল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে কোহলি ৭৪ বলে সেঞ্চুরি করেছেন। যা তাঁর কেরিয়ারের তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। ইনিংসে ছক্কা হাঁকিয়েছেন মোট ন'টা।
বিরাটের কথায়, "কেরিয়ারের এই পর্যায়ে এসে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করাটা আমার কাছে দারুণ অনুভূতির। এখন অনেক খোলা মনে ব্যাটিং করছি। আমি একইভাবে আগামী দিনেও খেলে যাব। তবে সেটা কখনও বেপরোয়াভাবে নয়। আগ্রাসী আর বেপরোয়া ব্যাটিংয়ের মধ্যে একটা পার্থক্য রয়েছে। একজন পেশাদার আর অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসাবে সেই ভারসাম্যটা আমার বোঝা উচিত। ইতিবাচক খেলব, কিন্তু এমন কোনও বেহিসেবি শট খেলব না, যাতে দল বিপদে পড়ে যায়।" এত রেকর্ড। এত গ্ল্যামার। এত সব কিছুর মাঝেও কোহলি নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি। বলছিলেন, "আমরা অনেক সময় ভুলে যাই, কোথা থেকে শুরু করেছিলাম। এত খ্যাতি, এত মানুষের নজর এসবের মধ্যে নিজের শিকড় ভুলে যাওয়া খুব সহজ। কিন্তু সেটা আমি কখনও ভুলিনি।"