'ভারতের হয়ে হয়তো খেলতামই না', ১৫ হাজার রান পেরিয়েও 'নির্বিকার' কোহলি
Prasenjit Dutta
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে দেখা গিয়েছে 'ভিন্টেজ' বিরাট কোহলিকে (Virat Kohli)। দুরন্ত সেঞ্চুরিতে দলকে জেতানোর পরেও অবশ্য ব্যক্তিগত কীর্তি নিয়ে বিশেষ ভাবিত নন ভারতের তারকা ব্যাটার। বরং তাঁর কথায় বারবার ফিরে এসেছে দেশের হয়ে খেলার কথা। এরজন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি তিনি। পাশাপাশি তরুণ ক্রিকেটারদেরও দিয়েছেন মূল্যবান পরামর্শ।
ম্যাচের পর কোহলিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, জীবনের এই পর্যায়ে এসে কী মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামেন তিনি? বিরাটের উত্তর, "আমি শুধু কৃতজ্ঞ এবং খুশি। আমাদের বারবার মনে করা উচিত, আমরা কোথা থেকে উঠে এসেছি। যে খ্যাতি এবং সমর্থকদের ভালোবাসা পাই, তার মধ্যে অনেক সময় নিজেদের উত্থানের গল্পটাই ভুলে যাই। কোথা থেকে এসেছি, সেটা ভুলে যাওয়া খুব সহজ।" ভারতের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়াকেই জীবনের বড় প্রাপ্তি মনে করেন কোহলি। তাঁর কথায়, "হয়তো ভারতের হয়ে কোনও দিন খেলতেই পারতাম না। কিন্তু দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছি। এত অবিশ্বাস্য মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরেছি। এত মানুষের সামনে দলের হয়ে অবদান রাখতে পারছি। ছোটবেলায় যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেটাই তো বাস্তব হয়েছে। তাই মন থেকে কৃতজ্ঞ থাকা ছাড়া আর কিছু বলার নেই।"
আরও পড়ুন:
ওয়ানডে ক্রিকেটে তিনি কতটা ধারাবাহিক, তা আবারও দেখিয়ে দিয়েছেন কোহলি। গত ১১টি ম্যাচে চারটি সেঞ্চুরি, পাঁচটি হাফসেঞ্চুরি করেছেন তিনি। কীভাবে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখছেন? কোহলি জানালেন, তাঁর কাছে আসল লড়াইটা মানসিক। "প্রথমে খেলাটাকে বোঝার চেষ্টা করি। নিজেকে ফিট রাখি। কারণ আসল খেলাটা হয় মনের মধ্যে। আমি কখনও খুব বেশি অনুশীলন করি না। তিন ফরম্যাটে খেলার সময়ও এই বিষয়টি মেনে চলেছি। মানসিক ভাবে তরতাজা থাকাটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ," বলেছেন বিরাট।
এখন কেবল ওয়ানডে খেলছেন কোহলি। তাঁর লক্ষ্য, আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিজেকে তৈরি রাখা। কোহলির সংযোজন, "প্রতিটা দিন উপভোগ করতে চাই। এখনও এই ফরম্যাটে আমার কিছুটা ক্রিকেট বাকি রয়েছে। সুযোগ এলে চাপ হিসাবে না দেখে সেটাকে ভালো ভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। নিজেকে নিজের মতো করে প্রকাশ করতে চাই।" দলের প্রয়োজনে ব্যক্তিগত আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণ করাও যে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের দায়িত্ব, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন কোহলি। তাঁর কথায়, "নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছি, ইতিবাচক ক্রিকেট খেলব, কিন্তু বেপরোয়া হব না। পেশাদার এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন শট না খেলে দলকে জেতানোই আমার প্রধান কাজ।"
এই ওয়ানডেতেই ১৫ হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়েছেন কোহলি। শচীন তেণ্ডুলকরের থেকে ৭২টি ম্যাচ কম খেলেই এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। তবে মাইলফলক নিয়ে তাঁর কোনও বাড়তি উচ্ছ্বাস নেই। কোহলির সাফ কথা, "আমি কখনও মাইলফলক মাথায় রেখে খেলি না। পরিস্থিতি বুঝে দলকে সাহায্য করাই আমার দায়িত্ব। তার ফলেই কিছু কিছু ব্যক্তিগত অর্জন আসে। এত দিন ধরে খেলতে পারার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। কঠোর পরিশ্রম করি এবং যা পেয়েছি, তার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই।" তরুণদের জন্যও বিরাটের পরামর্শ, "ওদের বলব, মাঠের বাইরের বিষয়গুলিতে বেশি কান দিও না। মাঠে ঢোকার পরে ক্রিকেটটাই যেন তোমার সব কিছু হয়ে ওঠে। দলের জন্য নিজের সর্বস্ব দিতে হবে। দলের প্রয়োজন হলে ব্যক্তিগত মাইলফলকের সময়ও বাড়তি রান নেওয়ার জন্য দৌড়তে হবে। কোনও অজুহাত চলবে না।"
শেষে অধিনায়ক শুভমান গিলের প্রশংসাতেও পঞ্চমুখ বিরাট। তাঁর মতে, যোগ্য অধিনায়ক গিল। কোহলির কথায়, "দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার যথেষ্ট কারণ ওর রয়েছে। ওর দৃষ্টিভঙ্গি খুব পরিষ্কার। একটা ম্যাচকে বিভিন্ন দিক থেকে দেখার ক্ষমতা রয়েছে। এমন একজনের সঙ্গে খেললে বড় জুটি গড়া সহজ হয়, কারণ সে জানে ঠিক কী করতে হবে।" শুধু অধিনায়ক হিসাবেই নয়, ব্যাটার শুভমানকেও আলাদা উচ্চতায় রেখেছেন কোহলি। "শুভমান এখন ওয়ানডে ক্রিকেটে বিশ্বের সেরা ব্যাটারদের একজন। ওকে নিয়ে আলাদা করে আর কী বলব!" মন্তব্য কোহলির। উল্লেখ্য, ২৯৬ রান তাড়া করতে নেমে কোহলি অপরাজিত থাকেন ১৩৯ রানে। অধিনায়ক গিল করে গেলেন ১১০ রান।