'আমার কোনও মূল্যই নেই', ছেলেকে পরামর্শ দেওয়া নিয়ে কেন এমন বললেন শেহওয়াগ?
Prasenjit Dutta
বাপ কা বেটা, সিপাহি কা ঘোড়া, কুছ নহি তো থোড়া থোড়া। প্রবাদটির সঙ্গে কে না পরিচিত! সম্প্রতি চর্চায় রয়েছেন বীরেন্দ্র শেহওয়াগের (Virender Sehwag) পুত্র আর্যবীর। একটা সময় বাবা দেশকে জিতিয়েছেন। একটা সময় তাঁর 'ভয়ে' জড়সড় থাকতেন বিপক্ষ বোলাররা। এ হেন শেহওয়াগের উত্তরসূরিকে নিয়েও আলোচনা চলছে। যাঁর অভিষেক হয়ে গিয়েছে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জার্সি গায়ে। বাড়িতে থাকলে ছেলেকে কী পরামর্শ দেন? এক সাক্ষাৎকারে ফাঁস করেছেন খাস বীরুই।
অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে নজর কেড়েছেন আর্যবীর। তিন ম্যাচে কোনও হাফসেঞ্চুরি না পেলেও ভারতকে ভালো শুরু দিয়েছেন। তিন ম্যাচে তাঁর রান যথাক্রমে ২৮, ৪৭, ৩৪। উনিশ বছর বয়সি ব্যাটারের মধ্যে অনেকেই তাঁর বাবার ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। কভার ড্রাইভ, স্কোয়্যার ড্রাইভ কিংবা বড় শট– সবেতেই যেন শেহওয়াগের ছাপ। তবে তুলনা যতই হোক না কেন, দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স দিয়েই ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। শেহওয়াগ বলছেন, "ঘরে তো আমার কোনও মূল্যই নেই। ও সব সময় বলে কোচ এটা বলেছে, সেটা বলেছে। কেবল কোচ নয়। ফিজিও বা ট্রেনারের কথাও বলে। আমি কেবল বলি, ওদের কাজই পরামর্শ দেওয়া। ১০ জন তোমাকে উপদেশ দেবে। কিন্তু এর মধ্যে থেকেও বুঝে নিতে হবে সঠিক পরামর্শ কোনটা। এসবই ওকে বোঝাতে চেষ্টা করি।"
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন, "ওর টেকনিক নিয়ে বেশি কথা বলি না। কেবল বলি কীভাবে শুরু করতে হবে। মানসিকতাই তোমাকে পাঁচজনের একজন করে তুলবে। কারণ দক্ষতা তো সকলের থাকে। তাই, আমরা বেশিরভাগ সময় এই বিষয় নিয়েই কথা বলি।" তবে কেবল পরামর্শই দেন না। ছেলের কাছ থেকে পরামর্শ শুনতেও হয় তাঁকে। বিনো দুনিয়ায় পা রাখছেন বীরু। ‘নজফগড়ের নবাব’-কে অ্যামাজনের ‘রাইজ অ্যান্ড ফল’-এর দ্বিতীয় সিজনে সঞ্চালকের ভূমিকায় দেখা যাবে।
এমন খবর পেয়ে ছেলে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন? শেহওয়াগের জবাব, "ও তো অবাক হয়ে বলছিল, 'বাবা তুমি সঞ্চালনা করবে? এটা কেন করছ? এই কাজ করার দরকার নেই'। এরপর ওর সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। ওকে বলেছি, 'এটা আমার কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ। এটা একটা সুযোগ। দেখা যাক।" উল্লেখ্য, আর্যবীর প্রথম শিরোনামে আসেন বছর দুই আগে কোচবিহার ট্রফিতে। সেসময় ১৭ বছরের ব্যাটার দিল্লির হয়ে মেঘালয়ের বিরুদ্ধে ২৯৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেছিলেন। তারপর থেকে লাগাতার পেশাদার ক্রিকেট খেলছেন। এবার দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে নজর কেড়ে সরাসরি সুযোগ পান অনূর্ধ্ব-১৯ দলে।