কোচিং কিংবা ক্লাব প্রশাসনে নয়, অবসরের পর এই কাজটি করতে চান সুনীল ছেত্রী

01:42 PM Jun 04, 2022 |
Advertisement

দুলাল দে: কারও ধারণা, অবসর নেওয়ার পর তিনি কোচ হবেন। কারও ধারণা ফুটবল ছাড়ার পর ক্লাব প্রশাসনে যোগ দেবেন সুনীল ছেত্রী। অন্তত ভারত অধিনায়কের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মানুষরাও সেটাই মনে করেন। কিন্তু তিনি, সুনীল ছেত্রী (Sunil Chhetri) কী ভাবছেন জানেন?
এদিন রাজারহাটের ভারতীয় টিম হোটেলে বসে সুনীল ছেত্রী বললেন, “প্রথমত এখনই খেলা ছাড়ার কথা ভাবছি না। রীতিমতো উপভোগ করছি। তবে যেদিন সত্যিই ছাড়ব, ইচ্ছে রয়েছে জঙ্গলে একটা বাড়ি তৈরি করে সেখানেই থেকে যাওয়ার। চেষ্টা করব মোবাইল ব্যবহার না করতে। আর সারাদিন বই পড়তে। তারপর যখন অন্য কিছু করতে ইচ্ছে করবে, তখন সেটা ভেবে দেখব।”

Advertisement

googletag.cmd.push(function() { googletag.display('div-gpt-ad-1652782001027-0'); });

এশিয়ান কাপের কোয়ালিফাইং রাউন্ডের ম্যাচ খেলার জন্য জাতীয় দলের সঙ্গে এই মুহূর্তে কলকাতায়। দেখতে দেখতে জাতীয় দলের হয়ে ১৭ বছর খেলা হয়ে গেল সুনীলের। যা পূর্ণ হবে ১২ জুন। জাতীয় দলের হয়ে এই দীর্ঘ সময়ের পিছন দিকে তাকালে সুনীলের মনে হয়েছে, সেদিন মোহনবাগান ছেড়ে জেসিটি যাওয়ার সিদ্ধান্তটাই তাঁর ফুটবল কেরিয়ার বদলে দিয়েছে। এদিনও বারবার করে বলছিলেন, “বব হাউটন আর সুখবিন্দর সিং আমার জীবনকে বদলে দিয়েছেন। ববের সঙ্গে এখনও কথা হয় আমার। বব বুঝিয়েছেন, একজন স্ট্রাইকার মাঠের মধ্যে যতই স্কিল দেখাক না কেন, সবার আগে তাঁকে গোল করে ম্যাচ জেতাতে হবে।”

[আরও পড়ুন: পুকুরে মুন্ডু, দেহ ধানখেতে! যুবতীর রহস্যমৃত্যুতে তীব্র চাঞ্চল্য বাসন্তীতে]

এখন বয়স ৩৭। এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করলেও তা হবে ২০২৪-এ। সুনীল ছেত্রী কি ততদিন খেলবেন? সুনীল বললেন, “আমি তখন ফুটবলার হিসেবে দলে থাকব কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হল ভারতীয় দলের এশিয়ান কাপে খেলা। আর কোয়ালিফাইং রাউন্ড চ্যাম্পিন হওয়াটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।”

Advertising
Advertising

googletag.cmd.push(function() { googletag.display('div-gpt-ad-1652782050143-0'); });

গ্রুপে রয়েছে কাম্বোডিয়া, আফগানিস্তান এবং হংকং। এদের মধ্যে কোন ম্যাচটা ভারতীয় দলের জন্য সবচেয়ে কঠিন জিজ্ঞাসা করা হলে সুনীল ছেত্রী বললেন, “প্রথম ম্যাচ হওয়ার জন্য কাম্বোডিয়া। এই ম্যাচটা জেতা-হারার উপরে নির্ভর করছে গ্রুপের পরের ম্যাচগুলি আমাদের জন্য কেমন হবে।” বিজয়ন থাকতে থাকতে যেরকম বাইচুং উঠে এসেছেন, বাইচুং থাকতে থাকতে সেরকম উঠে এসেছেন সুনীল ছেত্রী। কিন্তু সুনীল থাকতে থাকতে পরের নামটা কী? সুনীল বললেন, “কেন জেজের নামটাও বলুন। প্রথম তিন বছরে সব মিলিয়ে আমার থেকে বেশি গোল করেছে। অসাধারণ ফুটবলার ছিল। বলতে পারেন, আমি জেজের ফ্যান। আন্তর্জাতিক ম্যাচে শারীরিকভাবে আমাদের থেকে এগিয়ে থাকা দলের ফুটবলারদের বিরুদ্ধে মারাত্মক আত্মবিশ্বাস নিয়ে বক্সের উপর বল রিসিভ করত। এখন রহিম আলিকেও বেশ ভাল লাগে।”

[আরও পড়ুন: পণ্ডিতদের কাশ্মীর ত্যাগের দায় নিতে নারাজ মোদি সরকার, ‘শরণার্থী শিবির’ই ভরসা নিপীড়িতদের]

কিছুদিন আগেই জাতীয় কোচ ইগর স্টিমাচ বলেছিলেন, “আইএসএল আর জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলার পরিস্থিতিটা ভিন্ন। আইএসএলে ফুটবলাররা যেরকম নিশ্চিন্তে খেলতে পারে, জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সেটা সম্ভব নয়। আর আইএসএলে অতিরিক্ত অর্থ পেয়ে ফুটবলাররা অলস হয়ে পড়ছেন। এই প্রসঙ্গে ভারত অধিনায়ক হেসে মজা করে বললেন, “আমি খুব বেশি টাকা পাই না। তাই ওঁর কথা হয়তো আমার জন্য প্রযোজ্য নয়। তবে কোচ হয়তো বলতে চেয়েছেন, আইএসএলে আমাদের যা খেলার মান, তার থেকে জর্ডন, কাতার, বাহরিন অনেক গতিতে ফুটবল খেলে। ফলে আইএসএল খেলে গিয়ে আমরা সেই গতির সঙ্গে মেলাতে পারি না। বেশ কয়েক বছর পর পর এশিয়ান কাপ খেললে হবে না। নিয়মিত খেলতে হবে। যখন আমাদের এশিয়ান কাপ খেলার সংখ্যাটা এক-দুই থেকে সাত-আট-নয় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, তখন জাতীয় দলের মান এমনিতেই অনেকটা এগিয়ে যাবে।”

এর আগে মাঠে এসে জাতীয় দলকে সমর্থন করার জন্য সমর্থকদের প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আহ্বান জানিয়েছিলেন সুনীল ছেত্রী। এবারও সেরকম কিছু পোস্ট করবেন কি না জানতে চাইলে সুনীল বললেন, “কলকাতার দর্শকরা এমনিতেই এসে মাঠ ভরায়। এখানে আলাদা করে সমর্থকদের মাঠে আসার জন্য বলতে হয় না। কিছুদিন আগে গরমের মধ্যে দেখলাম, মোহনবাগানের ৩৮ হাজার ফ্যান মাঠে বসে আছে।” কিন্তু যে মুহূর্তে শুনলেন, ভারত-কাম্বোডিয়া ম্যাচে মাত্র ১৫ হাজার দর্শক মাঠে ঢুকতে পারবেন, সেই মুহূর্তে কিছুটা হতাশ হয়ে গেলেন ভারত অধিনায়ক। বললেন, “তাহলে গ্রুপের কোনও দলই হোম অ্যাডভান্টেজ পাবে না। আমরা যখন বেঙ্গালুরুর হয়ে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলতে এসেছি, দর্শকদের জন্য চূড়ান্ত চাপের মধ্যে পড়তে হয়েছে। যুবভারতীর মতো বড় স্টেডিয়ামে ১৫ হাজার দর্শকে সেই চাপ সম্ভব নয়। ফলে গ্রুপের সব দলই একই সুবিধে পাবে।। আমাদের জন্য কোনও হোম অ্যাডভান্টেজ থাকবে না।”

ম্যাচ প্র‌্যাকটিস ছাড়া দৈনন্দিন জীবনে সুনীলের অভ্যাস হল বই পড়া। ভোর ৬টায় ঘুম থেকে উঠে যোগাসন। তারপর নিয়ম করে বইয়ের অন্তত ২০ পাতা পড়া। যদি ভোরে না হয়, তাহলে দিনের অন্য সময়। কিন্তু জামাইষষ্ঠীর কী হবে? বিশেষ করে তিনি যখন কলকাতাতেই আছেন? সুনীল জানালেন, এবারেও জামাইষষ্ঠীতে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছেন। তবে খেলার জন্য সেটা ১৫ জুনের পর। বললেন,“গতবারেও নির্দিষ্ট দিনে যেতে পারিনি। পরে গিয়েছিলাম। এবারও সেরকমই যাব।” আপনি যেরকম ভেগান ডায়েট ফলো করেন, জামাইষষ্ঠীর দিন সেই ডায়েট কি পরিবর্তন হয়? ভারত অধিনায়ক মজা করে হেসে বললেন, “এটাকে আমি চিট ডে হিসেবে ধরি। তবে সোনমের মা’ আমার মতো করেই রান্না করেন। কিন্তু কী আর করা যাবে। একটা দিন ম্যানেজ করে নিতে হয়।”

Advertisement
Next