'আমার শান্তি-আরাম সব নষ্ট করে দিয়েছে', বিশ্বকাপের খ্যাতি থেকে এখন মুক্তি চাইছেন ভোজিনহা
Anwesha Adhikary
বিশ্বকাপকে বল দখলের লড়াই থেকে রূপকথায় পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। ৪০ বছর বয়সে তাঁর অনবদ্য লড়াই গোটা বিশ্বকে মুগ্ধ করেছিল। রাতারাতি নায়ক হয়ে গিয়েছিলেন কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা (Vozinha)। কিন্তু সেই খ্যাতির বিড়ম্বনা আর সইতে পারছেন না তিনি। এখন তিনি চাইছেন আগের জীবনে ফিরে যেতে যেখানে খ্যাতি-ক্যামেরার ঝলকানি কিছুই নেই।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের যাবতীয় আক্রমণ একাহাতে প্রতিরোধ করে নায়ক হয়ে উঠেছিলেন ‘পুঁচকে’ কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা। ২৮টি শট আটকেছিলেন। ওই একটা ম্যাচেই অখ্যাত গোলকিপার থেকে তারকা হয়ে ওঠেন পেশায় বাসচালক ভোজিনহা। প্রথমবার বিশ্বকাপে নেমেই কেপ ভার্দে যে নকআউট পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল, তার নেপথ্যে ভোজিনহার অবদান অনস্বীকার্য। মেগা টুর্নামেন্টে ৪ ম্যাচে ৮টা সেভ করেছেন। এমনকী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকেও আটকে দিয়েছিলেন। ৪০ বছর বয়সি গোলকিপার বহু মানুষের কাছে এখন অনুপ্রেরণা।
আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটা খেলার পর থেকে ফুটবল তারকাদের তালিকায় জায়গা করে নেয় ভোজিনহার নাম। এক রাতে ৫০ হাজার থেকে ৫০ লাখে পৌঁছে যায় তাঁর ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা। আপাতত প্রায় তিন কোটি ফলোয়ার রয়েছে তাঁর। বিশ্বকাপ শেষে আপাত চিলির ক্লাবে খেলছেন ভোজিনহা। কিন্তু কেপ ভার্দেতে তাঁর বাড়ির আশেপাশে ভিড় জমাচ্ছে ভক্তরা। সারাক্ষণ তাঁকেও খানিকটা ভক্তদের নজরদারিতে থাকতে হচ্ছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর আক্ষেপ, নিজেকে একেবারে শক্তিহীন বলে মনে হচ্ছে।
ভোজিনহার কথায়, "আমার শান্তি-মানসিক আরাম সব হারিয়েছে। ব্যক্তিগত বলে আর কিছুই নেই আমার। মনে হয় আমার আর কোনও শক্তিই নেই। বহু লোকে তো বিখ্যাত হতে চায়। কিন্তু তারা খ্যাতির ইতিবাচক দিকটাই কেবল দেখে।" কেপ ভার্দের গোলকিপার বলছেন, "আজ যদি কেউ আমাকে সুযোগ দেয় বিশ্বকাপের আগের জীবনে ফিরে যাওয়ার, তাহলে আমি অবশ্যই আমার আগের জীবন বেছে নেব।" ভোজিনহা চাইছেন, ভক্তদের 'উৎপাত' ছাড়াই রেস্তরাঁয় একটু খেতে, একটু ঘুরতে-ফিরতে। কিন্তু খ্যাতির বিড়ম্বনায় সেই স্বাধীনতা হারিয়েছে ভোজিনহার।