পাঞ্জাবের কাছে হেরে গ্রুপ শীর্ষে থাকা হল না ইস্টবেঙ্গলের, শিল্ড সেমিফাইনালে কি ডার্বি?
Prasenjit Dutta
পাঞ্জাব: ১ (অলিভিয়েরা)
ইস্টবেঙ্গল: ০
কাস্টমসকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে শিল্ড শুরু করেছিল পাঞ্জাব এফসি। ইস্টবেঙ্গলও (East Bengal) ক্যালকাটা কাস্টমসের বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে জয় পেয়েছিল। ফলে দুই দলই শেষ চারে উঠে গিয়েছিল আগেই। গ্রুপ শীর্ষে থাকতে হলে পাঞ্জাবকে হারাতে হত লাল-হলুদকে। সে গুড়ে বালি! পাঞ্জাবের (Punjab FC) কাছে ০-১ হেরে গ্রুপ শীর্ষে থাকা হল না মশাল বাহিনীর। প্রশ্ন হল, সেমিফাইনালে কি আবারও ডার্বি-যুদ্ধ?
আরও পড়ুন:
এমন একটা ম্যাচে দুই বিদেশি ক্রিস ইকনোমিডিস ও দিয়েগো জিভুলিচকে প্রথম দলে রেখেছিলেন কোচ লোপেস হাবাস। বেঞ্চে ছিলেন আরও দুই বিদেশি দানি রামিরেজ ও মহম্মদ রশিদ। বিপিন সিং, পিভি বিষ্ণুরাও ছিলেন। এমন একটা শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। ৪ মিনিটেই ইকনোমিডিসের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ১১ মিনিটে নিজের পুরনো ক্লাবের গোলমুখ লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন মেসি বাউলি। যা গোলে থাকেনি। ১৮ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত পাঞ্জাব। বিশু শর্মার শট সাইড নেটে লাগে। ২১ মিনিটে ইকনোমিডিসের ক্রস থেকে রোহিত দানুর হেড লক্ষ্যে ছিল না।
তবে আক্রমণের আধিক্য ছিল পাঞ্জাবের। প্রথমার্ধে বল দখলও বেশি ছিল তাদেরই। ৩০ মিনিটে আলফ্রেড ময়ার চেষ্টাকে দ্রুত এগিয়ে এসে ব্যর্থ করে দেন গোলকিপার ফুরবা লাচেনপা। ৩৭ মিনিটে মেসির ফ্রিকিক নিষ্ফলা। তবে ৪১ মিনিটে এগিয়ে যায় পাঞ্জাব। বল ঠিকমতো বিপদমুক্ত করতে পারেননি লালচেংনুঙ্গা। সেই বল সরাসরি চলে যায় মেসির কাছে। ডানদিক থেকে তিনি ক্রস রাখেন। জোরালো শটে গোল করেন দিয়েগো রাপোসো। ৪৪ মিনিটে দারুণ জায়গা থেকে ফ্রিকিকের সুবিধা নিতে পারলেন না ইকনোমিডিস। প্রথমার্ধ শেষ হয় পাঞ্জাবের পক্ষে ১-০ অবস্থায়।
৫৩ মিনিটে প্রথম পরিবর্তন করল ইস্টবেঙ্গল। রোহিত দানুকে তুলে পিভি বিষ্ণুকে নামালেন হাবাস। ম্যাচে ফিরতে 'ফ্রেশ লেগ' কাজে লাগানোর চেষ্টা ছিল লাল-হলুদ কোচের। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হল না। ৬০ মিনিটে ফের আক্রমণে উঠল পাঞ্জাব। ফের সুযোগ তৈরি করলেন মেসি বউলি। এর পরেই দুই দলই জোড়া পরিবর্তন করে। পাঞ্জাবের হয়ে মাঠে নামলেন মহম্মদ সুহেল ও বিশাল যাদব, ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে নামলেন জিকসন সিং ও বিপিন সিং। ৮৩ মিনিটে মেসি বউলি ও সুহেলের বোঝাপড়ায় ফের ইস্টবেঙ্গল রক্ষণে চাপ তৈরি হয়। গোলের কাছাকাছি পৌঁছেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি পাঞ্জাব।
শেষ ১০ মিনিটে আরও জমে ওঠে ম্যাচ। ৯০ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে বাঁক খাওয়ানো দুর্দান্ত শট নেন বিপিন সিং। গোলের দিকেই ছিল শট। বিপদ সামলান পাঞ্জাবের গোলকিপার অর্শদীপ সিং। ৯০ ২ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন পাঞ্জাবের নিখিল প্রভু। রেনিয়ার ফার্নান্দেজকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। ফলে শেষ মুহূর্তে ১০ জনের পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে সমতা ফেরানোর সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল। ৯০ ৪ মিনিটে বিষ্ণুর ক্রস থেকে জোরালো হেড করেন বিলাল। কিন্তু ফের অর্শদীপের দুর্দান্ত সেভ। শেষ পর্যন্ত ১০ জনের পাঞ্জাবকে পেয়েও সমতা ফেরাতে পারল না লাল-হলুদ। মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলকে দু'টি পটে রেখে লটারি হয়। পরে আইএফএ থেকে জানানো হয়, ৪ অক্টোবর কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিকেল ৫টায় পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে নামবে মোহনবাগান। পরের দিন, ৫ অক্টোবর একই মাঠে একই সময়ে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে খেলবে ইস্টবেঙ্গল।