৯-০ জয়, একমাত্র ভারতীয় দল হিসাবে এসিএল টু'তে নজির, 'ভিনদেশিদের জবাবে' সোনালি ইতিহাস ইস্টবেঙ্গলের
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য থেকে আনোয়ার আলি-এশীয় মঞ্চে উজ্জ্বল থেকেছে ভারতীয় ফুটবলের মশাল।
Anwesha Adhikary
01:40 PM Sep 17, 2026 IST
-
-
১৯৮৫-৮৬ এশিয়ান ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে যোগ্যতা অর্জনের জন্য কোকাকোলা কাপে নামে ইস্টবেঙ্গল। শ্রীলঙ্কার মাটিতে নেমে একটি ম্যাচে ৯-০ উড়িয়ে দেয় মালদ্বীপের দল ক্লাব ভ্যালেন্সিয়াকে। এশীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ী ভারতীয় দল হিসাবেও ইতিহাস গড়ে ইস্টবেঙ্গল। পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোচিংয়ে কোকাকোলা কাপ জিতে প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের স্বাদ আসে লাল-হলুদ শিবিরে। তবে সেবার এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে নেমে দু'টো ম্যাচই হারতে হয়।
-
১৯৯১-৯২তে ফের এশীয় মঞ্চে ইস্টবেঙ্গল। ফেড কাপজয়ী লাল-হলুদ প্রথম দুই ম্যাচ থেকে আসে চার পয়েন্ট। ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় দল হিসাবে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায়। তবে শেষ আটের যুদ্ধে দুই পর্ব মিলিয়ে ইস্টবেঙ্গল ১-৭ পরাস্ত হয় জাপানের ক্লাব নিসানের কাছে। ১৯৯৩-৯৪তেও এই টুর্নামেন্ট খেলেছিল ইস্টবেঙ্গল। প্রথম ম্যাচে ৬-২ হারিয়েছিল ইরাকের আল-জাওরাকে। মধ্যপ্রাচ্যের দলের বিরুদ্ধে কোনও ভারতীয় দলের সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয় এটাই।
-
ভারতীয় ক্লাব ফুটবলে অন্যতম গর্বের মুহূর্ত আসে ২০০৩ সালে ইস্টবেঙ্গলের হাত ধরেই। সুভাষ ভৌমিকের কোচিংয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচটা ০-১ হারতে হয়। পরের ম্যাচেই ৬-০ জিতে কামব্যাক। কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ জয়, সেমিতে পেনাল্টি শুটে জয়। ফাইনালে বিইসি তেরো সাসানাকে ৩-১ উড়িয়ে দেয় ইস্টবেঙ্গল। মাইক ওকোরো, বাইচুং ভুটিয়া এবং অ্যালভিটো ডি'কুনহার গোলে ভারতের ঘরে আসে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া প্রথম ক্লাব ট্রফি।
-
২০০৪ থেকে শুরু করে ২০১৫ পর্যন্ত মোট আটবার এএফসি কাপ খেলেছে ইস্টবেঙ্গল। সবচেয়ে সফল হয় ২০১৩ সালে। সেবার সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। অপরাজিত থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করে প্রি কোয়ার্টারে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। ৫-১ হারায় ইয়াঙ্গন ইউনাইটেডকে। কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ জয়। কিন্তু সেমিফাইনালে কুয়েত এসসির কাছে ০-৩ হেরে ট্রফি জয়ের স্বপ্ন শেষ হয় ইস্টবেঙ্গলের।
-
এএফসি কাপই ভোল বদলে আত্মপ্রকাশ করে এসিএল টু হিসাবে। ২০২৪ সালে এই টুর্নামেন্ট খেলার জন্য যোগ্যতা অর্জন পর্বে নামে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ঘরের মাঠে হেরে লাল-হলুদকে যেতে হয় এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে। সেখানে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে যায় ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু তুর্কমেনিস্তানে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লড়াই করেও জেতা সম্ভব হয়নি। চলতি মরশুমেও যোগ্যতা অর্জন পর্বে আল-আরবিকে হারায় ইস্টবেঙ্গল। উঠে আসে এসিএল টু'র মূলপর্বে।
-
বুধবার এসিএল টু'র মূলপর্বে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম ম্যাচ। প্রতিপক্ষ সদ্য বিশ্বকাপ খেলে আসা ফুটবলারে বোঝাই জর্ডনের আল হুসেন। বিদেশের মাটিতে ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-১ এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২-২ করে মাঠ ছাড়তে হয়। তবে এই ড্র থেকেই ভারতীয় ফুটবলে লেখা হল সোনালি ইতিহাস। এই প্রথমবার কোনও ভারতীয় দল এসিএল টু খেলতে নেমে বিদেশের মাটিতে থেকে পয়েন্ট জিতে এল।
-
এর আগে মোহনবাগান এবং এফসি গোয়া এসিএল টু খেললেও এই নজির গড়তে পারেনি। ম্যাচ খেলতে না যাওয়ার দরুণ মোহনবাগানের যাবতীয় রেকর্ড মুছে ফেলা হয়েছে। তবে সবুজ-মেরুন এসিএলে পয়েন্ট পেয়েছিল, ২০২৪-২৫ মরশুমে ঘরের মাঠে রভশান ক্লাবের বিরুদ্ধে ০-০ ড্র করে। এফসি গোয়া অবশ্য কোনও পয়েন্টই পায়নি টুর্নামেন্টের মূলপর্বে। চলতি মরশুমে তারা খেলছে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে।
-
ভারতীয় প্রতিযোগিতা হলেও ইস্টবেঙ্গল ভক্তকুলের মনে বিশেষ জায়গা রয়েছে ১৯৭০ আইএফএ শিল্ড ফাইনালের। পিটার থঙ্গরাজ, মহম্মদ হাবিব, সৈয়দ নইমুদ্দিন ছিলেন লাল-হলুদ স্কোয়াডে। প্রতিপক্ষ ইরানের অন্যতম সেরা দল পিএএস ক্লাব তেহরান। দর্শকঠাসা ইডেন গার্ডেন্সে ৯০ মিনিটে দুই দল গোল করতে পারনি। সংযুক্ত সময়ে গোল করেন পরিমল দে। ইরানের জাতীয় দলে ফুটবলারে ঠাসা ক্লাবকে হারিয়ে লাল-হলুদের অনবদ্য সাফল্য আজও ভক্তদের মনে উজ্জ্বল।
Advertisement
Advertisement