নেশনস লিগে ভূরি ভূরি মিস রোনাল্ডোর, দু'বার জালে বল জড়িয়ে জাত চেনালেন হালান্ড
Prasenjit Dutta
বিশ্বকাপে চেনা মেজাজে ছিলেন না ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। নেশনস লিগে (UEFA Nations League) আবারও দেশের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা। কিন্তু প্রত্যাবর্তন সুখকর হল না। ভূরি ভূরি গোল মিস করলেন। উপরন্তু তাঁর একটি গোল বাতিল হল অফসাইডে। শেষ পর্যন্ত জোয়াও ফেলিক্সের গোলে ওয়েলসকে ১-০ হারিয়ে অভিযান শুরু করল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, হালান্ডের জোড়া গোলে রুদ্ধশ্বাস জয় পেল নরওয়ে।
পর্তুগালের জয়ের নায়ক ফেলিক্স। ২২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া নিচু শট ওয়েলস অধিনায়ক বেন ডেভিসের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়িয়ে যায়। গোলরক্ষক ড্যানি ওয়ার্ডের কিছুই করার ছিল না। ৭টি শট নিয়েও গোল করতে পারেননি সিআর সেভেন। একটি শট পোস্টের বাইরের জালে লাগে। দ্বিতীয়ার্ধে কাছ থেকে ভলিতে গোল করার সুযোগও পেয়েছিলেন। ঠিক মতো পায়ে লাগেনি বল। পরে তাঁর একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ৬৭ মিনিটে তাঁকে তুলে নেন কোচ জর্জে জেসুস।
আরও পড়ুন:
তবে জয় নিয়ে খুশি পর্তুগাল কোচ। ম্যাচের পর ব্রুনো ফার্নান্দেজ বলেন, "আমরা একটি গোল করেছি। কিন্তু কোনও গোল খাইনি। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।" ফেলিক্সের কথায়, "প্রথমার্ধে আমরা ১৩টি শট নিয়েছি। মনে রাখতে হবে, ওরা কিন্তু কোনও সুযোগ পায়নি। আমরাই সুযোগ তৈরি করেছিলাম। এভাবে খেলতে থাকলে আমরা আরও গোল করব।" উল্লেখ্য, পর্তুগাল নামমাত্র গোলে জিতলে তাদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। ২২টি শট নিয়েছিল তারা। সেখানে ওয়েলসের শট মাত্র ৫টি।
অন্যদিকে, জার্মানি বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচে দুই নতুন কোচের আন্তর্জাতিক অভিযান শুরু হল ড্র দিয়ে। জার্মানির ডাগআউটে ছিলেন জুরগেন ক্লপ। নেদারল্যান্ডসের দায়িত্বে জাভি হার্নান্দেজ। এই ম্যাচে স্কোর লাইন ১-১। প্রথমার্ধে ৩২ মিনিটে জার্মানিকে এগিয়ে দেন ফেলিক্স এনমেচা। জার্মানির শুরুটা ছিল আক্রমণাত্মক। তবে শেষ হাসি হাসতে পারেনি ক্লপের দল। অতিরিক্ত সময়ে, ৯২ মিনিটে, কোডি গাকপো দুরন্ত ফিনিশে সমতা ফেরান। ফলে ক্লপের জার্মানি জয় পেল না। নেদারল্যান্ডস কোচ জাভির প্রথম ম্যাচেই দল দেখাল আগ্রাসী মানসিকতার প্রতিফলন। ম্যাচের পরে জাভি বেশ সন্তুষ্টই ছিলেন।
আর এক ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পরে ডেনমার্ককে ৩-২ গোলে হারাল নরওয়ে। আর সেই জয়ের নেপথ্যে আবারও আর্লিং হাল্যান্ড। জোড়া গোল করে নরওয়ের ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত করলেন তিনি। শুরুতেই ঝড় তোলে নরওয়ে। অস্কার ববের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ১৮ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান হাল্যান্ড। কিন্তু ম্যাচ তখনও শেষ হয়নি। পালটা আক্রমণে ম্যাচে ফেরে ডেনমার্ক। মিকেল ড্যামসগার্ডের গোলে ব্যবধান কমার পরে দ্বিতীয়ার্ধে রাসমুস হইলুন্দ সমতা ফেরান। ৭৪ মিনিটে ফের হাল্যান্ড। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাঁর বাঁ পায়ের শট গোল করেন। ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় নরওয়ে।