দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Brazil vs India

শহর ছেয়েছে হোর্ডিংয়ে, সাম্বার ছন্দে পা মেলাতে তৈরি কলকাতা, কী কী থাকছে ভিনিদের প্লেটে

ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহাদের মতো তারকাদের ভারত সফর নিয়ে ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উৎসবের আবহ। অতিথিদের আপ্যায়নে যাতে একটুও খামতি না থাকে, সেই প্রস্তুতিও তুঙ্গে।
Prasenjit Dutta
09:38 PM Sep 27, 2026 IST
ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহাদের মতো তারকাদের ভারত সফর নিয়ে ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উৎসবের আবহ। অতিথিদের আপ্যায়নে যাতে একটুও খামতি না থাকে, সেই প্রস্তুতিও তুঙ্গে।
ব্রাজিল ম্যাচ নিয়ে উৎসবের মেজাজ কলকাতায়। ছবি অরিজিৎ সাহা।

কলকাতা অপেক্ষায়। যুবভারতীর সবুজ গালিচায় সাম্বার ছন্দে পা মেলাতে তৈরি ব্রাজিল। ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহাদের মতো তারকাদের ভারত সফর নিয়ে ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উৎসবের আবহ। অতিথিদের আপ্যায়নে যাতে একটুও খামতি না থাকে, সেই প্রস্তুতিও তুঙ্গে। নবরূপে সেজে উঠছে যুবভারতী। চলছে সংস্কারের কাজ। শহরে ছেয়ে গিয়েছে হোর্ডিং। পাশাপাশি 'সেলেকাও'দের রাজকীয় খাদ্যতালিকাও নজর কেড়েছে। 

ভারতীয় ফুটবল দল নিজেদের ইতিহাসে এত বড় ম্যাচ খেলেনি আজ পর্যন্ত। আপাতত যা খবর, ১ অক্টোবর কলকাতা আসবেন পাঁচবারের বিশ্বজয়ীরা। পরিকল্পনা হয়েছে, বিমানবন্দর থেকে ভিনিসিয়াস-নুনেজদের সরাসরি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। পরের দিন দুপুরে হোটেল থেকেই সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা রয়েছে তাদের। সেদিন বিকেলে যুবভারতীতে অনুশীলন করার কথা রয়েছে ব্রাজিল দলের। কিছুদিন আগেই ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ জানিয়েছিলেন, পুজোর আগেই ব্রাজিল-উরুগুয়ের মতো দলের খেলা দেখা উপহারের শামিল। রাজ্যের তরফে ব্রাজিল দলের সম্মানে এক নৈশভোজ আয়োজনের পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী। 

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

হোর্ডিং পড়েছে কলকাতায়। ছবি অরিজিৎ সাহা।

গত শুক্রবারই বেঙ্গালুরুতে ভারত মুখোমুখি হয়েছিল সদ্য বিশ্বকাপ খেলে আসা পানামার। কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে যে ম্যাচ ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। তার রেশ কাটার আগেই এবার ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে কোচ খালিদ জামিলের দল। যে ম্যাচ খেলার জন্য ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহা, এনড্রিক, এস্তেভাও, ব্রুনো গুইমারেজ, মার্কুইনোসের মতো মহাতারকাদের নিয়ে আসছে ব্রাজিল। এমন ম্যাচকে নিয়ে যুবভারতী যেমন সেজে উঠছে। ইতিমধ্যেই রঙের পোঁচ পড়েছে স্টেডিয়ামের দেওয়ালে। প্রথমবার স্টেডিয়ামের প্রত্যেক আসনে থাকছে নির্দিষ্ট নম্বর। অর্থাৎ, আগের মতো শুধু কোনও একটা জোনের নয়, এই দুই ম্যাচে দর্শকরা কাটতে পারবেন নির্দিষ্ট আসনের টিকিট। দর্শকদের দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা উপহার দিতে নতুন করে সাজানো হয়েছে র‌্যাম্প, শৌচাগার। গ্যালারির লবিতে থাকছে ফুড স্টলও। স্টেডিয়ামে লেগেছে গেরুয়া আর হলুদ রং। পরিচর্যা হচ্ছে যুবভারতীর ঘাসেরও। যা পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের কর্তারা।

শুধু যুবভারতীর মূল মাঠই নয়, স্টেডিয়ামের পাশের অনুশীলনের মাঠগুলোরও যত্ন নেওয়া হচ্ছে। অনুশীলন মাঠে অনুশীলন করার অবকাশ নেই ব্রাজিলের। কিন্তু উরুগুয়ে দলের শহরে পা রাখার পর অনুশীলন মাঠে প্র্যাকটিস করতে পারে। তাই অনুশীলন মাঠগুলোকেও তৈরি করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানেই। এদিকে ভিভিআইপি গেটের বাইরে রাস্তার ওপর চল্লিশ ফুটের চ্যানেলিয়াম লেটারে বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন লেখা হচ্ছে। ভিভিআইপি গেটের বাইরের বিবেকানন্দের মূর্তি-সহ গোটা স্টেডিয়ামে রঙের কাজও সম্পূর্ণ। প্রবেশদ্বারের ওপরে বিশাল অশোক স্তম্ভ বসেছে।

প্রত্যেক আসনে থাকছে নির্দিষ্ট নম্বর। ছবি অরিজিৎ সাহা।

সেজে উঠছে তিলোত্তমাও। শহরের নানান জায়গায় ব্রাজিল এবং উরুগুয়ে ম্যাচের হোর্ডিং-ব্যানার ছেয়ে গিয়েছে। যুবভারতী তো বটেই, চাঁদনিচক, মা ফ্লাইওভার, ট্রায়াঙ্গুলার পার্ক, কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা, সাউথ সিটি, টালিগঞ্জ-করুণাময়ী, কাঁকুড়গাছি, বিজন সেতু-সহ শহরের নানা প্রান্তে এলইডি বোর্ড ও বিশাল ব্যানারে চোখে পড়ছে দুই ম্যাচের বিজ্ঞাপন। কলকাতার মেট্রো স্টেশনগুলিতেও চলছে জোরকদমে প্রচার। শহরের গণ্ডি পেরিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্তেও একই ছবি। 

৩ অক্টোবর ম্যাচ। জানা গিয়েছে, ম্যাচ খেলে সেদিন রাতেই ভিনিসিয়াস, রাফিনহারা ক্লাবের ম্যাচ খেলতে চলে যাবেন। পরের দিন, অর্থাৎ সোমবার গোটা দল ফিরবে। প্রসঙ্গত, ব্রাজিল দলের খাদ্যাভ্যাস এবং ফিটনেস নিয়ে সতর্কতার কথা সর্বজনবিদিত। তাই কলকাতা সফরেও খাবারের দায়িত্বে থাকছেন দলের নিজস্ব বিশেষজ্ঞ শেফেরা। খেলোয়াড়দের দৈনন্দিন চাহিদা মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে পাঁচ দফার খাদ্যতালিকা। সকালের শুরুতেই প্রোটিন জাতীয় খাবারে জোর দেওয়া হয়েছে। তেল ছাড়া ডিমের নানা পদ, চিজ অমলেট, স্মোকড টার্কি এবং বিশেষ ভাবে তৈরি মুরগির পদ থাকছে প্রাতরাশে। সঙ্গে গাজরের কেক, ওয়াফেল, বিভিন্ন ধরনের কফি, হারবাল চা এবং তাজা ফলের রস।

প্রত্যেক আসনে থাকছে নির্দিষ্ট নম্বর। ছবি অরিজিৎ সাহা।

দুপুরের পাতে থাকতে পারে টাটকা স্যালাডের সঙ্গে থাকছে বেকড পর্ক হ্যাম, গ্রিলড চিকেন ব্রেস্ট এবং কাঁটাবিহীন রেড স্ন্যাপার। সঙ্গে ভাত, পাস্তা এবং ব্রাজিলের জনপ্রিয় খাবার 'ফারোফা'। শেষ পাতে ব্রাজিলীয় মিষ্টি 'ডুলস দে লেশে'। এর পর অনুশীলনের ফাঁকে 'ট্রেনিং স্ন্যাক্স'। কর্ন কেক, হালকা স্যান্ডউইচ এবং নানা ধরনের ফল। আর 'ঘরে'র স্বাদ ফিরিয়ে আনতে থাকছে ব্রাজিলের প্রিয় ক্যান্ডি 'ব্যানানিহা' এবং মিষ্টি 'প্যারোকুইনহা'। রাতের খাবারেও বৈচিত্র কম নয়। রোস্টেড চিকেন থাই, গ্রিলড পর্ক এবং তেরিয়াকি সসে নরওয়ের স্যামন। সঙ্গে ভাত, সবজি ও পাস্তা। ডেজার্টে অ্যাপেল ক্রাম্বল। রাতে দেরিতে খিদে পেলেও চিন্তা নেই। থাকছে পঞ্চম দফার ব্যবস্থা। হালকা পাউরুটি, ওটস, ড্রাই ফ্রুটস, দই, অরেঞ্জ কেক এবং ওয়াফেল। সবমিলিয়ে, বিশ্ব ফুটবলের তারকাদের বরণ করে নিতে প্রায় প্রস্তুত ভারতীয় ফুটবলের মক্কা কলকাতা।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Brazil Football TeamIndia Football Team
Advertisement
Tags :
Brazil Football TeamIndia Football Team

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন