দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Mohun Bagan

ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের 'ঘরের ছেলে', সায়নের গোলেই 'শাপমুক্তি', বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস মোহনবাগানে

আইএসএল জয়ের পরই লাল-হলুদ ছেড়ে পড়শি ক্লাবে পাড়ি দিয়েছিলেন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। কটাক্ষ সহ্য করতে হয়েছিল তাঁকে।
Prasenjit Dutta
07:01 PM Sep 19, 2026 IST
আইএসএল জয়ের পরই লাল-হলুদ ছেড়ে পড়শি ক্লাবে পাড়ি দিয়েছিলেন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। কটাক্ষ সহ্য করতে হয়েছিল তাঁকে।
ডানদিকে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি অমিত মৌলিক।

একটা সময় ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের 'ঘরের ছেলে'। কিন্তু আইএসএল জয়ের পরই লাল-হলুদ ছেড়ে পড়শি ক্লাবে পাড়ি দিয়েছিলেন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। কটাক্ষ সহ্য করতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু মাঠেই তার জবাব দিলেন তরুণ ফুটবলার। মহামেডান স্পোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে তাঁর জয়সূচক গোলেই আট বছর পর 'শাপমুক্তি'। কলকাতা ফুটবল লিগের ট্রফি উঠল মোহনবাগানের (Mohun Bagan) ঘরে।

গত মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে কলকাতা লিগে খেললেও আইএসএলে নিয়মিত সুযোগ পাননি সায়ন। কার্লেস কুয়াদ্রাতের সময় সিনিয়র দলে সুযোগ এসেছিল তাঁর। কলকাতা ডার্বিতে দিমিত্রি পেত্রাতোসের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত মুহূর্ত যেমন সমর্থকদের মনে দাগ কেটেছিল, তেমনই পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে গোল করে নজরও কেড়েছিলেন। কিন্তু কোচ বদলের সঙ্গে বদলে যায় সায়নের পরিস্থিতিও। নতুন কোচিং সেট আপে ধীরে ধীরে সিনিয়র দলের পরিকল্পনার বাইরে চলে যান তিনি। আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে তাঁর পথ আলাদা হয়ে যায়। নতুন মরশুমে সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে নিজেকে প্রমাণ করাই ছিল তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

উচ্ছ্বাসে ভাসলেন বাগান সমর্থকরা। ছবি অমিত মৌলিক।

কলকাতা লিগের রাউন্ড রবিন পর্বে মোহনবাগানের পারফরম্যান্স খুব একটা নজর কাড়তে পারেনি। কোনও রকমে প্রথম তিনে জায়গা করে সুপার সিক্সে ওঠে তারা। কিন্তু শেষ পর্বে পাওয়া গেল 'আসল' মোহনবাগানকে। তিন ম্যাচের দু'টিতে জিতে কলকাতা লিগের চ্যাম্পিয়ন সবুজ-মেরুন। এ হেন সাফল্যের অন্যতম নায়ক সায়ন। মহামেডানের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও তাঁর গোলেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। লিগ জিতে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে দলগত সাফল্যের জয়গান। বলেন, "গোল করাই আমার কাজ। এত দিন গোল পাচ্ছিলাম না। আজ কঠিন সময়ে গোল করতে পেরেছি। আমরা পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু ফলের দিকে না তাকিয়ে গোল করার দিকেই মন দিয়েছিলাম।"

সাহালের গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। ছবি অমিত মৌলিক।

গত মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে লিগ জিতেছিলেন। এবার মোহনবাগানের হয়ে একই ট্রফি। দুই সাফল্যের মধ্যে কোনও একটিকে এগিয়ে রাখতে নারাজ সায়ন। তাঁর কথায়, "দু'টোই সমান সমান। এটা আমার পেশাদার জীবন। এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। লক্ষ্য আরও ভালো খেলে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া।”

সায়নের পাশাপাশি মোহনবাগানের সাফল্যে বড় ভূমিকা সাহাল আবদুল সামাদেরও। দু'টি গোল করে দলকে জেতালেও ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নিতে চাননি তিনি। তাঁর কথায়, "জিততে সব সময়ই ভালো লাগে। তবে জেতার সঙ্গে ট্রফি পাওয়া– এই অনুভূতিটা একেবারেই আলাদা। আমি খুব খুশি। এটা পুরো দলের পরিশ্রমের ফল। এখানে কোনও ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নেই।" কীভাবে এল গোল? সাহালের ব্যাখ্যা, "আমরা যখন নিজেদের ছন্দে থাকি, তখন সব কিছুই হয়ে যায়। এক বা দু'গোলে পিছিয়ে থাকলেও আমাদের ফিরে আসার প্রচেষ্টা থাকে। পরিশ্রম করে গেলে ফল পাওয়া যায়।"

অকাল হোলি মোহনবাগানে। ছবি অমিত মৌলিক।

সামনে আইএফএ শিল্ড। তার পর আইএসএল। তার আগে কলকাতা লিগের এই সাফল্য তরুণ ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলেই মনে করছেন সাহাল। "এই ট্রফি তরুণদের পাশাপাশি সিনিয়রদেরও আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। তরুণদের সাহায্য করতে পেরে ভালো লাগছে। ওদের জন্যও এটা একটা অভিজ্ঞতা।" বহু যুদ্ধের নায়ক শুভাশিস বোস বলেন, "কলকাতা লিগ জিতে লক্ষ্যপূরণ হল।" আর মোহনবাগান কর্তা দেবাশিস দত্তের কথায়, "আমরা চাই কলকাতা লিগ প্রতি বছর এভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হোক।"

৮ বছরের খরা কাটিয়ে লিগ জয়ের উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে পারলেন না সবুজ-মেরুন সমর্থকেরা। বারাসত স্টেডিয়াম থেকে ফেরার পথে সবুজ-মেরুন আবিরে অকাল হোলিতে মাতলেন তাঁরা। তখন প্রিয় দলকে নিয়ে একের পর এক স্লোগান। কলকাতা লিগ জয়ের পর সমর্থকদের ভালোবাসায় ভাসলেন সায়নও। ছাংতের কাছে তাঁদের আবদার, এবার আইএসএলটাও চাই!

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
CFLMohun Bagan
Advertisement
Tags :
CFLMohun Bagan

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন