রিও থেকে কলকাতায় ব্রাজিলীয় পরিবার, 'ভারতও একদিন বিশ্বকাপ খেলবে', আশাবাদী রোজারিওরা
Arpan Das
রিও দে জেনোইরো থেকে কলকাতার দূরত্ব কতটা? গুগল বলছে প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার। বিমানে ঘুরপথে আসতে লেগে যায় একদিনের বেশি। আচ্ছা, একটা ম্যাচ দেখার জন্য এই সফরটা কে করে? তাও কোনও বিশ্বকাপের ম্যাচ নয়। নেহাত একটা প্রীতি ম্যাচ। তাও ১৩৩ ধাপ পিছিয়ে থাকা একটা দেশের সঙ্গে। তবু সেই ম্যাচ দেখতে ব্রাজিলের শহর থেকে কলকাতায় হাজির রোজারিও ও তাঁর পরিবার। যুবভারতীতে ৩ অক্টোবর ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের আগে গল্প জমল তাঁদের সঙ্গে।
বাংলার অত্যন্ত প্রিয় গান 'সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল।' রোজারিওরা এই গানটা শোনেননি। ঝটিকা শহরে বোঝা সম্ভব নয়, এই শহরে শিরা-ধমনীতে ছুটে চলে ফুটবল। ১৩৮তম দেশের এক ডার্বি ঘিরে 'শত্রু'তে পরিণত হয় লক্ষ লক্ষ মানুষ। ব্রাজিলের সঙ্গে ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের অনেক তফাৎ। তবু এই উন্মাদনায় বিশ্বের দুই প্রান্তের দুই জায়গা এক সুতোয় গাঁথা পড়ে যায়। তাই বিশ্বকাপের সময় এই শহর সেজে ওঠে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকায়। ভক্তদের মধ্যে তুলকালাম চলে মেসি-রোনাল্ডো-নেইমারদের নিয়ে। কে বলবে, ভারত বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন থেকে আজও বহু দূরে।
আরও পড়ুন:
তবে ভারত একদিন বিশ্বকাপ খেলবেই। না, এ কোনও ভারতীয় সমর্থকের কথা নয়। এটা বলছেন রোজারিও দে আন্দ্রে। পেশায় ব্যবসায়ী, নেশায় ফুটবল। গোটা পরিবার ভিনির অন্ধভক্ত। সবার পরনে হলুদ জার্সি। সঙ্গে পতাকা। বিশ্বের যে প্রান্তে সেলেকাওরা মাঠে নামুক না কেন, সেখানে রোজারিওরা হাজির। আপাতত ঠিকানা কলকাতা, ভারত। এই প্রথমবার ভারত আগমন। এদিন ভিনিসিয়াসদের টিম হোটেলে হাজির হলেন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুলিয়ানা, ছেলে রোজারিও জুনিয়র ও মেয়ে মাইজা। তিনি বলছিলেন, "এই ম্যাচে ব্রাজিল দল জিতবে। ৪ গোল দিতে পারে। তবে আমরা ভারতীয় দলকে আমি খুব সম্মান করি।"
বিশ্বের সব প্রান্তে গেলেও আমেরিকায় বিশ্বকাপ দেখতে যাননি। কাতারের বিশ্বকাপে গিয়েছিলেন, কিন্তু এবার যাননি। কিছুটা অভিমানে কী? সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলের ফুটবল পারফরম্যান্সও তো আশানুরূপ নয়। এমনকী কিছুদিন আগেও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছিল। এসবের মধ্যে রোজারিওরা স্বপ্ন দেখছে ভারতের ফুটবল নিয়ে। তিনি বলেন, "ভারতীয় দলের কাছে এটা বিরাট সুযোগ। আশা করব, তাঁরাও একদিন বিশ্বকাপে খেলবে।" ভারতীয়রাও সেই স্বপ্ন দেখে চলেছে। কবে স্বপ্নপূরণ হবে? কলকাতা থেকে রিও, একস্বপ্নে বুঁদ দুই প্রান্ত।
শুধু রোজারিওরা নয়। যুবভারতীতে উপস্থিত ব্রাজিলের সুপারফ্যান সাভোইয়া তোমায়ের। বাড়ি সাও পাওলোতে। ৬২টি দেশ ঘুরেছেন। শরীরে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ের ট্যাটু। যুবভারতীর সামনে সাম্বা নাচের ঝলক দেখিয়ে গেলেন। বাকিটা শনিবারের জন্য তোলা থাক!