ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে তুঙ্গে উত্তেজনা, বিশ্বকাপ খেলা কোন দলগুলির বিরুদ্ধে দুর্দান্ত ভারত? জানুন ঐতিহাসিক সফর
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৩৮ নম্বরে থাকলেও ভারতের ফুটবল সংস্কৃতি বহু পুরনো।
Prasenjit Dutta
06:41 PM Sep 30, 2026 IST
-
-
স্বাধীন ভারতের প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ। ১৯৪৮-এর লন্ডন অলিম্পিকে ৩১ জুলাই ইলফোর্ডের লিন রোড স্টেডিয়ামে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি ভারত। দলের আট ফুটবলার খেলেছিলেন খালি পায়ে। রেনে কুরবাঁর গোলে পিছিয়ে পড়েও সারঙ্গাপাণি রামনের ৭০ মিনিটের গোলে সমতা ফেরায় ভারত। একেবারে অন্তিমে, ৮৯ মিনিটে রেনে পারসিয়োঁর গোলে ২-১ হার মানে ব্লু টাইগার্স। ১৭ হাজার দর্শকের সামনে ভারতের অকুতোভয় মনোভাব নজর কাড়ে।
-
দিল্লির মাটিতে এশিয়ার প্রথম ক্রীড়া মহাযজ্ঞ। আর সেখানেই ইতিহাস লিখল ভারত। ১৯৫১ সালের এশিয়ান গেমসের ফুটবল ফাইনালে ইরানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সোনা জিতল ভারত। জয়সূচক গোলটি করেন শেও মেওয়ালাল। কোচ সৈয়দ আবদুল রহিমের নেতৃত্বে এই জয় ছিল স্বাধীন ভারতের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ফুটবল সাফল্য। যার হাত ধরে শুরু হল ভারতীয় ফুটবলের 'স্বর্ণযুগ'।
-
১৯৫২। হেলসিঙ্কি অলিম্পিক। মাইনাস ডিগ্রির কনকনে ঠান্ডায় হিমশীতল মাঠে খালি পায়ে নেমেছিল ভারত। প্রতিপক্ষ যুগোস্লাভিয়া। ফল ১০-১। স্কোরলাইন ছিল নির্মম! ২৬ জুলাইয়ের সেই ম্যাচে যুগোস্লাভিয়ার হয়ে তিনটি গোল করেছিলেন ব্রাঙ্কো জেবেক। ভারতের একমাত্র গোলটি আহমেদ মহম্মদ খানের। অনেকেই বলেন, এই হারই ভারতীয় ফুটবলকে ভাবতে শিখিয়েছিল বুট পরে খেলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে।
-
মেলবোর্নে সেদিন ইতিহাস লিখেছিল ভারতীয় ফুটবল। ১৯৫৬ অলিম্পিকের কোয়ার্টার ফাইনালে ঘরের মাঠের অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে সমর ‘বদ্রু’ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভারত। অলিম্পিকে প্রথম এশীয় হিসাবে হ্যাটট্রিক করেছিলেন নেভিল ডি’সুজা। পিকে বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন সেই দলে। শেষ চারে যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৪-১ গোলে হারতে হয়েছিল। স্কোরশিটে অবদান রাখেন সেই নেভিল। ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে বুলগেরিয়ার কাছে ৩-০ হেরে চতুর্থ হয়ে ফিরতে হয় ভারতকে।
-
১৯৬২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জাকার্তার সেনায়ান স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়েছিল ভারত। সৈয়দ আবদুল রহিমের কোচিংয়ে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে সোনা জেতে চুনী গোস্বামীরা। ১৭ মিনিটে পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোলে এগিয়ে যায় ভারত। তিন মিনিট পর জার্নাল সিং গোল করেন। প্রায় এক লক্ষ দর্শকের সামনে এই জয় ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে আজও স্মরণীয়।
-
১৯৭০ সালের ব্যাংকক এশিয়ান গেমসে ফের পদকের স্বাদ ভারতীয় ফুটবলের। সেমিফাইনালে বার্মার কাছে ০-২ গোলে হারলেও তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচে জাপানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জেতে ভারত। ১৯ ডিসেম্বরের সেই ম্যাচে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন অমর বাহাদুর। এশিয়াড ফুটবলে ১৯৬২-র সোনার পর এটিই ভারতের পরবর্তী পদক।
-
১৯৮২-তে নেহরু কাপের মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-উরুগুয়ে। ৩-১ গোলে হেরে গিয়েছিল ভারত। গোল করেছিলেন মানস ভট্টাচার্য। দু'বছর পর একই টুর্নামেন্টে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। মাত্র ০-১ গোলে হেরে গেলেও ভারতীয় দলের এই লড়াই নিয়ে আজও চর্চা হয়। জাতীয় জার্সির রং উজ্জ্বল করেছিলেন অতনু ভট্টাচার্য, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, ভিক্টর অমলরাজ, কৃশানু দে-রা। 'লা আলবিসেলেস্তে' দলে হোর্হে বুরুচাগারা। ৭৯ মিনিটে গোল করেছিলেন গারেকা।
-
দিল্লির আম্বেদকর স্টেডিয়ামে ২০০৮-এর ১৩ আগস্ট আবারও ঐতিহাসিক সাফল্য। এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের ফাইনালে তাজিকিস্তানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাইচুং ভুটিয়ার ভারত। একাই তিন গোল করে নায়ক সুনীল ছেত্রী। এই জয়ের হাত ধরেই দীর্ঘ ২৭ বছর পর এশিয়ান কাপের মূলপর্বে ফেরার ছাড়পত্র পায় ভারত।
-
২০১৯ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কাতারের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত লড়াই করেছিল ভারত। দোহায় এশিয়ার তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন কাতারের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করেছিল ভারতীয় দল। চোটের কারণে খেলেননি সুনীল ছেত্রী। আক্রমণে আধিপত্য ছিল কাতারের। বল দখল ছিল ৬০ শতাংশ। অতন্দ্র প্রহরীর মতো ভারতকে রক্ষা করেছিলেন গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধু। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বাঁচান। শেষ পর্যন্ত ভারত পায় মূল্যবান এক পয়েন্ট।
Advertisement
Advertisement