'বিশ্বাস ছিল ওরা পারবে', বলছেন ভারতীয় কোচ, খালিদের ভারতকে কুর্নিশ পানামা কোচের
Prasenjit Dutta
এই কিছুদিন আগেই আমেরিকা বিশ্বকাপে খেলে এল পানামা। সেই দলটাই যে ভারতের (India) বিরুদ্ধে এভাবে নাস্তানাবুদ হবে, ভাবাই যায় না! হ্যাঁ, এই দলটাকে ভারতে এনে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলার জন্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা খরচ করেছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। তাতে অবশ্য ভারতীয় দলের কৃতিত্ব কিছু কমে যায় না। ফিফা ক্রমপর্যায়ে যে দলটা এই মুহূর্তে ৪৪তম স্থানে রয়েছে, সেই দলের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে এগিয়ে গিয়ে ড্র করা ঐতিহাসিক সাফল্য বটে। এমন পারফরম্যান্সের পর দলকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন ব্লু টাইগার্স কোচ খালিদ জামিল। ভারতীয় দলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ পানামা (Panama) কোচও।
বেঙ্গালুরুর কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে খালিদ জামিলের দল দেখাল, লড়াইটা মাঠে হয়। চোখে চোখে রেখে লড়াই করতে জানলে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। হোক না সামনে বিশ্বকাপারে বোঝাই দল। সেখানে প্রতি মুহূর্তে পানামাকে পিছনে ফেলে দিলেন আনোয়ার-মনবীররা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৪৪ নম্বরে থাকা দেশকে আটকে দিল ১৩৮তম স্থানে থাকা ভারত। দলের এই সাফল্যের পিছনে ফুটবলারদের পরিশ্রম এবং দলগত সংহতিকেই কৃতিত্ব দিলেন ভারতের কোচ। খালিদের কথায়, "সবাই খুব পরিশ্রম করেছে। নিজেদের উপর আমাদের বিশ্বাস ছিল। আমরা জানতাম, ভালো করার ক্ষমতা আমাদের আছে। যে ফল পেয়েছি, তার পুরো কৃতিত্ব ফুটবলারদের। দলের স্পিরিটও খুব ভালো ছিল। আমরা দল হিসাবে খেলেছি। তারই ফল পেয়েছি।"
আরও পড়ুন:
গুরপ্রীত সিং সান্ধু, মনবীর সিংয়ের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের পাশাপাশি বিক্রম, আশিকদের মতো তরুণদেরও প্রশংসা করেন খালিদ। ম্যাচে ভারতের অধিকাংশ আক্রমণই তৈরি হয়েছে বাঁ প্রান্ত থেকে। দীর্ঘ ন'মাস পর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে ফিরে নজর কেড়েছেন আশিক কুরুনিয়ন। আশিকের প্রত্যাবর্তন নিয়ে খুশি ভারতের কোচ। বাঁ উইংকে সচল রাখার নেপথ্যে তিনি। তবে এর জন্য আলাদা কোনও পরিকল্পনা ছিল না বলেও জানান তিনি। খালিদ বলেন, "আমরা বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ করার জন্য আলাদা কোনও পরিকল্পনা করিনি। সবাই খুবই পরিণত ফুটবল খেলেছে। গুরপ্রীত, মনবীরদের মতো সিনিয়র ফুটবলার থেকে শুরু করে জুনিয়ররাও ভালো খেলেছে। চোট কাটিয়ে ফিরে দারুণ খেলেছে আশিক। বিক্রম, আকাশরাও খুব পরিশ্রম করেছে। রায়ান দারুণ গোল করেছে। আমরা দলগত ফুটবল খেলেছি।"
পানামাকে দেখে ভারতীয় ফুটবলাররা এতটাই তেতে যায় যে, পানামা আর ভারতীয় দলের ফুটবলাররা যদি নিজেদের মধ্যে জার্সি বদল করে নিতেন, বোঝা সম্ভব ছিল না, কোন দলটা পানামা আর কোন দলটা ভারত। আকাশ মিশ্রর লম্বা উঁচু পাস ধরে পানামার বক্সে ঢুকে দেখে শুনে গোলকিপারের বাঁদিক থেকে বল জালে রাখলেন রায়ান উইলিয়ামস। প্রথামর্ধে হয়তো একটা গোল করেছেন। কিন্তু আরও একটা গোল করার জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন রায়ান উইলিয়ামস। সেটাও গোলকিপারের বাঁদিক থেকে প্লেসিং করেছিলেন। অল্পের জন্য পোস্ট ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়। শুধু রায়ানের কথা বলি কেন, শুরুর মিনিট থেকে বাঁদিকের উইং থেকে ক্রমাগত আক্রমণ শানাচ্ছিলেন আশিক কুরুনিয়ন। ভারতের আক্রমণভাগের প্রশংসা এসেছে পানামা কোচ থমাস ক্রিশ্চিয়ানসেনের মুখেও। তিনি বলেন, "ওরা সময় পেলে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। দলে বেশ কয়েকজন ভালো মানের ফুটবলার রয়েছে। বিশেষ করে স্ট্রাইকার এবং সেকেন্ড স্ট্রাইকারকে সামলাতে গিয়ে আমাদের ডিফেন্সিভ লাইনের উপর যথেষ্ট চাপ তৈরি হয়েছিল।"