দিল্লি ক্যাপিটালস: ২০৩/৫ (রাহুল ৬০, অক্ষর ৩৯, দুবে ২৮/২)
কলকাতা নাইট রাইডার্স: ১৬৩/১০ (রাহানে ৬৩, মণীশ ২৫, কুলদীপ ২৩/৩)
৪০ রানে জয়ী দিল্লি।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারিয়ে চতুর্থ দল হিসাবে আইপিএলের প্লে-অফে উঠেছে রাজস্থান রয়্যালস। ফলে কেকেআর-দিল্লি ম্যাচ নিয়মরক্ষার হয়ে যায়। সেই ম্যাচেও মান রাখতে পারল না কলকাতা নাইট রাইডার্স। দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে ৪০ রানে হারল তারা। এর ফলে লিগ টেবিলে সাত নম্বরে শেষ করল তারা।
গতবার পয়েন্ট টেবিলের অষ্টম স্থান। এবার টানা ৬ ম্যাচ জয়ের মুখ না দেখা। কেকেআরের হতশ্রী দশা অব্যাহত। একধাপ নেমে সপ্তম স্থানে শেষ করল। যদিও রবিবার পর্যন্ত প্লেঅফের আশা জিইয়ে রেখেছিল নাইটরা। খুব কঠিন অঙ্ক হলেও দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে প্লেঅফ নিশ্চিত করার একটা মরিয়া চেষ্টা ছিল অজিঙ্ক রাহানেদের মধ্যে। কিন্তু তীরে এসে ডুবল তরী। দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই আইপিএল থেকে ছিটকে যায় কেকেআর। প্লেঅফের চতুর্থ জায়গাটা দখল করে রাজস্থান রয়্যালস। তাই মান রক্ষাও হবে না! শেষ ম্যাচেও মুখ কালো করে মাঠ ছাড়ল সমর্থকরা।
এদিন টসে জিতে দিল্লিকে ব্যাট করতে পাঠান অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে। তাতে হিতে বিপরীত হল। দিল্লির অধিনায়ক কেএল রাহুল ৩০ বলে ৬০ রানের জরুরি ইনিংস খেললেন। অভিষেক পোড়েল মন্থর ব্যাটিং করলেও ২২ রানের মাথায় আউট হন। মাঝের ব্যাটাররাও রান পেলেন। সাহিল পারেখ ২৪ এবং দিল্লির রানের পিলার গাঁথলেন অক্ষর প্যাটেল। ২৫ বলে ৩৯ রানের যাকে বলে স্মার্ট ইনিংস। সবচেয়ে বড় কথা ব্যাটাররা প্রত্যেকেই প্রায় রানে কিছু না কিছু অবদান রাখলেন। শেষের দিকে ডেভিড মিলার ২৮ ও আশুতোষ শর্মা করে ১১ বলে আঠারো করে ২০৩ পৌঁছে দিলেন দলগত রান। কেকেআরের বোলারদের মধ্য়ে কিছুটা সফল সৌরভ দুবে। ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে তিনি। বাকিরা তথৈবচ।
এদিন কেকেআরের অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে রান পেয়েছেন। কিন্তু তাঁর রান তোলার গতি নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠবে। ২০৩ যখন টার্গেট তখন ৩৯ বলে ৬৩ রানের ইনিংসে কাজ হয় না। বাকিরাও সহযোগিতা করল না ক্যাপ্টেনকে। যেন পক্ষঘাতগ্রস্ত একটা দল! দায়িত্বজ্ঞান ব্যাটারদের সারি। ফিন অ্যালেন ২০ করে আউট, এদিনও ব্যর্থ ক্যামরান গ্রিন। তাঁর সংগ্রহ ৩ বলে ২। রোভম্যান পওয়েল ২১ ২৯ করলেন। বাকিরা 'ফোন নম্বর' ডিজিটে রান করলেন। শেষ পর্যন্ত ১৮.০৪ ওভারে অলআউট কেকেআর। রান পৌঁছল ১৬৩তে। জয়ের লক্ষ্যে ৪০ কম পড়ে গেল।
কেবল ৪০ রান নয়, আত্মবিশ্বাস, পরিকল্পনা, মাঠে প্রয়োগ, অধিনায়কত্ব... এমন অনেক কিছুতেই ফাঁকফোকড় দেখা গেল কেকেআরের এবারের আইপিএল অভিযানে। পরের বার দল গড়ার সময় নিশ্চয়ই খেয়াল রাখবেন কর্তারা। বিপুল সংখ্যক সমর্থকদের আবেগের কথা ভেবে।
