'দেশদ্রোহী বলবে', সিং-খান জুটিতে এশিয়াডে ইতিহাস গড়া পদক, জিতেও দুঃখ যাচ্ছে না দু'জনের
Anwesha Adhikary
এশিয়ান গেমসে প্রথমবার রোয়িং থেকে পদক এসেছে ভারতের ঝুলিতে। ব্রোঞ্জ জিতেছেন সলমন খান এবং সতনাম সিং। ঐতিহাসিক এই পদকজয়ের পর খুশি নয়, একরাশ হতাশা উগরে দিলেন দুই অ্যাথলিট। একদিকে সোনা হাতছাড়া হওয়ার হতাশা, অন্যদিকে দেশদ্রোহী তকমা পাওয়ার ভয়-সবমিলিয়ে খুশি হতে পারছেন না দুই রোয়ার।
কেন এই হতাশা? আসলে এশিয়াড চলাকালীনই আইচি নাগোয়ায় আছড়ে পড়েছে টাইফুন দুজুয়ান। তার জেরে রোয়িংয়ের প্রতিযোগিতার মেয়াদ কমিয়ে দেওয়া হয়। চারদিনের বদলে দু'দিনে নেমে যায়। ফলে একেবারে ওলটপালট হয়ে যায় রোয়িংয়ের লাইন আপ। প্রায় প্রত্যেক অ্যাথলিটকেই এমন বিভাগে নামতে হয়, যার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতিটুকুও ছিল না। সিঙ্গল স্কালসের প্রতিযোগীদের নামতে হয় কোয়াড্রিপলে, উলটোটাও করিয়ে দেওয়া হয়। ডাবলস থেকেও একইরকম রদবদল করা হয়।
আরও পড়ুন:
দীর্ঘদিন প্রস্তুতির পর এশিয়াডে নামার ঠিক আগে এমন রদবদলে স্বভাবতই বিরক্ত হয়ে পড়েন রোয়াররা। কেউ কেউ খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেন হতাশায়। প্রতিযোগিতায় নামার আগে ক্যাম্পে একটা অশান্তির পরিবেশ ছিল বলেই রোয়ারদের দাবি। যদিও রোয়িং ফেডারেশন বলছে, দলের স্বার্থেই এই রদ বদলগুলি করা হয়েছিল। কিন্তু রোয়ারদের মতে, এইভাবে ইভেন্ট বদলে না দিলে আরও অনেক ভালো পারফরম্যান্স হতে পারত এশিয়াডের মঞ্চে। শেষ পর্যন্ত পুরুষদের ডাবলস স্কালস থেকে ব্রোঞ্জ আনেন সলমন-সতনাম।
পদক জিতে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে সতনাম বলেন, "বাধ্য হয়েই আমাদের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নামতে হয়। যদি আমরা না নামতাম তাহলে হয়তো দেশদ্রোহী বলবে আমাদের, এই ভয়টাও ছিল।" সতনামের আপসোস, যদি নিজেদের পছন্দমতো ইভেন্টে নামতে পারতেন তাহলে হয়তো সোনাও জিততে পারতেন। তাই ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ জিতেও খুশি নন ভারতীয় জুটি। প্রশ্ন উঠছে, এশিয়াডের জন্য দীর্ঘদিন একরকমভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার পর কেন আচমকা পালটে দেওয়া হল ইভেন্ট? রোয়ারদের জিজ্ঞাসা করে কি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল? নাকি তাঁদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা না জেনেই বদলের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়?