'অ্যাক্সিডেন্টাল' জুটিতে সোনা শুটিংয়ে, কমলজিৎ বলছেন, 'পরিবারের লড়াই সোনা জয়ের জ্বালানির উৎস'
Arpan Das
অবশেষে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস (Asian Games 2026) শুটিংয়ে সোনার অপেক্ষা শেষ হল ভারতের। শুক্রবার ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের মিক্সড টিম ইভেন্টে পোডিয়ামের শীর্ষে উঠলেন ভারতের দুই শুটার সুরুচি সিং এবং কমলজিৎ। ৪৮৪.৬ পয়েন্ট স্কোর করে সোনা জয়ের পথে নতুন গেমস রেকর্ডও গড়ল এই জুটি।
অথচ, প্রাথমিকভাবে এই ইভেন্টে খেলার কথাই ছিল না কমলজিতের। ফেডারেশন যে স্কোয়াড ঘোষণা করেছিল, তাতে সুরুচির সঙ্গে জুটি বাঁধতেন আর এক শুটার কেদারলিং উচাগানভে। তবে একদিন আগে ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের ব্যক্তিগত রাউন্ডে একেবারেই ভালো হয়নি কর্নাটকী শুটারের পারফরম্যান্স। তাই কোচ সমশের জং এবং অন্যরা সিদ্ধান্ত নেন, সুরুচির সঙ্গে এই ইভেন্টে অংশ নেবেন কমলজিৎ। নাগোয়া থেকে অনলাইন ইন্টারভিউতে সোনাজয়ী এই শুটার বলছিলেন, "আমি জানতাম, বৃহস্পতিবারই আমার সব ইভেন্ট শেষ হয়ে গিয়েছে। আর তাতে কোনও পদক না পেয়ে খারাপ লাগছিল খুব। কারণ আমার পরিবার অনেক লড়াই করেছে আমাকে এখানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। ফলে এশিয়াড থেকে খালি হাতে ফিরতে হবে ভেবে মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তারপরই কোচ বলেন যে, মিক্সড টিমে আমি খেলব। তখন ঠিক করে নিয়েছিলাম, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সোনা জিতবই।” অন্যদিকে সুরুচির কথায়, "ব্যক্তিগত ইভেন্টের ব্যর্থতা কাটানোর এই একটাই সুযোগ ছিল। সেটা নষ্ট করতে চাইনি। ফলে সোনা জিতে ভালো লাগছে।"
আরও পড়ুন:
অতীতে কখনও জুটি বাঁধেননি কমলজিৎ এবং সুরুচি। একসঙ্গে এশিয়াডে নামার মতো দু'জনের শুটিংয়ে আসাটাও 'অ্যাক্সিডেন্ট'! বিখ্যাত 'গুংগা পেহলবান' বা বীরেন্দ্র সিং যাদব সম্পর্কে সুরুচির কাকা। তাঁর পথ ধরেই কুস্তিতে নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আখড়ায় কলার বোন ভেঙে যাওয়ার পর তাঁকে আর কুস্তি চালিয়ে যেতে দেননি সেনাকর্মী পিতা ইন্দর সিং। তাই শুটিংয়ের মতো নিরাপদ খেলায় হাতেখড়ি হয় সুরুচির। কমলজিৎ আবার সেনাসদস্য হওয়ার লক্ষ্যে অ্যাথলেটিক্স শুরু করেছিলেন। কিন্তু চোটের জন্য সেই খেলা ছাড়তে হয়। তিনিও বছর সাতেক আগে কাকার সূত্রে শুরু করেন শুটিং। কমলজিতের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে শুটিংয়ের খরচ বহন করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু তাঁর বাবা রতিরাম ধার করে হলেও ছেলেকে খেলা চালিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করেন। তিন বছর আগে এক অটো দুর্ঘটনায় পা ভাঙে কমলজিতের। হাসপাতাল আর বাড়ি মিলিয়ে প্রায় সাত মাস শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। সেই খরচও বহন করেছে তাঁর পরিবার। এদিন সোনা জিতে তাই নিজেদের পিতা এবং পরিবারকে পদক উৎসর্গ করলেন সুরুচি-কমলজিৎ।
নিজেদের পিতার মতো আরও একজনকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন দুই সোনাজয়ী। কোচ সমশেরকে। যিনি ব্যক্তিগত ইভেন্টের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠে সোনালি সাফল্যের মন্ত্র দিয়েছিলেন দু'জনকে। কমলজিৎ শোনালেন, "কোচ বলেছিলেন, যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। সেটা নিয়ে ভাবলে চলবে না। বরং ভবিষ্যতে নজর দিতে হবে। স্বাভাবিকভাবে পারফর্ম করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।" এদিন শুট করার ফাঁকে বারবারই পাশে দাঁড়ানো সমশেরের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছে কমলজিৎকে। একইসুরে সুরুচির বার্তা, "ব্যক্তিগত ইভেন্টের ব্যর্থতা ভোলা কঠিন ছিল। কিন্তু কোচের পরামর্শে আমরা সেসব ভুলে আজকে সোনা জিতলাম।” এদিন আরও একটা রুপো এসেছে শুটিংয়ে। ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি পজিশনে ১৭৬২ পয়েন্ট স্কোর করে দ্বিতীয় হয়েছেন ঐশ্বরীপ্রতাপ সিং তোমর, নীরজ কুমার এবং রুদ্রাংশ পাটিল। যদিও ব্যক্তিগত ইভেন্টে ব্যর্থ হয়েছেন তাঁরা।