'তিন বছরের যন্ত্রণার শেষ হল', এশিয়াডে পদক জিতে আবেগঘন শুটার তিলোত্তমার
Prasenjit Dutta
বছর চারেক আগের কথা। বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা এক বাঙালি কিশোরী তখন ভারতীয় শুটিংয়ে আলোচনার কেন্দ্রে। ১৪ বছর বয়সেই বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে জোড়া পদক। পরের বছর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে নজরকাড়া পারফরম্যান্স, সঙ্গে বিশ্বকাপে রুপো। জিতে নেন প্যারিস অলিম্পিকের কোটাও। অনেকেই ভেবেছিলেন, ২০২৩ এশিয়ান গেমসের দলে নিশ্চিতভাবে থাকবেন তিনি। তবে জাতীয় শুটিং ফেডারেশনের নীতির কারণে হাংঝৌয়ের বিমানে ওঠা হয়নি তাঁর।
অবশেষে অপেক্ষা শেষ হল তিলোত্তমা সেনের। ৫০ মিটার থ্রি পজিশনের টিম ইভেন্টে রুপো পেয়ে। যা তাঁর প্রথম এশিয়ান গেমস (Asian Games 2026) মেডেল। নাগোয়া থেকে হোয়াটসঅ্যাপ কলে তিলোত্তমা বলছিলেন, “আগের এশিয়ান গেমসের জন্য নেওয়া জাতীয় ট্রায়ালে আমি তৃতীয় হয়েছিলাম। কিন্তু সেবার একজন শুটারকে দু’টো ইভেন্টে নামানোর ফলে আমি দলে জায়গা পাইনি। সেটা নিয়ে আক্ষেপ ছিলই। আজকে সেই আক্ষেপ মিটল।”
আরও পড়ুন:
এদিন ১৭৬৩ পয়েন্ট নিয়ে রুপো পাওয়া দলে তিলোত্তমার সঙ্গে ছিলেন অসি চৌকসি এবং ভিদার্ষা কোচালুমকাল। তবে নতুন একটা আক্ষেপ নিয়েই জাপান থেকে ফিরছেন এই বাঙালি শুটার। ব্যক্তিগত ইভেন্টে একটুর জন্য পদক হাতছাড়া হয়েছে তাঁর। “সত্যি বলতে, মিশ্র অনুভূতি হচ্ছে। একটা ইভেন্টে পদক পেয়েছি। আরেকটাতেও পেতে পারতাম। একটুর জন্য হাতছাড়া হল। ফলে খারাপও লাগছে। তবে নিজের প্রথম এশিয়ান গেমস থেকে খালি হাতে ফিরছি না। সেটা ইতিবাচক দিক আমার কাছে।” কনিষ্ঠতম ভারতীয় হিসেবে এশিয়াড শুটিংয়ে পদক জিতলেন তিলোত্তমা। যে তথ্য আরও বাড়িয়েছে তাঁর সাফল্যের আনন্দ।
ব্যক্তিগত ইভেন্টে একটা সময় পর্যন্ত শীর্ষে ছিলেন তিলোত্তমা। কিন্তু স্ট্যান্ডিংয়ের তৃতীয় সিরিজে ৯.৭ এবং পঞ্চম সিরিজে ৯.৪ স্কোর করেই পিছিয়ে পড়েন। সবমিলিয়ে ০.৮ পয়েন্টের জন্য ব্রোঞ্জ হাতছাড়া হয় তাঁর। যে পারফরম্যান্স নিয়ে তিলোত্তমা বলছিলেন, “এখনও বুঝতে পারছি না, কী হয়েছিল। মনে হয় আমি শুট করতে একটু বেশি তাড়াহুড়ো করে ফেলেছি। যাই হোক, আমি ভবিষ্যতে ফাইনাল খেলার জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নেব।”
নতুন লক্ষ্যও স্থির করে ফেলেছেন এই বাঙালি শুটার। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক। “আমার লক্ষ্য অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা। গতবার কোটা জিতলেও যেতে পারিনি। এবার নিজেকে সেভাবেই তৈরি করতে চাই।” তিলোত্তমা জন্ম থেকেই বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা হলেও তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নদিয়ার চাকদহে। যেখানে এখনও সপরিবারে নিয়মিত যাতায়াত করেন তাঁর বাবা সুজিত সেন।