বিপ্লব চন্দ্র দত্ত, কৃষ্ণনগর: ক্ষুদ্র দুর্গা প্রতিমা। উচ্চতা হাফ ইঞ্চি থেকে সামান্য একটু বড়। আর চওড়ায় মেরেকেটে দুই ইঞ্চি। এমনই এক অভিনব দুর্গা প্রতিমা বানিয়েছেন নদিয়ার রানাঘাটের রামনগর বড়বাজারের শিল্পী মানিক দেবনাথ। কাগজের মণ্ড তৈরি করে তার মধ্যে আঠা ও রং মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে অভিনব এই দুর্গাপ্রতিমা। এটি সাজানো হয়েছে জরির সাজে।
৫৮ বছরের শিল্পী মানিক দেবনাথ ক্ষুদ্র দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে আসছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। অথচ মানিক দেবনাথ পেশায় একজন তাঁতের সুতোর ব্যবসায়ী। পেটের তাগিদে ও সংসার চালানোর প্রয়োজনে সুতোর ব্যবসা করতে হলেও শিল্প ভাবনা তাঁর ছোট থেকেই। এই বয়সেও শিল্পকর্মের নেশা তাঁর পিছু ছাড়েনি। তাঁর শিল্প কর্মের মধ্যে ব্যতিক্রমী ভাবনার ছাপ পাওয়া গিয়েছে এর অনেক আগেই। ১৯৯৫ সাল থেকেই শুরু মূর্তি গড়া। গত ৯ বছর ধরে ক্ষুদ্র প্রতিমা তৈরিতে তিনি ব্যবহার করেছেন বিভিন্ন রকমের উপাদান। তিনি ন’বছর আগে স্লেটপেন্সিল দিয়ে প্রথম তৈরি করেছিলেন ক্ষুদ্র দুর্গা। এরপর আর থেমে থাকেননি মানিক দেবনাথ। গত ৯ বছর ধরে একের পর এক ক্ষুদ্র দুর্গা প্রতিমা তৈরি করে তিনি নিজের শিল্প দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। স্লেটপেন্সিল দিয়ে শুরু করার পর ছোলার ডালের ওপরে, কখনও কাঠের আঁশ, কখনও সুপুরি, কখনও শুকনো পাতাকে বেছে নিয়েছেন তার প্রতিমা তৈরীর উপাদান হিসাবে। শুধু তাই নয়, জবা ফুলের পাঁপড়ি, রঙিন পেপার দিয়েও তৈরি করেছেন ক্ষুদ্র দুর্গাপ্রতিমা।
[ আরও পড়ুন: মায়ের কোনও জাত-ধর্ম হয় না, পুজোর থিমে সমাজ সচেতনতার বার্তা হাওড়ায় ]
তবে এবারে তাঁর ক্ষুদ্র প্রতিমা তৈরির উপাদান জরি, কাগজ, আঠা ও রং। এ বছর তিনি তৈরি করেছেন উচ্চতায় হাফ ইঞ্চি থেকে একটু বড় এবং চওড়া দু’ইঞ্চি আকারের ক্ষুদ্র দুর্গাপ্রতিমা। মূলত আঠা ও রং দিয়ে তৈরি করেছেন এ বছরের দুর্গা প্রতিমা। অঙ্গ সজ্জায় ব্যবহার করেছেন জরি ও কাগজ। মানিক দেবনাথ বলেছেন, “এবারের আমার এই প্রতিমা তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় দেড় মাস। প্রতিদিন রাত জেগে তিন থেকে চার ঘণ্টা কাজ করতে হয়েছে। ব্যবসা ও সংসারের কাজ সেরে রাতেই মূলত আমাকে এই কাজে সময় দিতে হয়।” এই ধরনের ক্ষুদ্র প্রতিমা তৈরি করে কোনও পারিশ্রমিক তিনি পান না। জীবনের এই বয়সে এসে নিজের শিল্পকর্মের বিনিময় হিসাবে অর্থ রোজগারের তেমন কোন ইচ্ছা আর তাঁর নেই। শুধু স্বপ্ন তাঁর একটাই, তাঁর তৈরি ক্ষুদ্র দুর্গা প্রতিমা যাতে ভালভাবে সংরক্ষণ করা যায়।
নিজের হাতে তৈরি ক্ষুদ্র এই দুর্গাপ্রতিমাগুলি তাঁর দেখানোর সৌভাগ্য হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও প্রাক্তন রাজ্যপাল বীরেন শাহকে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। সরকারি সাহায্য পেলে তাঁর তৈরি শিল্পকর্মগুলি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন ওই শিল্পী।
[ আরও পড়ুন: দালানে সুরের মূর্চ্ছনা, ১৬দিনের দুর্গাপুজোয় উচ্চাঙ্গ সংগীতের আসর পঞ্চকোট রাজবাড়িতে ]
The post আধ ইঞ্চির সপরিবার দুর্গা! অনন্য নজির রানাঘাটের শিল্পীর appeared first on Sangbad Pratidin.
