২০ হাজার সেনা, ৩ বিমানবাহী রণতরী! ইরানে 'চতুরঙ্গ' বাহিনী পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প, এবার 'বুট অন গ্রাউন্ড'?
Amit Kumar Das
যুদ্ধ শুরু মাস খানেক পরই জল্পনা শুরু হয়েছিল ইরানের মাটিতে সেনা নামিয়ে অভিযান শুরু করতে চলেছে আমেরিকা। যদিও পরবর্তী সময়ে সে সম্ভাবনা ঠাণ্ডা ঘরে চলে যায়। অবশেষে চাপা পড়ে যাওয়া সে ব্লুপ্রিন্ট নতুন করে সাজাতে শুরু করল পেন্টাগন। সেই সম্ভাবনাই ক্রমশ জোরাল হয়ে উঠছে। সংঘর্ষবিরতির যাবতীয় সম্ভাবনা একে একে বাতিল হওয়ার পর ইরানকে ঘিরে ফেলতে শুরু করল আমেরিকা। আরব সাগরে ২টি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো হয়েছিল আগেই, এবার পাঠানো হল আরও এক বিমানবাহী রণতরী। সবমিলিয়ে ৩ বিমানবাহী রণতরীর সঙ্গে সমুদ্রে মোতায়েন করা হচ্ছে অন্তত ২০ হাজার নৌসেনা।
মার্কিন সেনার রিপোর্ট অনুযায়ী, সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে মার্কিন সেনার বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে। এই জাহাজে রয়েছে ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা ও নাবিক। পশ্চিম এশিয়ার জলসীমায় ইতিমধ্যেই রয়েছে ইউএসএস জর্জ ডব্লু বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। ফলে রুজভেল্ট সেখানে পৌঁছলে মার্কিন বাহিনীর ৩ বিমানবাহী রণতরী আরব সাগরে যে কোনও শত্রুর মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে। রিপোর্ট বলছে, ২০২৬ সালের এপ্রিলের পর এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের সংবেদনশীল অঞ্চলে একযোগে তিনটি পরমাণু শক্তিচালিত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করবে।
আরও পড়ুন:
রিপোর্ট বলছে, ২০২৬ সালের এপ্রিলের পর এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের সংবেদনশীল অঞ্চলে একযোগে তিনটি পরমাণু শক্তিচালিত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করবে।
এদিকে সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যেই ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা ও প্রায় ২০টি প্রথম সারির যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। এই বিরাট সংখ্যায় সেনা মোতায়েনের ঘটনায় স্পষ্ট যে বড়সড় কোনও হামলার প্রস্তুতি শুরু করেছে আমেরিকা। এই সেনা মোতায়েনের প্রাথমিক লক্ষ্য অবশ্যই হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদে নৌ চলাচল অব্যাহত রাখা। এবং যে কোনও হামলা প্রতিহত করা। যদিও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান বাহিনীর মোতায়েন শুধু প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপই নয়, বরং ইরানের বিরুদ্ধে একটি সম্ভাব্য বড় সামরিক অভিযানের জন্য পূর্বপ্রস্তুতি। হতে পারে এত দিনের অপেক্ষার পর এবার সরাসরি ইরানের মাটিতে সেনা নামাতে পারে আমেরিকা।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে যুযুধান দুই পক্ষের আলোচনার পর ইরানের তরফে যে শর্ত দেওয়া হয়েছিল তা খারিজ করা হয়েছে বলে জানায় আমেরিকা। পাশাপাশি কড়া সুরে ট্রাম্প হুমকি দেন ধ্বংস করে দেওয়া হবে ইরানকে। পালটা প্রস্তুতি শুরু করেছে ইরানও। নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আইআরজিসিকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। তেহরান সতর্ক করেছে, আমেরিকার যে কোনও উস্কানি বা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের চেষ্টা হলে কড়া জবাব দেওয়া হবে।