এশিয়াডে গিয়ে লবিতে ঘুম অ্যাথলিটদের, 'একটু থাকতে দিন', প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে আর্জি মোদি সরকারের
Anwesha Adhikary
দেশের প্রতিনিধি হিসাবে তাঁরা গিয়েছেন পদক জিততে। কিন্তু সেই অ্যাথলিটদেরই ঘুমাতে হচ্ছে অভিবাসন দপ্তরের সোফায়। হোটেল পেতে রাত আড়াইটে বেজে যাচ্ছে। এশিয়ান গেমসে (Asian Games 2026) অ্যাথলিটদের এহেন দুর্দশা কাটাতে উদ্যোগ নিল মোদি সরকার। আয়োজক আইচি-নাগোয়ার ব্যর্থতার জন্য দেশের ক্রীড়াবিদদের যেন ভোগান্তি না হয়, তার জন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক। অন্তত অ্যাথলিটদের থাকা-খাওয়াটুকু যেন নিশ্চিত হয়, তার জন্য জাপানে থাকা ভারতীয়দের সাহায্যও চাওয়া হয়েছে।
এবারের এশিয়ান গেমসকে ‘নিকৃষ্টতম’ আখ্যা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। অ্যাথলিটরা ঘর পাচ্ছেন না। অনেক সময় মাত্র একটা রাতের জন্য হোটেল দেওয়া হচ্ছে অ্যাথলিটদের। প্রতিযোগিতার আগে দল কোথায় অনুশীলন করবে, তাও জানা নেই অনেকের। ভারতীয় কন্টিনজেন্টের অর্ধেক এখনও জাপানে পৌঁছয়নি, তাতেই এমন সমস্যা। প্রায় পাঁচদিন ধরে এই অবস্থা চলছে, অথচ আয়োজকদের তরফে সমস্যা সমাধানের চেষ্টাটুকু দেখা যায়নি। বাধ্য হয়ে কেন্দ্রের সাহায্য চান শেফ দ্য মিশন-সহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার জাপানে পৌঁছে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য। আইচি-নাগোয়াতে অন্তত ২ হাজার ভারতীয় বসবাস করেন। তাঁদের কাছে ক্রীড়ামন্ত্রীর আবেদন, অ্যাথলিটদের জন্য তাঁরা যেন বাড়ির দরজা খুলে দেন। জানা গিয়েছে, আপাতত ১৫টি বাড়িকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে অ্যাথলিটদের জন্য। এছাড়াও বিমানবন্দরে থাকবেন দু'জন শেফ দ্য মিশন। অভিবাসনের প্রক্রিয়ায় সাহায্য করবেন। অ্যাথলিটদের জন্য বাসও ভাড়া করেছে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক যেন আয়োজকদের পাঠানো গাড়ির উপর ভরসা রাখতে না হয়।
এশিয়ান গেমসের ওয়েলকাম সেন্টারেও আধিকারিকদের রাখা হয়েছে যেন সুষ্ঠুভাবে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তারপর যদি অ্যাথলিটরা থাকার জায়গা সঙ্গে সঙ্গে না পান, তখন আমজনতার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে তাঁদের যেন বিশ্রামটুকু নিতে পারেন। মনে করা হচ্ছে, আইচি-নাগোয়ায় হোটেলের সংখ্যা খুবই কম ফলে থাকার সংকট হবেই। তাই ভারতীয়দের বাড়ির উপর ভরসা রাখতেই হবে। প্রশ্ন উঠছে, যথাযথ পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও এতবড় প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হল কেন জাপানের শহরটিকে?