ধীরে ধীরে মুসলিমদের শেষ করে দিচ্ছে চিন! কীভাবে 'ড্রাগনে'র কামড়ে ক্ষতবিক্ষত উইঘুররা?
Biswadip Dey
উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে জিনপিং প্রশাসনের আগ্রাসনের অভিযোগ বারবার উঠেছে। কিন্তু কেবলই উইঘুর নয়, তুরস্কের মুসলিমদের প্রতি জিনপিং প্রশাসনের অত্যাচার লাগামছাড়া হয়ে উঠেছে। এমনই ছবি উঠে এসেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলির সাম্প্রতিক রিপোর্টে।
উত্তর-পশ্চিম চিনের জিনজিয়াং প্রদেশই দেশটির একমাত্র অঞ্চল যেখানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই অঞ্চলে উইঘুরদের পাশাপাশি কাজাখ, কিরঘিজ এবং অন্যান্য মুসলিম জনগোষ্ঠীর আধিক্য। এরাঁ জাতিগতভাবে তুরস্কের বংশোদ্ভূত। আর এই অঞ্চলে চিনের অত্যাচার কোনও নতুন কথা নয়। তবে বর্তমানে তা যেন সব সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, প্রায় ১০ লক্ষ মানুষকে আটকে রাখা হয়েছে নানা অছিলায়। কাউকে রাখা হয়েছে রাজনৈতিক শিক্ষাকেন্দ্রে। কাউকে রাখা হয়েছে বিচার-পূর্ব আটক কেন্দ্রে।
আরও পড়ুন:
অভিযোগ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই আদালত কঠোর কারাদণ্ড দিয়ে দিচ্ছে বহু ক্ষেত্রে। এমনকী পরিবারের কোনো সদস্যের কাছে ইসলামি ধর্মীয় অডিও-ভিডিও পাঠানো কিংবা উইঘুর ভাষায় ই-বুক ডাউনলোড করার মতো সাধারণ কারণেও দিনের পর দিন জেলে পচতে হচ্ছে অনেককে। কেবল আটক করে রাখাই নয়, বন্দিদের উপরে অকথ্য নির্যাতনের কথাও জানা যাচ্ছে। উইঘুর-সহ সব মুসলিমদের উপরই সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বলপূর্বক শ্রমও করানো হচ্ছে।
কেবল আটক কেন্দ্রেই নয়, এর বাইরেও দমন-পীড়নের ছবিটা একই। তুর্কিভাষী মুসলিমদের ওপর ব্যাপক গণ-নজরদারি চালানো হচ্ছে। তারপর 'পান থেকে চুন খসলেই' খেয়ালখুশি মতো গ্রেপ্তার করার ঘটনা ঘটেছে। মুছে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে তাঁদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অস্তিত্বও! এমনকী বিচ্ছিন্ন করে রাখা হচ্ছে পরিবার-পরিজনের থেকেও। ২০১৭ সাল থেকে চিন প্রশাসন বিভিন্ন অজুহাতে জিনজিয়াংয়ের দুই-তৃতীয়াংশ মসজিদও ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক মসজিদ পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন বিদেশ দপ্তর এবং কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের পার্লামেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় চিনের এই কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে গণ্য করা হবে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালে চিনের মোট গ্রেপ্তারির প্রায় ২১ শতাংশই ঘটেছে জিনজিয়াংয়ে। অথচ দেশটির মোট জনসংখ্যার মাত্র ১.৫ শতাংশ মানুষ সেখানে বসবাস করে! এই একটি পরিসংখ্যান বুঝিয়ে দিচ্ছে ছবিটা কেমন।
চিনে উইঘুরদের উপরে হওয়া নির্যাতন নিয়ে সমালোচনা আজকের নয়। আগেও রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ধর্ষণ, পুরুষদের জোর করে নির্বীজকরণের মতো ঘটনা ঘটেছে সেখানে। এমনকী, হঠাৎই নিজের বাড়ি থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে অনেকে। পরে যাদের আর কোনও খোঁজ মেলেনি। সাম্প্রতিক রিপোর্টের দাবি সত্যি হলে, সেই পরিস্থিতি ক্রমেই আরও খারাপ হয়েছে।