ভারত থেকে সোজা তেল যাবে ইউরোপে! 'অবাধ্য' ইরানকে পাশ কাটাতে ট্রাম্পের 'দিল্লি ফর্মুলা'
Biswadip Dey
রাষ্ট্রসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ৩ ঘণ্টার বৈঠক সেরেছে ইরান। হরমুজ খুলতে আমেরিকাকে শর্ত দিয়েছে তেহরান। এমতাবস্থায় ইরানকে পাশ কাটাতে অভিনব প্রস্তাব দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ পাইপলাইনে তেল পাঠিয়ে তেল পরিবহণের ক্ষেত্র হিসেবে ইরান থেকে দূরে যাওয়ার 'মাস্টারপ্ল্যান' দিলেন তিনি। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ফাঁকেই এমন মন্তব্য করলেন তিনি।
ট্রাম্পকে (Donald Trump) বলতে শোনা গিয়েছে, ''প্রতিবেশী দেশগুলির বাণিজ্যিক নৌ-চলাচলের ওপর ইরানের সন্ত্রাসী হামলা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোকে ইরানের চেকপয়েন্টগুলির আওতামুক্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকেই তুলে ধরেছে। আর সেই কারণেই আমার প্রশাসন ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-অর্থনৈতিক করিডরের মাধ্যমে তেল পরিবহণের পক্ষপাতী। সে পাইপলাইনই হোক বা অন্য কোনও উপায়ে।''
আরও পড়ুন:
বলে রাখা বালো, আইইএমসি আর্থিক করিডর এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প। ২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনে প্রথমবার উন্মোচিত হয়েছিল এই প্রকল্পটি। রেল, জাহাজ, শক্তি ও ডিজিটাল লিঙ্ককে একত্রিত করার পরিকল্পনা এই প্রকল্পকে ঘিরে। ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যকে জুড়ে ইউরোপ পর্যন্ত সংযুক্ত করবে এই প্রকল্প। এবার সেই প্রকল্পকেই হরমুজের 'সমাধান' হিসেবে দেখাতে চাইছেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, ট্রাম্প ইরান থেকে দূরে সরে যাওয়ার এই 'মাস্টারপ্ল্যান'-এর কথা বলায় এই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি তিনি এর মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে 'বন্ধু' ইরানের সম্পর্কেও ফাটল ধরাতে চাইছেন?
এদিকে রাষ্ট্রসংঘে অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাঘাচি। সেখানে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি হরমুজ খোলার বিষয়ে কথা হয় দু’জনের। সূত্রের খবর, বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিকে আরাঘাচি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, আমেরিকাকে নৌ অবরোধ তুলতে হবে, বিদেশে ইরানের যে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তা ফেরাতে হবে এবং হামলা বন্ধ করতে হবে ইরান-সহ বাকি অঞ্চলগুলিতে। তবে বৈঠকের পর আমেরিকার তরফে স্পষ্ট কোনও বার্তা সামনে আসেনি।