জেহাদি পাইলটের পোস্টে আল কায়দা জঙ্গির ছবি! তবুও কেন রুখতে পারেনি মোসাদ?
Biswadip Dey
ফ্লাই দুবাইয়ের বিমানের ককপিটে হামলার (Flydubai Cockpit Attack) নেপথ্যে থাকা পাইলট সম্পর্কে নানা তথ্য সামনে আসছে। জানা যাচ্ছে, নিজের সোশাল মিডিয়া পোস্টে নানারকম মৌলবাদী পোস্ট করতে দেখা গিয়েছিল তাকে। এমনকী আল কায়দা জঙ্গি জাওয়াহিরির ছবিও! যা থেকে পরিষ্কার, বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদের আদর্শে দীক্ষিত হয়ে উঠেছিল হামাম আল-হামামি। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছেই, কেন মোসাদের মতো সংস্থাও তার সম্পর্কে কিছু খবর রাখতে পারেনি। তবে ওই সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টটি সত্যিই হামামের কিনা তা খতিয়ে দেখেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল।
‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাই দুবাইয়ের সেই কো-পাইলটের বিরুদ্ধে এর আগে ওমানের বিমান চালানোর উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তার আদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উদ্বেগের কারণেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল বলেই জানানো হয়েছে। সৌদি সম্প্রচারমাধ্যম ‘আল-আরাবিয়া’র দেওয়া তথ্যানুসারে, ওই কো-পাইলটের নাম হামাম আল-হামামি এবং সে ওমানের নাগরিক। তবে তার উপরে জারি হওয়া নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অন্য দেশ বা বিমান সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছিল কি না, তা অস্পষ্ট। দাবি, সে বিমানটি ইজরায়েলে আছড়ে ফেলার মতলব কষেছিল। যা শেষপর্যন্ত ব্যর্থ হয়। তার পোস্টে শেয়ার করা ভিডিওয় জাওয়াহিরিকেও দেখা গিয়েছে। এহেন এক ব্যক্তি কী করে ইজরায়েলের বিমান চালানোর অনুমতি পেল তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
প্রথম থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, কে এই হামলাকারী? ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ফ্লাইদুবাই বিমানের ককপিটে হামলাকারী ‘ইসলামপন্থী ও উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত’ ছিল। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেননি। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ওমানি সহ-পাইলটের মগজধোলাইয়ের নেপথ্যে কে বা কারা ছিল। তাও তিনি বলতে পারেননি। তবে তিনি এটাও বলেন, “নিয়মের ত্রুটির কারণে ওমানি পাইলট ইজরায়েলের ফ্লাইটটি চালাতে পেরেছিলেন। এই নিয়ম সংশোধন করা প্রয়োজন।” বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সঙ্গে তদন্তে পুরোপুরি সহায়তা করবে ইজরায়েল।
আর এখানেই উঠছে প্রশ্ন। কেন ইজরায়েলের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের মতো বিশ্বখ্যাত সংস্থাও আগে থেকে কোনও তথ্য পেল না কেন। একটা কথা অবশ্য শোনা যাচ্ছে, হামামের নাকি দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল! যদিও তা এখনও প্রমাণিত নয়। তবে যদি সত্যিই দেখা যায় তা রয়েছে, তাহলেও প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে। কেন ওমানের জারি করা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ইজরায়েল প্রশাসন মাথা রাখেনি। আপাতত চর্চা এই সব কিছু নিয়েই।