বিপদকালে স্বামীকে যোগ্য সঙ্গত স্ত্রীর! স্মিতের সহধর্মিণীর মানসিক দৃঢ়তা প্রশংসিত নেটদুনিয়ায়
Sucheta Sengupta
বিপদের সময় মাথা ঠান্ডা রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন দার্শনিকরা। তাতেই নাকি বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষ কি আর দৈনন্দিন জীবনে স্নায়ুচাপ এতটা ধরে রাখতে পারেন? উত্তরটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বোধহয় 'না'। কিন্তু এও ঠিক যে সাধারণ মানুষের মধ্যেই অসাধারণত্বের প্রতিফলন দেখা যায় কখনও কখনও। মানসিক দৃঢ়তা, সাহসিকতা, সততায় তাঁরা হয়ে ওঠেন অনন্য। এই মুহূর্তে দুবাইয়ে কর্মরত ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর আমাদের কাছে সেই 'রিয়েল হিরো'। স্মিতের এই সাহসিকতা আর বিশাল মানবিক হৃদয়ের নেপথ্যে যিনি, তাঁর কথা জানেন কি? তিনি আর কেউ নন, স্মিতের সহধর্মিণী সোনাল মচ্ছর। এই মহিলার মানসিক দৃঢ়তা অকল্পনীয়! যেভাবে তিনি জীবনের এত কঠিন সময় সামলেছেন, সেই কাহিনি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে সোনালের বিপুল প্রশংসা নেটদুনিয়ায়।
মচ্ছর পরিবারের প্রতিবেশী ডাঃ আরতি শর্মার পোস্ট থেকে জানা যাচ্ছে, যখন ফ্লাই দুবাইয়ের উড়ন্ত বিমানে পাইলট স্মিতের সংকটের কথা জানানো হয় স্ত্রী সোনালকে, তিনি অস্বাভাবিক শান্ত ছিলেন। প্রতিবেশীরা জানতে চেয়েছিলেন, তিনি মানসিকভাবে ঠিক আছেন কিনা। দৃঢ়তার সঙ্গে সোনাল জানান, পরিবারের কাছে অত্যন্ত কঠিন সময় হলেও তিনি মানসিকভাবে সুস্থ-স্বাভাবিক রয়েছেন। পাশে থাকার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন সোনাল।
দুবাইয়ে মচ্ছর পরিবারের আবাসনেই থাকেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ আরতি শর্মা। তিনি সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন ফ্লাই দুবাইয়ের বিমানে চরম সংকটের খবর পেয়ে ঠিক কেমন প্রতিক্রিয়া ছিল স্মিতের স্ত্রী সোনালের। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী উড়ানে মাঝআকাশে সহ-পাইলটের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। স্রেফ উপস্থিত বুদ্ধির জোরে রক্তাক্ত অবস্থায় বিমানের শ' খানেক যাত্রীকে বাঁচাতে তিনি যা করেছেন, তাতেই বিশ্বজুড়ে সকলের কুর্নিশ কুড়াচ্ছেন স্মিত। ঘটনার দিন দুই পর সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সরকার জানিয়েছে, মাঝআকাশে জঙ্গি হামলার উদ্দেশেই পাইলটের উপর আক্রমণ করেছিল সহ-পাইলট ওমানের বাসিন্দা হামাম আল-হামামি। সেই হামলা আটকানো শারীরিক, মানসিকভাবে কতটা যে কঠিন ছিল, স্মিতই সবচেয়ে ভালো জানেন। আর জানেন তাঁর সহধর্মিণী। কারণ, তাঁকে সামলাতে হয়েছিল পরিবার, লড়তে হয়েছিল মানসিক আতঙ্কের সঙ্গে।
আরও পড়ুন:
মচ্ছর পরিবারের প্রতিবেশী ডাঃ আরতি শর্মার পোস্ট থেকে জানা যাচ্ছে, যখন ফ্লাই দুবাইয়ের উড়ন্ত বিমানে পাইলট স্মিতের সংকটের কথা জানানো হয় স্ত্রী সোনালকে, তিনি অস্বাভাবিক শান্ত ছিলেন। প্রতিবেশীরা জানতে চেয়েছিলেন, তিনি মানসিকভাবে ঠিক আছেন কিনা। দৃঢ়তার সঙ্গে সোনাল জানান, পরিবারের কাছে অত্যন্ত কঠিন সময় হলেও তিনি মানসিকভাবে সুস্থ-স্বাভাবিক রয়েছেন। পাশে থাকার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন সোনাল।
আরতি শর্মার পোস্ট, 'এমন অসম সাহসী কোনও ব্যক্তিকে নিয়ে আমরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করি, ধন্য ধন্য করি। কিন্তু ভেবে দেখি না, তাঁর এই দৃঢ়তার নেপথ্যে একটা গোটা পরিবারের কত বড় ভূমিকা আছে। কেউ বাড়িতে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে, তাঁর কাজে গর্ব অনুভব করছে-এই ভাবনাই বোধহয় একজনকে বাস্তব জীবনে হিরো বানিয়ে তোলে। স্মিতের বিপদের সময় সাহস আর কঠিন মনোভাব নিয়ে তাঁর পরিবার পাশে থেকেছে, এটাই বোধহয় বড় শক্তি।'