বিদ্রোহের জেরে নতিস্বীকারের ইঙ্গিত! হিজাব আইন পর্যালোচনা শুরু ইরানে

03:41 PM Dec 04, 2022 |
Advertisement

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ ইরান (Iran)। আরব বসন্তের স্মৃতি উসকে তেহরানের রাস্তায় ‘মোল্লাতন্ত্র নিপাত যাক’ স্লোগান দিচ্ছেন মুক্তমনারা। অনেকেই আবার ধর্মগুরুদের পাগড়ি কেড়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলছেন। পালটা, বিদ্রোহ দমনে অমানুষিক অত্যাচার চালাচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন তিনশোর বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে কি দেখা যাচ্ছে বরফ গলার ইঙ্গিত? ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, সেদেশের পার্লামেন্টে বহু দশকের পুরনো হিজাব আইনটি (Hijab law) পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ঠিক কোন দিকটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে তা তিনি পরিষ্কার না করলেও শেষ পর্যন্ত বিপ্লবের আঁচের সামনে প্রশাসন মাথা নত করতে পারে, এমন সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল।

Advertisement

ঠিক কী জানিয়েছেন ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল? তাঁর কথায়, ”বিচারবিভাগীয় দপ্তরের সঙ্গে পার্লামেন্টের সাংস্কৃতিক কমিশন এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে দেখছে। আইনটি পরিবর্তন করা প্রয়োজন কিনা তা পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।” ঠিক কী ধরনের পরিবর্তনের কথা বলতে চাইছেন, তা অবশ্য পরিষ্কার করেননি তিনি। কিন্তু জল্পনা শুরু হয়েছে, তাহলে কি বিদ্রোহের মুখে পড়ে নত হবে প্রশাসন। উত্তরের জন্য আপাতত অপেক্ষায় ওয়াকিবহাল মহল। এদিকে বিদ্রোহের চাপে পড়ে ইরান প্রশাসন ইতিমধ্যেই নীতি পুলিশ বিভাগটি বাতিল করে দিয়েছে। যা বোধহয় প্রমাণ করে দিচ্ছে, কতটা চাপ রয়েছে সরকারের উপরে।

[আরও পড়ুন: বৈঠকে যোগ দিতে দেশে জি২০ প্রতিনিধিরা, ডালবাটি চুড়মা থেকে যোধপুরি পোলাও, আয়োজন রকমারি]

উল্লেখ্য, ১৬ সেপ্টেম্বর ইরানের নীতি পুলিশের মারে মৃত্যু হয় তরুণী মাহসা আমিনির। তারপর থেকেই দেশজুড়ে চলছে প্রতিবাদী মিছিল। স্বৈরশাসকের বিরোধিতায় ইটালির বুকে তৈরি হওয়া ‘বেলা চাও’ গানটি গেয়ে ইরানের রাস্তায় প্রতিবাদ জানাচ্ছেন আরব দুনিয়ার মেয়েরা। হিজাব বিরোধী (Anti-Hijab) সেই আন্দোলনে শামিল পুরুষদের একাংশও। তাঁদের কণ্ঠেও ‘বেলা চাও’। এহেন প্রতিবাদের ভিডিও নিয়ে এখন নেটদুনিয়ায় জোর চর্চা।

Advertising
Advertising

প্রশাসনের রক্তচক্ষুতে গিয়েছে তিনশোর বেশি মানুষের প্রাণ। যদিও সরকারি হিসেবে বলছে মৃতের সংখ্যা দুশোর আশপাশে। পাশাপাশি তেহরানের দাবি, এই বিক্ষোভে আসলে ষড়যন্ত্র। এতে হাত রয়েছে আমেরিকার। একইসঙ্গে সরকারের আরও দাবি, এই আন্দোলনকে মদত দিচ্ছে ‘কোমলা’ বলে ইরানের একটি বামপন্থী সংগঠন এবং বেশ কয়েকটি জঙ্গি গোষ্ঠী। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহের আগুনে সরকার আইন বদলায় কিনা আপাতত সেদিকেই চোখ সারা বিশ্বের।

[আরও পড়ুন: দেশভাগের সময়ই পাকিস্তানে চলে যাওয়া উচিত ছিল মুসলিমদের, বিস্ফোরক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী]

Advertisement
Next