সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এতদিন মুখে কুলুপ এঁটে থাকার পর অবশেষে ভারত-পাক যুদ্ধবিরতি নিয়ে মুখ খুলল পাকিস্তান। নোবেল লোভী ট্রাম্পের দাবি খারিজ করে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশক দার বুঝিয়ে দিলেন, ভারত-পাক যুদ্ধবিরতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এতদিন ধরে যে দাবি করে আসছিলেন তা সর্বৈব মিথ্যা। ভারত নিজের নীতি মেনে এই ইস্যুতে তৃতীয়পক্ষের হস্তক্ষেপে রাজি হয়নি।
মঙ্গলবার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী মহম্মদ ইশক দার বলেন, ভারত-পাক যুদ্ধের সময় ইসলামাবাদ মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর কাছে মধ্যস্থতার দাবি জানিয়েছিল। তার জবাবে মার্কিন আধিকারিক জানিয়ে দেন, এটা দ্বিপাক্ষিক ইস্যু। ভারত এখানে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ মানবে না। আসলে সাংবাদিকের তরফে দারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এই সংঘর্ষ থামাতে ইসলামাবাদ কী তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে প্রস্তুত ছিল? উত্তরে তিনি বলেন, "আমাদের কোনও আপত্তি ছিল না। কিন্তু ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল, এটা তাদের দ্বিপাক্ষিক বিষয়। এখানে তারা তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ মানবে না।"
উল্লেখ্য, পহেলগাঁও হামলায় ২৬ মৃত্যুর বদলা নিতে ৭ মে পাকিস্তানে অপারেশন সিঁদুর শুরু করেছিল ভারত। এরপর ১০ মে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি দুই দেশের যুদ্ধবিরতি করিয়েছেন। ভারত সে দাবি খারিজ করে স্পষ্ট জানায়, পাকিস্তানের তরফে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এলে তাতে সম্মতি জানিয়েছিল ভারত। এতে তৃতীয়পক্ষের কোনও কৃতিত্ব নেই। তারপরও অন্তত ৩০ বার ট্রাম্প নানা জায়গায় একই দাবি করে গিয়েছেন। এই ঘটনায় দেশের অন্দরেও বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে পড়ে সরকার। এই পরিস্থিতিতেই ট্রাম্পের সে দাবি খারিজ করে সামনে এল পাক স্বীকারোক্তি।
ইশক দার জানান, সংঘর্ষ চলাকালীন ১০ মে মার্কিন বিদেশ সচিব রুবিওর তরফে আমার কাছে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়। আমাকে বলা হয়েছিল, "একটি নিরপেক্ষ জায়গায় পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সমস্যা মেটাতে আলোচনায় বসা হবে। এরপর ২৫ জুলাই ওয়াশিংটনে রুবিও'র সঙ্গে বৈঠকে আমি বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করি। তিনি জানান, ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে এটা দ্বিপাক্ষিক বিষয়।" এর সঙ্গেই দার জানান, "আমাদের তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে কোনও আপত্তি ছিল না। দ্বিপাক্ষিক আলোচনাতেও আপত্তি নেই। কিন্তু দুই দেশের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। সেখানে সন্ত্রাসবাদ, বাণিজ্য, জম্মু ও কাশ্মীর সমস্ত বিষয় নিয়ে খোলাখুলি কথা হওয়া দরকার।"
