'হিরো, আপনিই বাঁচিয়েছেন', ককপিটে সতীর্থের ছুরিতে রক্তাক্ত হয়েও কর্তব্যে অবিচল ভারতীয় পাইলট
Anwesha Adhikary
৯/১১-এর মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা প্রায় নিশ্চিত। বিমানে থাকা ১৮০জন যাত্রী তো বটেই, আরও শয়ে শয়ে মানুষের প্রাণ যাওয়ার আশঙ্কা। সেসময়ে নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অসীম সাহসিকতার নিদর্শন রাখলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছার। সতীর্থের ছুরিকাঘাতে বিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি লড়ে গেলেন অগুণতি প্রাণ বাঁচানোর জন্য। সুস্থভাবে অবতরণের পর তাঁকে 'হিরো'র তকমা দিচ্ছেন যাত্রীরা।
বুধবার গোটা বিশ্বে শোরগোল ফেলে দিয়েছে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান 'হাইজ্যাক'। দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাই দুবাইয়ের বিমানটি। খানিকক্ষণের মধ্যেই বিমান থেকে হাইজ্যাকের সংকেত পাঠানো হয়। এরপরই বিমানটি যাত্রাপথ বদল করে সৌদির অভিমুখে উড়তে থাকে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতায়াহু দাবি করেছেন, যাত্রীদের অধিকাংশই ছিলেন ইজরায়েলি। পাইলট বিমানটিকে ‘ক্র্যাশ’ করার চেষ্টা করেছিলেন। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ-সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা বলেন, “এই ঘটনা একটি সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা।” প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, স্মিতের কো পাইলট নিজের ইচ্ছামতো বিমান ঘোরানোর চেষ্টা করছিলেন। হাইজ্যাকের ঘটনা ঘটেনি।
আরও পড়ুন:
কো-পাইলটের এমন অসৎ উদ্দেশ্য খেয়াল করে প্রতিবাদ করেন স্মিত। বচসা বাঁধতেই স্মিতকে ধারালো ছুরি দিয়ে একাধিকবার কোপ দেন অভিযুক্ত কো পাইলট। তবে শেষ পর্যন্ত বিমানে থাকা অন্যান্য পাইলট এবং বিমানকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দেন। সৌদি আরবেই নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। কিন্তু যাত্রীরা বোঝেন, স্মিতের সাহসিকতাতেই রক্ষা পেয়েছে তাঁদের প্রাণ। তাই রক্তাক্ত স্মিতকে তাঁরা বলেছেন, "আপনিই আমাদের প্লেনকে বাঁচিয়েছেন।" সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে নেটদুনিয়ায়।
স্মিত প্রায় ১৩ বছর ধরে বিমান চালাচ্ছেন। ১০ বছর তিনি স্পাইসজেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২২ সালে তিনি যোগ দেন ফ্লাই দুবাইতে। ক্যাপ্টেন হিসাবে চার বছরেও বেশি সময় ধরে এই এয়ারলাইন্সে যুক্ত রয়েছেন তিনি। সবমিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে স্মিতের। তবে এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজে ছুরির কোপ খেয়েও যেভাবে যাত্রীদের রক্ষায় অটল ছিলেন স্মিত, সেই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে আমজনতা।