হরমুজ প্রণালী। গত তিনমাস ধরে গোটা বিশ্বের সবচেয়ে আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে অন্য়তম। যুদ্ধের জেরে এই প্রণালী বন্ধ করে রেখেছিল ইরান, তার ফলে গোটা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হুহু করে বেড়েছে তেল-গ্যাসের দাম। তবে এবার সেই সংকটের অবসান ঘটতে চলেছে। খুব দ্রুত হরমুজ প্রণালী আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে, এমনটাই জানা গিয়েছে ইরান প্রশাসন সূত্রে।
ইরান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় জ্বালানি সংকটে পড়েছে ভারত। কারণ দেশের অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৮০ শতাংশই আমদানি করতে হয়। তার অধিকাংশই হরমুজ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দেশে আসে। কিন্তু মার্চ মাস থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে শুরু হয় জ্বালানি সংকট। তেল-গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়। দফায় দফায় বাড়ছে পেট্রল-ডিজেলের দাম। মহার্ঘ হয়েছে বাণিজ্যিক গ্যাস-সিএনজিও। এহেন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক ছন্দে ফিরলে ভারত স্বস্তির শ্বাস ফেলবে। দেশে জ্বালানি সরবরাহ আবারও আগের ছন্দে ফিরবে।
কিন্তু কবে আসবে সেই অচ্ছে দিন? রবিবার সকালেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, শান্তিচুক্তির বেশিরভাগটাই মেনে নিয়েছে ইরান। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের অবসান ঘটাতে আমেরিকাকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি তারা, এমনটাই দাবি আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমসে’র। তারপরেই মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও ঘোষণা করেন, কয়েকঘণ্টার মধ্যেই সুখবর আসছে। শান্তিচুক্তি সই করতে চলেছে আমেরিকা এবং ইরান।
এই ঘোষণার পরেই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইরানের সংবাদসংস্থা তাসনিম। সেখানে দাবি করা হয়, তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে। সেখানেই প্রস্তাব করা হয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ থেকে সমস্ত রকমের অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে। ইরান বা আমেরিকা-হরমুজে জাহাজ চলাচলে কোনও পক্ষই বাধা সৃষ্টি করবে না। উল্লেখ্য, যুদ্ধের আগে দিনে অন্তত ১৪০টি জাহাজ হরমুজে চলাচল করত। যুদ্ধের সময়ে সেটা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। আগামী একমাসে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হবে বলে অনুমান। প্রশ্ন উঠছে, যুদ্ধের কারণে ভারতে যে তেল-গ্যাসের দাম বাড়ছে, সেই নিয়ে আমজনতার সুরাহা হবে তো?
