দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
United Nations

রাষ্ট্রসংঘে মহানাটক! ইরানের দূতকে রহস্যময় উপহার দিতে গেলেন ইজরায়েলের প্রতিনিধি, তারপর...

সকলকে চমকে দিয়ে হঠাৎ ইরানের রাষ্ট্রদূত নাসের আসাদির আসনের সামনে হাজির হলেন ইজরায়েলের প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন। এক রহস্যময় জিনিস তাঁকে দেখিয়ে সেটি উপহার দিতে চাইলেন ইরানকে।
Amit Kumar Das
11:37 PM Sep 26, 2026 IST
সকলকে চমকে দিয়ে হঠাৎ ইরানের রাষ্ট্রদূত নাসের আসাদির আসনের সামনে হাজির হলেন ইজরায়েলের প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন। এক রহস্যময় জিনিস তাঁকে দেখিয়ে সেটি উপহার দিতে চাইলেন ইরানকে।
রাষ্ট্রসংঘে মুখোমুখি ইরান ও ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রসংঘে মহানাটক। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের পর নাটকীয় দৃশ্য দেখা গেল আন্তর্জাতিক মঞ্চে। সকলকে চমকে দিয়ে হঠাৎ ইরানের রাষ্ট্রদূত নাসের আসাদির আসনের সামনে হাজির হলেন ইজরায়েলের প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন। এক রহস্যময় জিনিস তাঁকে দেখিয়ে সেটি উপহার দিতে চাইলেন ইরানকে। এই ঘটনার ভিডিও সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দুই দেশের সংঘাতের মাঝে এহেন কর্মকাণ্ডে কূটনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

এই ঘটনার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন নিজেই। রাষ্ট্রসংঘে ভাষণ দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু একটি স্টারলিংক টার্মিনাল তুলে ধরে বলেছিলেন এই যন্ত্র ইরানিদের সরকারি ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করবে। ইরানি প্রতিনিধি দলের জন্য ডিভাইসটি রাষ্ট্রসংঘের কর্মকর্তাদের কাছে রেখে যাবেন বলে জানান। নেতানিয়াহুর ভাষণ শেষের পরই সেই ডিভাইস নিয়ে নাসেরের কাছে হাজির হন ড্যানি। তিনি বলেন, "এই যন্ত্র ইরানের জনগণের স্বাধীনতার লড়াইয়ে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। আপনারা তাঁদের সঙ্গে যা করেছেন। আপনি কি এটা তেহরানে পৌছে দিতে চাইবেন? ইরানের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হতে পারে। আমি ইরানের জনগণকে ভালোবাসি, এবং সেখানে শাসন পরিবর্তন বা রিজিম চেঞ্জের প্রার্থনা করি।" এই পুরো ঘটনার সময় একটি শব্দও খরচ করেননি ইরানের রাষ্ট্রদূত। তিনি অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকেন।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

রাষ্ট্রসংঘে ভাষণ দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু একটি স্টারলিংক টার্মিনাল তুলে ধরে বলেছিলেন এই যন্ত্র ইরানিদের সরকারি ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করবে।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গোটা ঘটনার প্রেক্ষাপট আসলে ইরানের ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা। যার জেরেই গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রসংঘে ভাষণ দেওয়ার সময় সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে স্টারলিংকের ডিভাইস তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। এই যন্ত্র ইরানিদের ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করবে। এর পরই এই কাণ্ড। ড্যানন বলেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় ইরান গোটা দেশে ইন্টারনেট শাটডাউন করে। ইন্টারনেটের উপর এই নিষেধাজ্ঞা চলে মে মাস পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রায় ৪ মাস। তাই ইরানের জনগণের কাছে সেন্সরবিহীন তথ্য পাওয়ার হাতিয়ার হতে পারে স্টারলিংক।

উল্লেখ্য, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বক্তব্য রাখার ঘোষণা হতেই সভাস্থলে শুরু হয় বিক্ষোভ। নেতানিয়াহু মঞ্চে উঠলে তাঁর ভাষণ বয়কট করেন বহু রাষ্ট্রপ্রধান। একে একে বহু দেশের প্রতিনিধি এবং আধিকারিকরা বেরিয়ে যান। তাতেই আরও রেগে ওঠেন নেতানিয়াহু। বলে বসেন, যারা হল ছেড়ে বেরচ্ছেন তাঁরা আসলে নৈতিক কাপুরুষ। আরও বলেন, “যেসমস্ত কাপুরুষরা এখনও ঘর ছেড়ে বেরননি দয়া করে তাঁরাও সকলে বেরিয়ে যান।” যাঁরা বসেছিলেন, ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে দুয়ো দিতে থাকেন। তার মধ্যে উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিতে থাকেন ইজরায়েলের প্রতিনিধি দল। সবমিলিয়ে দেখা দেয় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। এরপরই ইরানকে তোপ দেগে তাঁদের স্বৈরাচারী বলে তোপ দাগেন নেতানিয়াহু। বলেন, “আমি ইরানের মতো একটি খুনি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থাকে পারমাণবিক বোমা ও পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছি। ইজরায়েলকে ধ্বংস করার উদ্দেশে পরমাণু বোমা চায় ইরান। যা সমগ্র বিশ্বের জন্য হুমকি।” এরপরই সভামঞ্চে ২০২৪ সালের অভিযানের কথা মনে করিয়ে পেজার তুলে ধরেন নেতানিয়াহু।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
United Nations
Advertisement
Tags :
United Nations

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন