হোয়াইট হাউসের সামনে এলোপাথাড়ি গুলি। ঘটনায় আহত হয়েছেন এক পথচারী। গোটা ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে ওয়াশিংটনে। তবে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের আধিকারিকদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে হামলাকারীর। এরপরই প্রশ্ন উঠছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কি ফের তাহলে খুনের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল?
মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার সন্ধে ৬টা নাগাদ হোয়াইট হাউস থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউতে নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের সামনে আচমকা এক যুবক এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের আধিকারিকরা। পালটা জবাব দেন তাঁরাও। দীর্ঘক্ষণ দু'পক্ষের গুলির লড়াইয়ের পর গুরুতর আহত হন বন্দুকবাজ। তাঁকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী একটি হাসাপাতালে ভর্তি করানো হলে, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। গুলির লড়াইয়ের মাঝে পড়ে আহত হয়েছেন আরও এক পথচারী। সূত্রের খবর, মোট ১২ রাউন্ড গুলি চালায় বন্দুকবাজ। ঘটনার সময় হোয়াইট হাউসের ভিতরেই ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তাঁর কোনও ক্ষতি হয়নি। ইতিমধ্যেই মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের তরফে অবিযুক্তের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, তাঁর নাম নাসির বেস্ট। বয়স ২১ বছর। ঠিক কী কারণে তিনি হামলা চালালেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শুরু হয়েছে ঘটনার তদন্ত। বর্তমানে এলাকা ঘিরে রেখেছেন মার্কিন পুলিশ এবং সিক্রেট সার্ভিসের আধিকারিকরা।
নিরাপত্তার চাদরে মুড়েছে হোয়াইট সংলগ্ন এলাকা। ছবি: সংগৃহীত।
গত এক মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কেন্দ্র করে এই নিয়ে তৃতীয়বার হামলার ঘটনা ঘটল। কয়েকদিন আগেই ওয়াশিংটনের একটি হোটেলে হোয়াইট হাউসের বার্ষিক নৈশভোজের অনুষ্ঠান হামলা চালায় এক বন্দুকবাজ। ট্রাম্প ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৬০০ অতিথি। সাংবাদিক থেকে শুরু করে জনপ্রিয় অভিনেতা প্রত্যেকেই আমন্ত্রিত ছিলেন। নৈশভোজের পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য অপেক্ষা করছিলেন সবাই। কিন্তু তার আগেই ভিড়ের মধ্যে আচমকা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালান ওই বন্দুকবাজ। যদিও ট্রাম্পের কোনও ক্ষতি হয়নি। তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তকে।
এক কয়েকদিন পর গত ৫ মে হোয়াইট হাউসের অদূরে হামলাল চালায় আরও এক বন্দুকবাজ। তবে ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। কিন্তু জানা গিয়েছিল, গুলি চলার কিছুক্ষণ আগেই সেখান দিয়ে গাড়ি করে যান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এরপরই জল্পনা ছড়ায়, তাহলে কি ভ্যান্সই বন্দুকবাজের নিশানায় ছিলেন? কিন্তু এই তত্ত্ব পরে খারিজ করে দেয় আমেরিকার পুলিশ। তবে বারবার এরকম হামলার জেরে হোয়াইট হাউস কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
