দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Iran War

'মার্কিন হামলার জন্য প্রস্তুত, আরও বড় যুদ্ধ হবে', ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে পালটা বার্তা ইরানের

মোজতবা আলি খামেনেইর দেশের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ফের তেহরানে হামলা চালাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এই অবস্থায় পালটা হুমকি দিল ইরানি সেনা।
Kishore Ghosh
07:03 PM Sep 27, 2026 IST
মোজতবা আলি খামেনেইর দেশের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ফের তেহরানে হামলা চালাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এই অবস্থায় পালটা হুমকি দিল ইরানি সেনা।
ট্রাম্পের মনোভাবে স্পষ্ট, সংঘাত দ্রুত মেটার নয়।

মোজতবা আলি খামেনেইর দেশের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ফের তেহরানে হামলা চালাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এই অবস্থায় রবিবার পালটা হুমকি দিল ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির সেনা জানিয়ে দিল, "মার্কিন হামলার জন্য আমরা প্রস্তুত। তেমন কিছু ঘটলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হবে।"

রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে ইরানের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছিলেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র উপায় কূটনীতি। এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরেই হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। শনিবার তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সংঘাত স্থগিত করার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি। রবিবার পালটা ইরানি সেনার মুখপাত্র মহম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়ে দিলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানি বাহিনী অনেক বেশি প্রস্তুত। দাবি করেন, উন্নত সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, কঠিন প্রশিক্ষণে সেনার শারীরিক ও মানসিক বল বেড়েছে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

ইরানি সেনার মুখপাত্রের কথায়, “শত্রু যদি আরও একটি আক্রমণ চালায়, তবে এই অঞ্চল নিঃসন্দেহে আগের চেয়েও বড় যুদ্ধ হবে। বাড়বে অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতার সম্মুখীন হবে সাধারণ মানুষ।” এইসঙ্গে হুঁশিয়ারির সুরে সতর্ক করেন, এর ফলে কিন্তু প্রতিবেশী দেশগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কার্যত মার্কিন বন্ধু দেশগুলিতে পালটা হামলা চালানোর হুমকি দেন মহম্মদ আকরামিনিয়া।

সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন তাঁরা। চুক্তি হলে হরমুজ ফের খোলা এবং যুদ্ধবিরতির আশাপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। এমতাবস্থায় ট্রাম্পের মনোভাব সামনেই আসতেই স্পষ্ট, সংঘাত এত তাড়াতাড়ি মেটার নয়।

উল্লেখ্য, ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক বলেছিলেন, “কোনও চুক্তিতে পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যদি আমেরিকার সত্যিই আন্তরিকতা থাকে, তাহলে বাকিটা প্রস্তুতই রয়েছে।” পাশাপাশি আমেরিকার এক কর্মকর্তাও সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন যে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা’ চলছে। কিন্তু ট্রাম্পের মনোভাব প্রকাশ্যে আসতেই সেই জল্পনা যেন ‘মিথ্যে’ হয়ে গেল!

মাত্র কয়েকদিন আগেই রাষ্ট্রসংঘে ভাষণ দিতে গিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান বলেন, “আমরা সন্ত্রাসবাদী নই। আমরা কেবল আত্মরক্ষা করেছি। আমাদের দেশের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েল কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে। আগ্রাসনের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে আমাদের নিরীহ জনগণ। তাই আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে নিজেদের রক্ষা করেছি।” তিনি আরও বলেন, “হুমকি নস্যাৎ করতে ইরানকে শক্তিশালী হতে হবে। তবে তেহরান তার শক্তিকে আধিপত্য বিস্তারের কাজে ব্যবহার করতে চায় না। আমাদের উপর হামলা হলে তার জবাব আমরা দেব।” যা থেকে বোঝা যায়, ইরানও নিজেদের ‘রণং দেহি’ মনোভাব থেকে সরতে রাজি নয়। তবু মোটের উপরে শান্তি প্রস্তাবের মধ্যে দিয়ে যে আপাত সংঘর্ষ বিরতির আবহ তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিল ট্রাম্পের মন্তব্য। অন্যদিকে মচকাবার পাত্র না।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
AmericaDonald TrumpIran war
Advertisement
Tags :
AmericaDonald TrumpIran war

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন