দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
S Jaishankar

সীমান্তে সংঘাতের মাত্রা কমতেই কাছাকাছি ভারত-চিন, জয়শংকরের মন্তব্যে দুশ্চিন্তা বাড়বে আমেরিকার!

গালওয়ানে চিনা আগ্রাসনের পর্ব পেরিয়ে নতুন সম্পর্কের সমীকরণে বেজিং-দিল্লি!
Biswadip Dey
01:33 PM Sep 29, 2026 IST
গালওয়ানে চিনা আগ্রাসনের পর্ব পেরিয়ে নতুন সম্পর্কের সমীকরণে বেজিং-দিল্লি!
নিউ ইয়র্কের অনুষ্ঠানে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর।

বছর কয়েক আগেও ছবিটা ছিল একেবারেই আলাদা। বিশেষ করে ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ানে চিনা আগ্রাসনের পর অনেকটাই তলানিতে পৌঁছে গিয়েছিল ভারত ও চিনের সম্পর্ক। কিন্তু সেই খারাপ সময়টা পেরিয়ে এসেছে দুই দেশ। এখন দিল্লি-বেজিংয়ের সম্পর্ক ‘উন্নত’। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর (S Jaishankar) নিউ ইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে এমনই দাবি করলেন।

সোমবার নিউ ইয়র্কে ‘এশিয়া সোসাইটি’ আয়োজিত এক আলোচনাসভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন জয়শংকর। সেখানেই উঠে আসে চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের বর্তমান ছবিটা ঠিক কেমন, সেই প্রসঙ্গ। আর সেখানেই তিনি দাবি করলেন সম্পর্কের অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। তাঁকে একটি প্রশ্ন করা হয় বিষয়টি নিয়ে। জবাবে জয়শংকর বলেন, ''যদি আমার কাছে জানতে চান, ২০২৫ সালের সঙ্গে তুলনা করলে, সম্পর্কের কি উন্নতি হয়েছে? আমি বলতেই পারি, হ্যাঁ। আর ২০২৪ সালের তুলনা করলে উন্নতি আরও বেশি।'' বিদেশমন্ত্রী পরিষ্কার করে দিয়েছেন, সম্পর্কের অবকাঠামোয় খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি তা নয়। জানিয়েছেন, ''যে মুহূর্তেই পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছিল, তখনই অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হয়ে যায়। কারণ ২০২০ সালের ঘটনা এবং সীমান্তে দীর্ঘ অচলাবস্থার ফলে আমাদের সম্পর্ক সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।''

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে এক ভয়াবহ এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছিল। বিগত কয়েক দশকের মধ্যে এটিই ছিল দুই দেশের সীমান্তে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে মারাত্মক সামরিক সংঘাত। যার পরে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছলেও অবশেষে তা যে ভালো জায়গায় পৌঁছেছে সেই কথাই জানালেন জয়শংকর।

বিদেশমন্ত্রী পরিষ্কার করে দিয়েছেন, সম্পর্কের অবকাঠামোয় খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি তা নয়। জানিয়েছেন, ''যে মুহূর্তেই পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছিল, তখনই অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হয়ে যায়।''

সেই সঙ্গেই তিনি বলেন, দিল্লি অনেক আগে থেকেই বেজিংকে জানিয়ে আসছিল যে, অচলাবস্থা ও সম্পর্কের অবনতি কোনও পক্ষেরই উপকার করবে না। বরং এতে অন্যরাই লাভবান হয়। তিনি বলেন, "আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার একটি অত্যন্ত মৌলিক নীতিও ধারাবাহিকভাবে মেনে চলেছি— এমন কোনও সমস্যায় জড়িয়ে পড়া যাবে না যা অন্যদের সুবিধা দেয়।" তবে তিনি আরও বলেন যে, বেজিং এই বিষয়ে সম্মত হতে কিছুটা সময় নিয়েছিল। ক্রমে তারাও বুঝেছে দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থা কোনও দেশেরই স্বার্থ রক্ষা করেনি। তিনি বলেন, "আমাদের সম্পর্কের যতটা উন্নতি হচ্ছে, তা নিশ্চিতভাবেই আমাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।"

এখানে বলে রাখা ভালো, সম্প্রতি ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এরপর এদিনের জয়শংকরের মন্তব্য আমেরিকাকে অস্বস্তিতে রাখবে। আসলে দুই শক্তিশালী দেশ কাছাকাছি এলে তা এশিয়ায় মার্কিন কূটনীতি এবং সর্বোপরি বিশ্বব্যাপী কৌশলগত সমীকরণকে সরাসরি আঘাত করবে। ভারত ও চিন বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ। দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক শক্তির দেশও বটে। তারা এক থাকলে বিশ্বের অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতার ভরকেন্দ্র পশ্চিম (আমেরিকা ও ইউরোপ) থেকে পূর্বে (এশিয়া) স্থানান্তরিত হতে সময় লাগবে না বলেই মনে করে ওয়াকিবহাল মহল।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
ChinaS Jaishankar
Advertisement
Tags :
ChinaS Jaishankar

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন