'আত্মবলিদানের সময় এসেছে', হাউথির বিরুদ্ধে যুদ্ধে সেনাকে বার্তা সৌদির সর্বোচ্চ ধর্মগুরুর
Amit Kumar Das
সৌদি আরবের সঙ্গে ভয়ংকর যুদ্ধে লিপ্ত ইয়েমেনের হাউথি বাহিনী। একের পর এক অঞ্চলের দখল নিয়ে চলেছে ইরান সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে দেশের সেনাবাহিনীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিলেন সৌদির সর্বোচ্চ ধর্মগুরু শেখ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান। তাঁর বার্তা, 'হাউথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আত্মবলিদানের জন্য প্রস্তুত হন।' শুধু তাই নয়, যতদিন না ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী ইয়েমেন থেকে ক্ষমতাচ্যুত হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
সৌদির গ্র্যান্ড মুফতি তাঁর বিবৃতিতে কোরানের একাধিক আয়াত তুলে ধরে আল্লার পথে আত্মত্যাগ ও মহম্মদের বাণী উল্লেখ করেছেন। বলা হয়েছে, "কেউ যদি দেশের ভূখণ্ডের এই ইঞ্চি জমি দখলের চেষ্টা করে, তাহলে দেশ রক্ষার জন্য সেই অপরাধীকে শাস্তি দেওয়াই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কোরানে এটাকেই সবচেয়ে পুণ্য কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাকে তুষ্ট করতে এই কাজে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে হবে।" বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "ইয়েমেনে সৌদি আরব সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই এখন সবচেয়ে জরুরি কর্তব্য। যতদিন না হাউথি গোষ্ঠী ইয়েমেন থেকে ক্ষমতাচ্যুত হচ্ছে, ততদিন এই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।"
আরও পড়ুন:
সৌদির সর্বোচ্চ ধর্মগুরু শেখ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজানের বার্তা, 'হাউথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আত্মবলিদানের জন্য প্রস্তুত হন।'
গত সপ্তাহ থেকে সৌদি আরবে ভয়ংকর হামলা শুরু করেছে হাউথিরা। বাব-আল-মান্দেব প্রণালী ও মোখা বন্দর এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। হরমুজে ঝুঁকি বাড়ায় এই প্রণালীই এখন সৌদির তেল রপ্তানির প্রধান পথ। আপাতত যা বন্ধ। সৌদির একের পর এক শহরে চলছে হামলা। মক্কাতেও বেজে উঠেছে সাইরেন। এই পরিস্থিতিতে সৌদির পাশে দাঁড়ায়নি আমেরিকা। সম্প্রতি ওমানের রাজধানী মাস্কাটে আমেরিকার দূতাবাসে মার্কিন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে হাউথিদের। তারা জানিয়েছে, মার্কিন জাহাজে তারা কোনও হামলা করবে না। ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে তারা।
গুরুতর এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েল-সহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের কাছে সাহায্য চেয়েছে সৌদি আরব যদিও তাতে বিশেষ ফল হয়নি। সম্প্রতি তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছিল সৌদি। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হতেই পিঠটান দিয়েছে পাকিস্তান, তুরস্কও। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে 'একলা চলো' নীতি নিল সৌদি আরব।