নমাজের অছিলায় পিছন থেকে পরপর মার, ককপিটে কীভাবে জঙ্গি হামলা? নেতানিয়াহুকে জানালেন স্মিত
Anwesha Adhikary
নমাজ পড়ার অছিলায় ককপিটের পিছনের দিকে গিয়েছিল 'জঙ্গি' পাইলট। কিছুক্ষণের মধ্যেই আচমকা আঘাত। একটা নয়, পরপর এলোপাথাড়ি মার। ফ্লাইদুবাই বিমানে ককপিটে ঠিক কী হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন বীর পাইলট স্মিত মচ্ছর (Smit Machchhar)। শনিবার তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সেখানেই উঠে এসেছে ককপিটের পুরো ঘটনাবলি।
মাঝআকাশে ঠিক কী হয়েছিল? স্মিত বলেন, "প্রথমে তো সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। তারপর আমার কো পাইলট বলল, প্রার্থনা করবে। যাত্রী-পাইলটদের অনেকেই তো এইভাবে প্রার্থনা করে থাকে। কো-পাইলট পিছনে গিয়ে প্রার্থনা শুরু করে, আমি তখন ওদিকে তাকাইনি দেখছিলাম সামনের দিকে। মিনিটপাঁচেক পরেই আমার মাথায় প্রচণ্ড একটা আঘাত লাগল। প্রথমে ভেবেছিলাম বিমানে কোনও বড়সড় যান্ত্রিক ত্রুটি হয়েছে তাই ঝাঁকুনিতে এভাবে লেগেছে।"
আরও পড়ুন:
কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই মাথায় একের পর এক আঘাত পান স্মিত। তখনই বুঝতে পারেন, বিমানে গোলযোগ নয়। কো-পাইলট আক্রমণ করেছেন। স্মিতের কথায়, "আমি ওকে আটকানোর চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু ততক্ষণে ক্রমাগত মার খেয়ে আমার দৃষ্টিশক্তি তখন একেবারে ঝাপসা। বিমানও হু হু করে নিচে নামতে শুরু করেছে ততক্ষণে। আমি কোনওমতে একবার ককপিটের দরজাটা খুলেছি, কিন্তু ও আবার বন্ধ করে দেয়। তারপরই আমি ঠিক করে নিই, শেষবারের মতো আরেকবার লড়তেই হবে। নয়তো আমি মরে যাব। নিজের সবটুকু দিয়ে আমি আবার ককপিটের দরজাট খুলে দিই।"
স্মিত জানিয়েছেন, গন্ডগোলের আঁচ পেয়ে যাত্রীরা ককপিটের কাছে চলে এসেছিলেন। তাই দ্বিতীয়বার দরজা খুলতেই তাঁরা ঢুকে পড়েন। বাকি ঘটনা সকলেরই জানা। ক্যাপ্টেন মচ্ছর বর্তমানে আবু ধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থা এখন স্থিতিশীল। শনিবার তাঁর সঙ্গে ফোনালাপ করেন নেতানিয়াহু। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সেই ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ওই ভিডিওতেই জানা গিয়েছে, ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিল। যাত্রীরা যদি শেষ পর্যন্ত ককপিটে পৌঁছতে না পারতেন তাহলে যে কী হত, ভেবেই শিউরে উঠছেন সকলে।