'শান্তি স্থাপনে প্রস্তুত, কেয়ামতের জন্যও তৈরি', হরমুজ প্যাঁচে দিশাহারা ট্রাম্পের কোর্টে বল ফেলল ইরান
Amit Kumar Das
আস্ফালনে খামতি না রাখলেও ইরানের (Iran) হরমুজ প্যাঁচে যথেষ্ট চাপে আমেরিকা (US)। ইরানের মাটিতে ফের বড়সড় হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাতে অবশ্য বিশেষ ভাবিত নয় তেহরান। বরং আমেরিকার কোর্টে বল ঠেলে 'শান্তি' ও 'যুদ্ধ' দুইয়ের মধ্যে একটি বেছে নিতে বললেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি। জানালেন, তেহরান আমেরিকার সঙ্গে ফের লড়াইয়ে নামতে পুরোপুরি প্রস্তুত, একইসঙ্গে কূটনীতি ত্যাগ করেনি। এখন সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের।
রবিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের বিদেশমন্ত্রী বলেন, "যুদ্ধ যদি আবার শুরু হয় তবে সেই যুদ্ধ লড়তে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত, এমনকি সেটা যদি কেয়ামতের যুদ্ধও হয়। আবার একই সঙ্গে আমরা কূটনীতির জন্যও প্রস্তুত। সিদ্ধান্ত এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিতে হবে।" যাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিয়েছে, সেই হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রসঙ্গে আরাঘাচি বলেন, "সংঘর্ষ বিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানও চায় হরমুজ খুলে দিতে। তবে এর বিনিময়ে আমাদের অর্থ ও যে বৈদেশিক সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল তা যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। আমরা চাই আমাদের তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়া হোক।"
আরও পড়ুন:
আরাঘাচি বলেন, 'সংঘর্ষ বিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানও চায় হরমুজ খুলে দিতে। তবে এর বিনিময়ে আমাদের অর্থ ও যে বৈদেশিক সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল তা যেন ছেড়ে দেওয়া হয়।'
আরাঘাচির মতে, "এই শর্তগুলি নতুন নয়। জুন মাসেই তা স্বাক্ষরিত হয়েছিল আমেরিকা শর্তে সম্মত ছিল। পরে তা বাতিল হয়।" স্পষ্ট ভাষায় আরাঘাচি জানিয়ে দেন, "আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে সচেতন।" পাশাপাশি তিনি বলেন, "আমাদের মতে, ফের কূটনীতিতে ফিরে যাওয়ার কোনও কারণ নেই। কিন্তু তারপরও আমারা এখনও কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছি। কারণ আমরা মনে করি, শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনও সুযোগই হাতছাড়া করা উচিত নয়।"
উল্লেখ্য, ইরানে নতুন করে বড়সড় হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি শনিবার তিনি বলেন, ইরানের দেওয়া প্রস্তাব তিনি খারিজ করেছেন। তাঁর আরও যুক্তি, "ইরান খুব চাপে আছে, তাই তাড়াতাড়ি হরমুজ খুলতে চাইছে।" এরপর রবিবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা হবে বলে আশা করছেন তিনি।