শেষ হাসি হাসলেন সাদ্দামই! ইরাক থেকে সরছে মার্কিন সেনা, ইরানি গোষ্ঠীকে সামলাতে পারবে বাগদাদ?
Biswadip Dey
দেখতে দেখতে দুই দশক। অবশেষে ইরাক থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা (US Troops Exit Iraq)। যদিও বাইডেন প্রশাসনের আমলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এতদিনে তা বাস্তবায়িত হতে চলেছে। আর এরপরই প্রশ্ন উঠছে, মার্কিন সেনা সরে গেলে সেদেশে সক্রিয় ইরানি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে কি সামলাতে পারবে বাগদাদ।
চলতি বছরের শুরুর দিকে আমেরিকার সমর্থনেই ক্ষমতায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বুধবার সেনা সরানোর প্রক্রিয়া সম্পূ্র্ণ হতেই ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি তাদের অস্ত্র সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। কিন্তু বিষয়টা এত সরল নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আমেরিকা ও ইরান— এই দুই মিত্রশক্তির টানাপড়েনের মাঝে থাকা একটি দেশের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। যার জের আগামিদিনেও থাকবে। দীর্ঘদিন ধরেই ইরাক আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের 'ছায়াযুদ্ধের রণক্ষেত্রে' পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের কাছে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে, এই অভিযোগ তুলেই ২০০৩ সালে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে আমেরিকা। বন্দি করা ইরাকের শাসককে। যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০০৬ সালে ফাঁসিতে ঝোলানো হয় সাদ্দামকে। যদিও পরমাণু অস্ত্র থাকার যে দাবি আমেরিকা করেছিল বাস্তবে তার কোনও প্রমাণ মেলেনি। এরপর থেকেই ইরাকে ঘাঁটি গেড়েছিল মার্কিন সেনা।
এদিকে ইরানের নেতৃত্বাধীন 'অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স'-এর সদস্য দুই ইরানি জঙ্গি গোষ্ঠী এমপিএফ এবং ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড’ ইরাকে হামলা চালাতে পারে, এই আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন সেনা চলে যেতেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। আর তা হলে হয়তো মিলে যাবে সাদ্দাম হোসেনের কথাই। ২০০৩ সালে মার্কিন সেনারা যখন তাঁকে বন্দি করেছিল সেই সময় সাদ্দাম আমেরিকানদের উদ্দেশে বলেছিলেন, "তোমরা ইরাক শাসন করতে পারবে না। কারণ তোমরা ইরাকিদের ভাষা, সংস্কৃতি, মনস্তত্ত্ব এবং আরবদের ইতিহাস বোঝো না।" শেষপর্যন্ত ইরাক ছেড়ে চলে যেতে হল মার্কিন সেনাদের। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এরপরও সেখানে সক্রিয় থাকবে মার্কিন সংস্থাগুলি। শেষপর্যন্ত পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় সেদিকেই চোখ থাকবে মধ্যপ্রাচ্য-সহ গোটা বিশ্বেরই।