জিনপিংকে কি বিশ্বাস করবেন ট্রাম্প? ‘দেওয়া-নেওয়ার’ খেলায় কার ঘরে কত লাভ, নজর দিল্লিরও
Subhodeep Mullick
দীর্ঘ বাণিজ্যযুদ্ধের পর অবশেষে 'মৈত্রি'র পথে হাঁটল আমেরিকা ও চিন। হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক (Donald Trump-Xi Jinping Meeting) হয়েছে। সেখানে বাণিজ্য সমঝোতার অংশ হিসাবে ৩ হাজার কোটি ডলারের একটি শুল্কচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এরপরই আন্তর্জাতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই 'দেওয়া নেওয়ার' খেলায় শেষ পর্যন্ত কার ঘরে কত লাভ? জিনপিংকে আদৌ কি বিশ্বাস করতে পারবেন ট্রাম্প?
বাণিজ্যযুদ্ধের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল দুই দেশের মধ্যে। সেই পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করাই ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের অন্যতম লক্ষ্য ছিল। কারণ, আমেরিকার কাছে চিনের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, চিন-আমেরিকার নয়া এই শুল্কচুক্তির ফলে মার্কিন কৃষিজাত পণ্য, কাঠ এবং প্রসাধনীর মতো রফতানি হওয়া পণ্যগুলি চিনের বাজারে সুবিধা পাবে। অন্য দিকে, ছোট যন্ত্রপাতি, খেলনা এবং সাজসজ্জার সামগ্রী আমেরিকায় রফতানির ক্ষেত্রেও বিশেষ শুল্ক ছাড় পাবে বেজিং।
আরও পড়ুন:
চিনের লক্ষ্য হল, প্রযুক্তিক্ষেত্রে মার্কিন চাপ কমানো। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ও উন্নত সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশের প্রতিযোগিতা তীব্র। এই পরিস্থিতিতে এআই নিয়ে নতুন রূপের এক আলোচনা চালাতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। সূত্রের খবর, এআই-এর খুঁটিনাটি বিষয়, ঝুঁকি সবকিছু নিয়েই আলোচনা করবে চিন-আমেরিকা। ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর বদলে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দবন্ধ ব্যবহারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন ট্রাম্প-জিনপিং। বিশেষজ্ঞদের মতে, জিনপিংয়ের কাছে এই সফরের বড় প্রাপ্তি শুধু বাণিজ্যিক নয়, কূটনৈতিকও। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের অবস্থান মজবুত করার সুযোগ পেয়েছে চিন।
ট্রাম্পের কাছেও এই বৈঠকটি ছিল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমেরিকার বারাবরই লক্ষ্য চিনের বাজারে সুবিধা পাওয়া। বলা বাহুল্য, শুক্লচুক্তির পর কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি, হোয়াইট হাউসের একটি সূত্রের খবর, ২০২৭-২৮ সালে আমেরিকা থেকে অন্তত এক কোটি মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করবে বেজিং, যা নিঃসন্দেহে ওয়াশিংটনের কাছে বড় প্রাপ্তি। তবে ইরান যুদ্ধ বা তাইওয়ান নিয়ে আদৌ কোনও ঐক্যমতে এসেছে কি না দুই দেশ, তা স্পষ্ট নয়। তবে ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন’ (অ্যাপেক) এবং ‘জি-২০’-র মতো বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলি আয়োজনের ক্ষেত্রে চিন এবং আমেরিকা একে অপরকে সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন, চিন-আমেরিকার ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও শেষমেষ জিনপিং রং বদলাবেন না তো? উত্তর দেবে সময়। তবে দু'দেশের এই নয়া সমীকরণে নজর রাখছে ভারতও। কারণ, সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় চিনের বিকল্প হিসাবে নিজেদের গুরুত্ব ধরে রাখাই নয়াদিল্লির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।