দেশজুড়ে বিরোধী শিবিরে ভাঙনের যে প্রবণতা শুরু হয়েছে, সেটা সম্ভবত শুধু উদ্ধব ঠাকরের শিব সেনাতেই থামছে না। মহারাষ্ট্রের অন্য দুই প্রধান বিরোধী শিবিরেও ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদি ভাঙন নাও হয়, কংগ্রেস, এনসিপি শরদ পওয়ার এবং শিব সেনা উদ্ধব শিবিরের জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল বুধবার।
সদ্য উদ্ধব ঠাকরের শিব সেনায় ভাঙন ধরেছে। দলের ৯ সাংসদের মধ্যে ৬ জন একসঙ্গে যোগ দিয়েছেন একনাথ শিণ্ডের শিব সেনায়। ফলে লোকসভায় উদ্ধবের আসনসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩জন। গত কয়েক বছরে এটা উদ্ধব ঠাকরের দলে দ্বিতীয় ভাঙন। ওই ভাঙনের পর বিরোধী শিবির যে ঐক্যবদ্ধ এটা দেখাতেই বুধবার মহারাষ্ট্রে মহাবিকাশ আঘাড়ির বৈঠক ডেকেছিলেন উদ্ধবরা। কিন্তু সেই শক্তিপ্রদর্শনের মঞ্চ শেষ পর্যন্ত আরও বিড়ম্বনায় ফেলল উদ্ধব ঠাকরেদের।
এই মুহূর্তে মহারাষ্ট্রে বিরোধী শিবিরের বিধায়ক ৬০ জন। কিন্তু উদ্ধবদের ডাকা বৈঠকে হাজির হলেন মাত্র ৩৭ জন বিধায়ক। চমকপ্রদভাবে গরহাজিরার তালিকায় নাম রয়েছে শরদ পওয়ার এবং তাঁর দলের অন্যতম প্রধান মুখ জয়ন্ত পাটিলের। কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি নানা পাটোলে এবং বিজয় ওয়াদ্দিদারও আসেননি। এনসিপি এসপির কয়েক জন বিধায়ক, কংগ্রেসের কয়েকজন বিধায়ক এবং শরদ পওয়ারের দলের জনা কয়েক বিধায়ক ছিলেন বৈঠকে। যদিও বৈঠক শেষে উদ্ধব দাবি করেছেন, "আমরা সকলে একত্রিত, ঐক্যবদ্ধ।"
কিন্তু সত্যিই কি ঐক্যবদ্ধ? সেটা হলে ২৩ জন বিধায়ক গরহাজির কেন? নাকি উদ্ধবের সাংসদদের মতো অন্য বিরোধী দলও ভাঙবে মহারাষ্ট্রে? অবশ্য আরও একটা সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ধবের দলে ভাঙনের পর মহা বিকাশ আঘাড়ি আদৌ অক্ষত আছে তো? খোদ শরদ পওয়ারের ওই বৈঠকে না থাকাটা কিন্তু অনেক জল্পনার জন্ম দিচ্ছে। যদিও পওয়ার পরিবার জানাচ্ছে, অসুস্থতার জন্যই বৈঠকে যাননি তিনি।
