Advertisement

ভারত-পাকিস্তানকে অনুসরণ নয়, আফগানিস্তান নিয়ে ‘স্বাধীন সিদ্ধান্ত’নেবে বাংলাদেশ

02:24 PM Sep 10, 2021 |
Advertisement
Advertisement

সুকুমার সরকার, ঢাকা: তালিবানের (Taliban)  উত্থানে ভারত উপমহাদেশে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। ‘জঙ্গি’দের সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়েও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে চলছে তুমুল আলোচনা। এহেন জটিল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে আফগানিস্তান নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তানকে অনুসরণ করা হবে না। এই বিষয়ে ‘স্বাধীন সিদ্ধান্ত’ নেওয়া হবে।

Advertisement

[আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে তালিবানের উত্থানের মাঝেই বাংলাদেশে গ্রেপ্তার ২ আনসার জঙ্গি]

বর্তমানে আফগানিস্তানে সরকার গঠন হলেও ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে ঢাকা ও নয়াদিল্লি। তবে তালিবদের হয়ে স্বাভাবিকভাবেই সওয়াল করছে ইসলামবাদ। এহেন জটিল সমীকরণে হাসিনা প্রশাসনের অবস্থান কী হবে, বৃহস্পতিবার ঢাকায় সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, “ভারত-পাকিস্তান বা অন্য কোনও দেশকে দেখে নয়, আফগানিস্তানের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে নিজস্ব সিদ্ধান্তে হবে। তবে এই মুহূর্তে আফগানিস্তান নিয়ে আমাদের কোনও চিন্তা নেই। সবেমাত্র তালিবান অস্থায়ী সরকার গঠন করেছে।” বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, “তারা (ইউরোপে) কেউ কেউ বলেছে, বিবিসি বলেছে, ভারত যেটা করবে, সেটা করবেন কি না? কিংবা পাকিস্তান যেটা করে, সেটা করবেন কি না? আমরা বলেছি যে, কে কী করল আমরা দেখব না।” ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডসের নেতারাও বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চেয়েছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। আবদুল মোমেন বলেন, “আমাকে সবাই জিজ্ঞেস করেছেন, আমরা ওঁদের ব্যান্ডওয়াগনে জয়েন করব কি না? আমাদের কী পজিশন?”

উল্লেখ্য, বুধবার তালিবানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী মহম্মদ শাহরিয়ার আলম বলেন, “আমরা এখনই আফগানিস্তানের নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ভাবছি না। কারণ, এটি তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আমরা স্থায়ী সরকারের জন্য অপেক্ষা করব। এই বিষয়ে আমরা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। মহিলাদের অধিকার-সহ মৌলিক কিছু বিষয়ে তালিবানের নীতি পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা। তবে দেশটির উন্নয়নে রাষ্ট্রসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বহুপক্ষীয় উদ্যোগ নেওয়া হলে, তাতে ঢাকার সমর্থন থাকবে।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখল করেছে তালিবান। ফলে ভারতীয় উপমহাদেশে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বৃদ্ধি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। সেই আশঙ্কা যে অমূলক নয় তা প্রমাণ করে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশে (Bangladesh) পুলিশের জালে পড়ে আল কায়দার শাখা সংগঠন আনসার আল ইসলামের দুই জঙ্গি। আফগানিস্তানে তালিবানের উত্থানে আল কায়দার শক্তিবৃদ্ধি হওয়ার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।

[আরও পড়ুন: চিনের থেকে আরও ১০ কোটি করোনা টিকা কিনছে বাংলাদেশ]

Advertisement
Next