shono
Advertisement
Similipal Tiger Reserve forest

সাফল্যের গল্প নিয়ে এনটিসিএ-কে চিঠি, আসছে আরও জোড়া বাঘিনী

ঘন সবুজ জঙ্গল। আর সেই জঙ্গলের বুক চিরে একেবারে রাজকীয় মেজাজে হেঁটে যাচ্ছে বাঘিনী জিনাত। আর ঠিক তার পেছনের পায়ের কাছেই লাইন দিয়ে হাঁটছে পরপর তার ৩ টি শাবক। ওড়িশার সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষ তাদের ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা পড়া এই ছবি প্রকাশ করে যেমন মাতৃস্নেহের কথা তুলে ধরেছে।
Published By: Suhrid DasPosted: 08:38 PM Jun 29, 2026Updated: 08:38 PM Jun 29, 2026

ঘন সবুজ জঙ্গল। আর সেই জঙ্গলের বুক চিরে একেবারে রাজকীয় মেজাজে হেঁটে যাচ্ছে বাঘিনী জিনাত। আর ঠিক তার পেছনের পায়ের কাছেই লাইন দিয়ে হাঁটছে পরপর তার ৩ টি শাবক। ওড়িশার সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষ তাদের ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা পড়া এই ছবি প্রকাশ করে যেমন মাতৃস্নেহের কথা তুলে ধরেছে। তেমনই ওড়িশার বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে গর্বের অধ্যায় বলে জানিয়েছে।

Advertisement

সেই ২০২৪ সালের ১৫ ই নভেম্বর মহারাষ্ট্রের তাডোবা-আন্ধারি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে ওড়িশার সিমলিপালে নিয়ে আসা হয় ৪ বছর বয়সী জিনাতকে। তারপর এই দেড় বছরে সিমলিপাল থেকে তার পালিয়ে আসা। প্রায় ৩০০ কিমি পথ ঘুরে বাংলায় উদ্ধার। আবার সিমলিপালে গিয়ে অন্তঃস্বত্তা হয়ে ৪ শাবকের মা। সেই সঙ্গে জিনাতের হাত ধরে কালো রঙ মুছে হলুদ ডোরাকাটা ফিরে পাওয়া। সর্বোপরি ইন্টার স্টেট টাইগার ট্রান্সলোকেশন সফল। জিনাতের এই সাফল্যের গল্প নিয়েই সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষ শীঘ্রই এনটিসিএ-কে (ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি) চিঠি লিখছে।

সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষের ফিল্ড ডিরেক্টর প্রকাশ চন্দ গোগিনেনি জানান, "বাঘিনী জিনাত ও তার ৪টি শাবক একেবারে সুস্থ রয়েছে। শাবকগুলোর বয়স এখন দু'মাসের কিছুটা কম। তারা সবে মায়ের সঙ্গে চলাফেরা শুরু করেছে। তবে ৩ শাবকের সেই ছবি ক্যামেরা ট্রাপে ধরা পড়েছে। জিনাতের সাফল্যের গল্প নিয়ে আমরা এনটিসিএ-কে চিঠি লিখব।" সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, জিনাতের এই সাফল্যের পর আরও দুটি বাঘিনী ও একটি বাঘ আনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্পের একেবারে কোর এলাকায় স্যাটেলাইট কলার ও ভিএইচএফ (ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি) ট্র্যাকিং সিগন্যাল দিয়ে নজরদারি চলছে। ৯ জনের একটি টিম পালা করে জিনাতের গতিবিধি নিবিড়ভাবে ট্র্যাক করছে। জিনাতের টেরিটোরির ২০ কিমি ব্যাসার্ধজুড়ে ২০টি ক্যামেরায় রীতিমতো নজরবন্দি। তবে এই টেরিটরিতে নেই জিনাতের সঙ্গে সখ্যতা হওয়া টি ১২ 'মহাবল' নামে ওই কালো পুরুষ বাঘ। কারণ, বাঘেদের স্বভাব অনুযায়ী শাবকদেরকে তারা মেরে ফেলে। না হলে যে তারা সঙ্গীর সঙ্গে মিলিত হতে পারে না। এইসব কথা মাথায় রেখেই ওই পুরুষ কালো বাঘকে জিনাতের এলাকা থেকে আলাদা রাখা হয়েছে।

আসলে বাঘিনী জিনাত যে সিমলিপালকে তার ভবিষ্যৎ ফিরিয়ে দিয়েছে। এখানে যে জেনেটিক বৈচিত্র কম ছিল। জিনাত মধ্য ভারতের বাঘ। আর সিমলিপালের বাঘের সঙ্গে তার প্রজননের ফলে শাবকদের জিনে নতুন বৈচিত্র্য এসেছে। গত ৪ দশকে প্রাকৃতিকভাবে এমন জিনের আদান-প্রদান হয়নি। কারণ, পালামৌ টাইগার রিজার্ভে বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ায় মধ্য ভারত থেকে সিমলিপাল বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। সেখানে জিনাত ওড়িশার বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে আক্ষরিক অর্থেই গৌরবময় মাইলফলক। বর্তমানে সিমলিপালে ৪ শাবক-সহ মোট শাবকের সংখ্যা রয়েছে ১৬। মোট বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement