জল্পনাই সত্যি! বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই গুঞ্জন চলছিল পুরুলিয়া জেলা পরিষদে অনাস্থা আনা হবে। শুক্রবার জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো ও সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলেন তৃণমূলের ২৪ জন সদস্য। পশ্চিম মেদিনীপুরে ডিভিশনাল কমিশনারের দপ্তরে অনাস্থার চিঠি জমা করেন তাঁরা।
সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত কারচুপি-সহ এস ও এসটি অ্যাট্রসিটি মামলায় গ্রেপ্তারের পরই এই অনাস্থা আনলেন তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্যরা। এই ২৪ জন সদস্যের মধ্যে কর্মাধ্যক্ষ রয়েছেন ৬ জন। পুরুলিয়া জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিকাশ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সুমিতা সিং মল্ল বলেন, "আমাদের এই অনাস্থা আনার প্রক্রিয়া বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকে চলছে। সভাধিপতির উদাসীনতা, একনায়কতন্ত্র, কোনও কিছু সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সকলের সঙ্গে আলোচনা না করা। এই কারণেই আমরা অনাস্থার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আগেই। আজ আমরা ২৪ জন জেলা পরিষদ সদস্য সেই চিঠি জমা করেছি।"
অনাস্থা প্রস্তাবের পর তৃণমূলের সদস্যরা। নিজস্ব চিত্র।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরেই পুরুলিয়া জেলা পরিষদের তৃণমূলের একাধিক সদস্য বিজেপির নেতাদের সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ শুরু করেন। নির্বাচনী প্রচারে পুরুলিয়াতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলে গিয়েছিলেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ৬ মাসের মধ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে। ফলে জেলা পরিষদ নিয়ে পুরুলিয়ায় নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় জল্পনা।
পুরুলিয়া জেলা পরিষদে মোট ৪৫ টি আসন। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী তৃণমূল কংগ্রেস পায় ৪২ টি। বিজেপি দু'টি ও কংগ্রেস একটি। তবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্য কলেন্দ্রনাথ মান্ডি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। ফলে এই জেলা পরিষদে বিজেপির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩। তবে ম্যাজিক ফিগার পাওয়ার জন্য ২৩ টি আসন পেতে হবে। যদিও অনাস্থার পক্ষে রয়েছেন তৃণমূলের ২৪ জন সদস্য। তবে ওই চিঠিতে সই করেননি জেলা পরিষদের তৃণমূলের দলনেতা স্বপন বেলথরিয়া, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ প্রতিমা সরেন,পূর্ত, কার্য ও পরিবহন স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ হংসেশ্বর মাহাতো।
