শুভদীপ রায় নন্দী, শিলিগুড়ি: চিকিৎসার গাফিলতিতে মারা গিয়েছেন মা। এই অভিযোগে ফের কাঠগড়ায় শিলিগুড়ির ফুলবাড়ির এক নার্সিংহোম। মায়ের দেহ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালের সামনেই ধরনায় বসলেন মৃতার ছেলে ও তাঁর পরিজনেরা। যদিও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ওই অভিযোগ মানতে নারাজ।
গত ২৬ অক্টোবর রাজগঞ্জের আমবাড়ি কামারভিটার বাসিন্দা দিনমণি রায় একটি স্কুটির ধাক্কায় গুরুতর জখম হন। সেদিনই ফুলবাড়ির ওই নার্সিংহোমে ভরতি করা হয় তাঁকে। ভরতির আগে পরিবারের সদস্যদের প্যাকেজের কথা জানায় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, চিকিৎসা শুরু হতেই পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়েই আইসিইউতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ওই মহিলাকে। চারদিন পর কোমায় চলে যান তিনি। এরপর এদিন সকাল আটটা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তোলেন পরিজনেরা।
মৃতার ছেলে রামগঞ্জ হাইস্কুলের শিক্ষক শংকর রায় বলেন, “আমাদের ভুল বুঝিয়ে মাকে নার্সিংহোমে ভরতি নেওয়া হয়। প্রয়োজন ছাড়াই মাথায় অস্ত্রোপচার করানো হয়। ভুল চিকিৎসায় মা মারা গিয়েছেন। আমরা বলেছিলাম পরিকাঠামো না থাকলে ভরতি নিতে হবে না। কর্তৃপক্ষ টাকার লোভে মাকে এখানে রেখে দেয়।” এই অভিযোগে মহিলার দেহ নিয়ে ধরনায় বসেন তাঁর ছেলে। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের তরফে উপযুক্ত জবাব না মেলা পর্যন্ত ধরনা চলবে বলেই জানান তাঁরা।
[আরও পড়ুন: মৃত্যুর পর দলবদল! মৃতের পরিবারকে দেওয়া সাহায্যের টাকা আটকাল বিজেপি]
নার্সিংহোমের প্রশাসক কেশব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “গাফিলতির অভিযোগ ঠিক নয়। আমরা যথাসাধ্য বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলাম। এদিন সকালে তাঁর রক্তচাপ অস্বাভাবিক হারে কমে যায়। পরিবার দেহ নিতে অস্বীকার করলে আমরা পুলিশের হাতে তুলে দেব।” শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (জোন ১, পূর্ব) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় বলেন, “পরিবারের তরফে অভিযোগ মিলেছে। ঘটনার তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।” দার্জিলিং জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রলয় আচার্য বলেন, “মাটিগাড়ার ওই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এদিনের ঘটনার এখনও কোন অভিযোগ মেলেনি।” উল্লেখ্য, এর আগে রবিবার শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসার গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। তার প্রতিবাদে নার্সিংহোমে ব্যাপক ভাঙচুরও চলে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
The post চিকিৎসার গাফিলতিতে মৃত্যু! মায়ের দেহ নিয়ে নার্সিংহোমের সামনে ধরনায় ছেলে appeared first on Sangbad Pratidin.
