বিপ্লবচন্দ্র দত্ত, কৃষ্ণনগর: এগারো বছর বয়সি এক নাবালিকাকে ধর্ষণ (Rape) এবং তার বান্ধবীর শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠল তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির শ্যালকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি না করার জন্য দুই নাবালিকার পরিবারের সদস্যদের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার ভাজনঘাট এলাকায়। যদিও দুই নাবালিকা শেষ পর্যন্ত তাঁদের পরিবারের লোকজনদের সব ঘটনা জানিয়ে দেয়। মঙ্গলবার গভীর রাতে নাবালিকার বাড়ির লোকজন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
ধৃত কান্ত হালদার, কৃষ্ণগঞ্জ থানার ভাজনঘাট ব্রিজের কাছের বাসিন্দা। ধৃত ব্যক্তি তৃণমূল পরিচালিত কৃষ্ণগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অশোক হালদারের দূরসম্পর্কের শ্যালক। পেশায় বাসের কন্ডাক্টর। ওই এলাকারই বাসিন্দা দুই নাবালিকা গত ২৪ এপ্রিল বেলা ১১টা নাগাদ দুই বান্ধবী ছাগল চরাতে যায়। অভিযোগ, সেই সময়ে কান্ত হালদার তাদের পিছন থেকে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে দেয়। টানতে টানতে বাগানের ভিতরে নিয়ে যায়। সেখানে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে। অন্য এক নাবালিকার শ্লীলতাহানি করে বলেও অভিযোগ। ঘটনা জানাজানি যাতে না হয়, তাই হুমকিও দেওয়া হয়। তারপর থেকে ওই দুই নাবালিকা আর ছাগল চরাতে যেতে রাজি হয়নি। তাতেই পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। কেন তারা ছাগল চরাতে যেতে রাজি নয়, তা জানতে চাওয়া হয়। চাপ দিলে কান্ত হালদারের কুকীর্তির খুলে বলে।
[আরও পড়ুন: তীব্র দাবদাহে এগিয়ে এল গরমের ছুটি, দিনক্ষণ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর]
এরপরই বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। দুই নাবালিকাকে নিয়ে তাদের বাড়ির লোকজন প্রথমে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে যান। কৃষ্ণগঞ্জ থানায় জানানো হয়। তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনার পর অভিযুক্ত কান্ত হালদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। ওই দুই নাবালিকাকে পুলিশের উদ্যোগে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এক নাবালিকার বাড়ির লোকজন পুলিশের কাছে ধর্ষণ এবং আরেক নাবালিকার পরিবারের শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযুক্ত কান্ত হালদারকে গ্রেপ্তার করে।
এবিষয়ে কৃষ্ণগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অশোক হালদার বলেন, “এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আরেক নাবালিকাকে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। আমার দূর সম্পর্কের শ্যালকই হোক বা যে-ই হোক, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।” বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার মহিলা মোর্চার সম্পাদিকা মনীষা বিশ্বাস দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। বুধবার অভিযুক্ত কান্ত হালদারকে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। বিচারক তাকে ১৪ দিনের জন্য জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
