এবারও কি অসম থেকে বাঘ এল বক্সায়, এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে ব্রহ্মাস্ত্র হাতে পেল বক্সা টাইগার রিজার্ভ কর্তৃপক্ষ। বক্সাতে আসা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মুখ থেকে লেজ পর্যন্ত সম্পূর্ণ শরীরের ছবি ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বক্সা টাইগার রিজার্ভের হাতে আসা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সব থেকে পরিষ্কার ও ভালো ছবি এটা বলে জানাচ্ছে বনদপ্তর। এই ছবিতে বাঘের সারা শরীরের সব ডোরাকাটা দাগের ছবি খুবই স্পষ্ট। জানা গিয়েছে, প্রত্যেকটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের গায়ের ডোরাকাটার ছবি ভিন্ন হয়। একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ডোরাকাটা দাগ আরেকটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের থেকে আলাদা হয়। ভারতের সব রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়াতে রয়েছে। আর বক্সাতে ধরা পড়া এই ছবি ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়াতে পাঠাচ্ছে বক্সা টাইগার রিজার্ভ কর্তৃপক্ষ।
বাঘের মুখ থেকে লেজ পর্যন্ত ক্যামেরায় ধরা পড়া এই ছবি দেখে ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া সহজেই এই বাঘ কোথা থেকে আসছে তা জানাতে পারবে বলে মনে করছে বক্সা টাইগার রিজার্ভ কর্তৃপক্ষ। বক্সা টাইগার রিজার্ভের পশ্চিম বিভাগের উপক্ষেত্র অধিকর্তা ডাঃ হরিকৃষ্ণন বলেন, “অত্যন্ত মূল্যবান ছবি এটি। কারণ এই ছবিতে বাঘের মুখ থেকে লেজ পর্যন্ত ছবি ধরা পড়েছে। এই ছবি দেখে এই বাঘের সব খুটিনাটি ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া খুব সহজেই বের করতে পারবে। আমরা এই ছবি ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়াতে পাঠাচ্ছি।"
বক্সা টাইগার রিজার্ভের হাতে আসা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি
জানা গিয়েছে বাঘ গণনার অঙ্গ হিসেবে বক্সাতে ২৫০ টি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সেই সব ট্র্যাপ ক্যামেরার চিপে ধরা পড়া বিভিন্ন ছবি খতিয়ে দেখছে বনদপ্তর। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ট্র্যাপ ক্যামেরার চিপ ঘেটে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের যেসব ছবি ধরা পড়েছে তার মধ্যে সেরা ছবি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা ছবি বলেও জানিয়েছে বনদপ্তর। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের পর ২০২৩ সালে বক্সাতে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি ক্যামেরাবন্দি হয়। ২০২৩ সালে ক্যামেরায় ধরা পড়া রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারটি অসমের মানস বনাঞ্চল থেকে এসেছে বলে জানতে পারে বনদপ্তর। তারপরে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি ফের একটি বিশালাকার পুরুষ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি ক্যামেরাবন্দি হয়। তাহলে এবারও কি অসমের মানস থেকে বাঘ এল বক্সাতে? সেই প্রশ্নই এখন বিভিন্ন মহলে ঘোরাফেরা করছে।
