১২ দিন আগের ঘটনা। বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল কিশোরের ঝুলন্ত দেহ। পরিবার দাবি করেছিল, সে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু আত্মহত্যার কারণ কী, তা নিয়েই ছিল রহস্য। পরিবারের দাবি, কিশোরের ফোন থেকেই সামনে আসে নেপথ্যের কারণ। তার মা বলেন, ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়েছিল ওই কিশোর! এআই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে নাকি তার মায়ের ছবি বিকৃত করে ব্ল্যাকমেল করছিল স্কুলের বন্ধুরা। এ বিষয়টি সামনে আসতেই পুলিশের দ্বারস্থ হয় পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালের মৃত স্কুলপড়ুয়ার পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৬ জুন অন্ডাল থানা এলাকায় নিজের বাড়িতেই গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয় কিশোরের দেহ। পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েকদিন ধরেই ছেলেটি অস্বাভাবিকভাবে চুপচাপ হয়ে গিয়েছিল। কারও সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলত না, সবসময় মানসিক অস্থিরতার মধ্যে থাকত। তবে ঠিক কী কারণে সে এতটা ভেঙে পড়েছিল, তা বুঝে উঠতে পারেননি পরিবারের লোকজন। প্রথমদিকে ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবেই দেখেছিল পুলিশ। সেই অনুযায়ী তদন্তও শুরু হয়।
অভিযোগ, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার মায়ের ছবি বিকৃত করা হয়েছিল। সেই ছবি দেখিয়ে এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরকে বারবার মানসিকভাবে হেনস্থা ও ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল বলে পরিবারের অভিযোগ। মায়ের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে কিশোরেরই দুই সহপাঠী। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই মানসিক নির্যাতনের কথা সে কাউকেই জানায়নি। ভিতরে ভিতরে চরম অবসাদে ভুগলেও পরিবারের কাছেও মুখ খোলেনি। শেষ পর্যন্ত সেই চাপই তার জীবনে ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনে বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর পরিবারের তরফে অন্ডাল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুই সহপাঠীর নাম ও পরিচয়ও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে মামলাটি সাইবার ক্রাইম বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। ছবি বিকৃত করা হয়েছিল কিনা সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা সেই ছবি তৈরি ও ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত ছিল এবং ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ কতটা সত্য, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
