তুষার চিতা হিমালয়ের বরফরাজ্যের দুর্লভশিকারি। ধূসর-সাদা শরীরের উপর কালো ছোপ, লম্বা লেজ মিশে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতার জন্য তাকে বলা হয় 'পর্বতের ভূত'। ভারত, নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান, মঙ্গোলিয়া, চিন-সহ মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার পার্বত্য অঞ্চলে এদের বসবাস। এ রাজ্যে একমাত্র দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্কে রয়েছে তুষার চিতা। দার্জিলিংয়ের এই তুষার চিতা পরিবারে থাবা বসাতে পারে জিনগত সমস্যা। বদলে যেতে পারে তাদের গায়ের রংও। এই আশঙ্কায় তাদের পরিবারের জন্য বিদেশি পাত্রী সন্ধান করছে দার্জিলিং চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় যে তুষারচিতা রয়েছে সেগুলি সিকিমের বংশোধর। শৈলশহর তোপকেদারায় এদের প্রজনন কেন্দ্র রয়েছে। বর্তমানে তোপকেদাড়ায় ১৩টি মতো তুষার চিতা রয়েছে। যার মধ্যে ৫টি পুরুষ ও ৮টি স্ত্রী।
পরিবারে জিনগত বৈচিত্র আনতে জাপানের সঙ্গে তুষার চিতা বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে খবর। ভারতের হিমালয় অঞ্চলের লাদাখ, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশে তুষার চিতাদের বাস। দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় যে তুষারচিতা রয়েছে সেগুলি সিকিমের বংশোধর। শৈলশহর তোপকেদারায় এদের প্রজনন কেন্দ্র রয়েছে। বর্তমানে তোপকেদাড়ায় ১৩টি মতো তুষার চিতা রয়েছে। যার মধ্যে ৫টি পুরুষ ও ৮টি স্ত্রী। সূত্রের খবর, বছরের পর বছর একই পরিবারের মধ্যে প্রজনন চলছে তাদের। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে জিনগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। জিনগত সমস্যা হলে তাদের দেহে কী ধরনের পরিবর্তন হবে তা এই মুহূর্তে বলা মুশকিল। এই ধরনের সমস্যা যাতে মাথা চাড়া দিতে না পারে তার জন্য তুষার চিতা বিনিময়ের কথাবার্তা চলছে।
অরণ্য ভবন সূত্রে খবর, এ নিয়ে জাপানের তামা জুয়ের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। জাপান একটি মহিলা তুষার চিতা পাঠাতে রাজি হয়েছে। বিনিময়ে দার্জিলিং থেকে একটি মহিলা তুষার চিতা পাঠানো হবে।
অরণ্য ভবন সূত্রে খবর, এ নিয়ে জাপানের তামা জুয়ের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। জাপান একটি মহিলা তুষার চিতা পাঠাতে রাজি হয়েছে। বিনিময়ে দার্জিলিং থেকে একটি মহিলা তুষার চিতা পাঠানো হবে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও পর্যন্ত হয়নি বলে জানা গিয়েছে। জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার এক বায়লোজিস্ট জানান, বছরের পর বছর ধরে যদি একই পরিবারে প্রজনন করা হয় সেক্ষেত্রে জিনগত সমস্যা দেখা দেবেই। ওড়িশার সিমলিপালের বাঘ্রকুল তার জলন্ত উদাহরণ। সেখানে রয়্যাল বেঙ্গলের সেই রাজকীয় রূপ হারিয়ে গিয়েছে। চিড়িয়াখানা বা প্রজনন কেন্দ্রগুলিতে এই সমস্যা আরও দ্রুত দেখা যায়। তাই জিনগত বৈচিত্র নিয়ে আসা জরুরি।
